৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ

শামীম ওসমানকে আর ‘ভয়’ পাচ্ছেন না নেতারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৫ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৭ শনিবার | আপডেট: ১০:০১ পিএম, ৯ জুলাই ২০১৭ রবিবার


শামীম ওসমানকে আর ‘ভয়’ পাচ্ছেন না নেতারা

এক সময়ে এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজনেরা এখন আর তাঁকে ভয় পেয়ে কথা বলছেন না। ঘনিষ্ট নেতারাই কথা বলতে শুরু করেছেন এ প্রভাবশালী এমপির বিরুদ্ধে। আর এতে করে দলের চেইন অব কমান্ড যেমন ভাঙছে তেমনি সাংগঠনিক বিরোধীতা হচ্ছে নেতায় নেতায়। এতে করে দলের ভেতরে ও বাইরে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমালোচনা ও আলোচনা। তবে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে এভাবে এক সময়ের ঘনিষ্টজনদের মুখ খোলার বিষয়টি এখন টক অব দ্যা নারায়ণগঞ্জে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠন নিয়েই মূলত এক সময়ের ঘনিষ্ট নেতাদের সঙ্গে শামীম ওসমানের দ্বৈরথ সৃষ্টি হয়। ২৮ মে নাজমা আক্তার ও অধ্যাপিকা অপু উকিল স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কমিটির অনুমোদন দেন। ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ইয়াসমিন চৌধুরী লিন্ডাকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দা ফেরদৌসি আলম নীলা, সাবিরা সুলতানা নীলা, নিলুফার ইয়াসমিন, ফারিয়া আক্তার হেলেনা ও হাসিনা বেগমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। সেই সঙ্গে ৩০ মে নুরুন্নাহার সন্ধাকে আহ্বায়ক করে এবং সালমা আক্তার শারমীন আক্তার ডলি, মায়ানূূর মায়া, চায়না আক্তার ও রুম্পা আক্তারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন নাজমা আক্তার ও অপু উকিল। নির্দেশনা ছিল এ কমিটি প্রতিটি ইউনিট কমিটি গঠন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে। গত মে ৩০ আরেকটি করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কমিটি ঘোষণা করে দেন নাজমা আক্তার ও অপু উকিল। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে জেলা পরিষদের সদস্য সাদিয়া আফরিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে শারমিন আক্তার মেঘলা ও আসমা আক্তারকে। মহানগর কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট সুইটি ইয়াসমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক মুনিরা সুলতানাকে। এছাড়াও জানাগেছে, মহানগর যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠনের বিষয়ে সুপারিশ ছিল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার। আর জেলা কমিটির জন্য সুপারিশ ছিল সভাপতি আবদুল হাই ও সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদলের।

শুক্রবার ৭ জুলাই বিকেলে শহরের দুই নং রেল গেটস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের সভায় বক্তারা জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ইয়াসমিন চৌধুরী লিন্ডা, নূর নাহার সন্ধ্যা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে কলংকের তিলক লেপনের চেষ্টা করছে। এগুলো সহ্য করা হবে না। শামীম ওসমান বললেই আমরা সরে যাবো এটা আর হবে না। এখন আমাদের রাজনৈতিক জীবনের একটি অন্তিম মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী অবিবেচক না। তিনিই হয়তো এক সময়ে এগুলো সমাধান করবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই জানান, ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ইয়াসমিন চৌধুরী লিন্ডাকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দা ফেরদৌসি আলম নীলা, সাবিরা সুলতানা নীলা, নিলুফার ইয়াসমিন, ফারিয়া আক্তার হেলেনা ও হাসিনা বেগমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এখানে আমার ও সেক্রেটারীর সুপারিশ আছে। সেটা পরে কেন্দ্র অনুমোদন দিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী হিসেবে আমাদের সুপারিশের কমিটিই অনুমোদনের পর বৈধ হয়। আর ওই কমিটি ঘোষণার পর সেটা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু হুট করে নতুন করে কমিটি গঠন আমাদের যেমন বোধগম্য না তেমনি এটা সাংগঠনিক বহির্ভূত ও পরিপন্থী। তাছাড়া এক সঙ্গে তো দুই কমিটি চলতে থাকতে পারে না।
 
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, যুব মহিলা লীগের কমিটি নিয়ে শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপ করাটা ঠিক হয় নাই।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা জানান, আমরা যুব মহিলা লীগের মহানগর কমিটির ব্যাপারে সুপারিশ করেছিলাম। সেটা অনুমোদন হয়েছে। পরে আর কোন কমিটি দেওয়ার খবর আমরা জানি না কিংবা জানানো হয়নি।

জেলা পরিষদের সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার মালা বলেন, লিন্ডা ও সন্ধ্যার টাকা নাই কিন্তু ওরা সত্যিকার অর্থেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। দলের দুঃসময়ে ওরা মিছিল করে মিটিং করে কারাভোগ করেছিল। কিন্তু এখন তাদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে উল্টো চরিত্রের উপর কলংক লেপন করা হচ্ছে যা দুঃখজনক। অথচ তারাই কিন্তু শামীম ওসমানের রাজনীতি করেছে এক সময়ে। তারপরও শামীম ভাইয়ের মনের মত না হলেই সে ছেলে হলে রাজাকার আর মেয়ে হলে চরিত্র খারাপ হয়ে যায়।

জেলা যুব মহিলা লীগের আহবায়ক ইয়াসমিন চৌধুরী লিন্ডা বলেছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এমপি নাজমা আক্তার জানিয়েছেন শামীম ওসমানের নির্দেশেই নতুন করে জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটি দেয়া হয়েছে। এ কমিটি অবৈধ। আমার কমিটিই বৈধ। নতুন কমিটি সম্পুর্ন অগনতান্ত্রিক ও দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী। যুব মহিলা লীগের ওপর শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপ হাস্যকর, অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। আমি কারও অনুসারী না, বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করি। নৌকার জন্য কাজ করি। স্বার্থের রাজনীতি করিনা।

মহানগর যুব মহিলা লীগের আহবায়ক নুরুন্নাহার সন্ধ্যা বলেন, শামীম ওসমান কারসাজি করে আমাদের কমিটি থাকতে আরেকটি কমিটি এনেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আমাকে চায়না। নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের নির্দেশ ছাড়া কেউ রাজনীতি করতে পারবেনা। তাই উনার নির্দেশে এই নতুন কমিটি।  তাই দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি তাঁর কমিটি ১০০% বৈধ।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ