৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭ , ১:৩৯ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সদস্য সংগ্রহের নামে ভুয়া কর্মসূচি!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৪৪ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৭ সোমবার


নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সদস্য সংগ্রহের নামে ভুয়া কর্মসূচি!

বিএনপির নতুন কর্মী সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির নামে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ভুয়া কর্মসূচি চলছে। কর্মী সংগ্রহের নামে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুধুমাত্র নেতাদের বক্তব্য আর আগামী নির্বাচনী টার্গেট ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। এমনি দশা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে। কর্মী সংগ্রহের নামে এ পর্যন্ত বেশ কটি কর্মসূচি হলেও ২০জন নতুন কর্মীর তালিকা বিএনপি দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে বেশ সন্দেহ রয়েছে। কারণ কর্মী সংগ্রহের লক্ষ্যে যেই কাজ সেই কাজটি বিএনপি এখানে করতেই পারেনি। এছাড়াও হয়েছে মারামারি দলাদলি কাদা ছোড়াছুড়ি একে অপরকে ঠেকানোর ঘোষণা। কেউ কেউ হুমকি ধমকি দিয়ে আলোচনাও এসেছেন। কেউ কেউ বলেছেন একজন আরেকজনকে বাঁচাতে এসেছেন। কার্যত কর্মী সংগ্রহ নারায়ণগঞ্জে হয়নি।
 
মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ভন্ডামীর রাজনীতি থেকে বের হতে পারছেনা। নারায়ণগঞ্জে নিয়মিত চলছে কর্মী সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আওতাধীন প্রতিটি থানা এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। সেই সঙ্গে  মহানগর বিএনপির উদ্যোগেও এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা ও মহানগর বিএনপির বাহিরে গিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনও বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করছেন। অন্যান্য থানা এলাকায়ও নিজ নিজ বলয় নিয়ে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত তারাও কর্মী সংগ্রহের এ কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে আসলেই কর্মী সংগ্রহ করা হচ্ছে নাকি ভন্ডামী।
 
নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে দেখা গেছে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ঝাঝালো বক্তব্য। তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় আগামী সপ্তাহে আওয়ামীলীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে পরের সপ্তাহে বিএনপি ক্ষমতায় এসে গেছে। আর নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা উপস্থিত থাকছেন তারা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন জড়িত এবং দলীয় পদ পদবী বহনকারী নেতাকর্মী। কিন্তু নতুন কর্মী সংগ্রহের যে উদ্যোগ সেটা কার্যত হচ্ছেনা।

নতুন কর্মী সংগ্রহের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের বিভিন্ন ছাত্র, যুবক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনকে দাওয়াত করতে হবে। তাদের বিএনপিতে যোগদানে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। আসলে সেটা হয়নি। সব কর্মসূচিতেই দেখা গেল শীর্ষ নেতাদের বিশাল বিশাল আকারের বক্তব্য। বক্তব্য শেষে একজন ব্যক্তির হাতে দলীয় সদস্য ফরম তুলে দিয়ে ফটোসেশন। আর ফটোসেশন শেষে কর্মসূচি শেষ।

মূলত এভাবেই বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। আর নবায়ন সেটাও হচ্ছেনা। মনে হচ্ছে কর্মী অটোমেটিক দলে নবায়ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিএনপি একটা ফালতু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে অনেকের মন্তব্য। আর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ভন্ডামীর নামে করছে ভুয়া কর্মসূচি পালন।
 
তবে অনেকেই মনে করছেন কর্মী সংগ্রহ করা না হলেও বিএনপিকে চাঙ্গা করার একটা কৌশলও হতে পারে। এ কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এক নেতা আরেক নেতাকে কটুক্তি করে বক্তব্য দিচ্ছেন। তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় কর্মসূচিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি হুমকি দিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টু। এরপর মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ ও মহানগর বিএনপিরর সভাপতি আবুল কালামের নামে শ্লোগানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে গেছে।

এছাড়াও এ কর্মসূচিকে কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন লড়াইকে সামনে রেখে একজন আরেকজনকে লক্ষ্যে রেখে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের উস্কানী দিচ্ছেন এক নেতা আরেক নেতার দিকে। এছাড়াও বিএনপি নেতা সেন্টুর বক্তব্যকে নিয়ে পাল্টা বক্তব্য শুরু হয় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহআলম ও তার লোকজনদের মধ্যেও। এছাড়াও সেন্টুর বক্তব্যের বিরোধীতা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মহানগর বিএনপির সংঘর্ষের বিষয়ে নজরুল ইসলাম আজাদকে দোষারোপ করায় টিপুর বিরুদ্ধে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নানা মন্তব্য করে যাচ্ছেন। বন্দরে সাখাওয়াত হোসেন খান সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে হামলাও হয় যে অভিযোগ উঠে সাবেক এমপি আবুল কালামের বিরুদ্ধে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ