৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:১৯ অপরাহ্ণ

নূর হোসেনের সঙ্গে ফাঁসির দড়িতে বিএনপি!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৮ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার


নূর হোসেনের সঙ্গে ফাঁসির দড়িতে বিএনপি!

কথিত রয়েছে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শ্রমিক সমাবেশে মঞ্চ প্যান্ডেলের জন্য ৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন ৭খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেন যিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপিকে নূর হোসেন দিয়েছিল আলিশান কার্যালয় যার ভাড়া দিতেন নূর হোসেন।

তবে কাঁচপুরের সমাবেশে নুর হোসেন ৫ লাখ টাকা দিয়েছিল সেটা গুঞ্জন থাকলেও থানা বিএনপিকে বিশাল কার্যালয় করে দিয়েছিলেন নূর হোসেন সেটা নিশ্চিত করেছেন খোদ দলের কয়েকজন নেতা। বর্তমানে বিএনপির সেই কার্যালয়টি এখন আর নেই। সিদ্ধিরগঞ্জে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি মাদক বিক্রি সহ হাজারো অপকর্ম করলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছিলেন চুপ। অধিকাংশ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ছিল দহরমমহরম সম্পর্ক। কারো সঙ্গে ছিল লেনদেনের সম্পর্ক।

জানা গেছে, ২২ আগস্ট মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগ নূর হোসন সহ ১৫ জনের ফাঁসির দন্ডবহাল রেখেছেন। এর আগে নিম্ন আদালতে সাত খুন মামলায় নূর হোসেন ও তার সহযোগি সহ ২৬ জনের মৃত্যুদন্ড দেন আদালত।

এক সময় নূর হোসেন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অন্যতম হর্তাকর্তা। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করেন অপরাধী নূর হোসেনের সঙ্গে ফাঁসির দড়িতে এখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপিও। কারণ সরকারি দলের নেতারা অপকর্ম করলে সে সব অপকর্ম জনগনের মাঝে তুলে ধরার দায়িত্ব পরে বিরোধী দলের উপর। কিন্তু বিরোধী দলের দায়িত্বে থাকার সময়ও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারা নূর হোসেনের অন্যায় অপরাধ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসা দখলবাজির বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি। উল্টো সেই নূর হোসেনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

নূর হোসেনের যখন নারায়ণগঞ্জে প্রভাব ও প্রতাপ সেই সময় সোনারগাঁয়ের কাচপুরে শ্রমিক সমাবেশ করে বিএনপি যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ওই সময় গুঞ্জন ওঠেছিল নূর হোসেন ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও প্যান্ডেলের খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা দিয়েছিল। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা সেই টাকা গ্রহণ করেছিল। এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ নেতারা ছিলেন নূর হোসেনের অনুগত।

নূর হোসেনের আপন ভাই মিয়া মোহাম্মদ নূরউদ্দীনকে করানো হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। নূর হোসেনের গানম্যান আনোয়ার হোসেন আশিককে করা হয়েছিল মহানগর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক। এ আশিক সাত খুন মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন। নূর হোসেনের বেবিস্ট্যান্ড থেকে চাঁদা সংগ্রাহক টিএইচ তোফাকে করা হয়েছিল জেলা তরুন দলের সভাপতি। চুরির মামলায় সে মুক্তি পেলে তোফাকে বিশাল সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল বিএনপি থেকে।

মূলত সিদ্ধিরগঞ্জে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীনের সঙ্গে নূর হোসেনের ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল এবং সেই বিরোধের কারণে গিয়াসউদ্দীনকে ঠেকাতে গিয়াস বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলায় নূর হোসেন। যাতে গিয়াস মনোনয়ন না পায় সে লক্ষ্যে বিএনপির সঙ্গে হাত মিলায় নূর হোসেন এবং গিয়াসের সঙ্গে বিরোধকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা নেয় বিএনপির কিছু নেতা।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটিতে নূর হোসেনের লোকজনকে প্রতিষ্ঠিত করায় নুর হোসেন থানা বিএনপিকে শিমরাইল এলাকায় বিশাল আলিশান বিএনপিকে কার্যালয় করে দেন। যে কার্যালয়ের ভাড়া দিতো নূর হোসেন। সাত খুনের পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে গেলে বিএনপি কার্যালয়ের ভাড়া আটকে যায়। পরে বিএনপি কার্যালয়টি এখন আর নেই। অনত্র ভাড়া দিয়েছেন ভবন মালিক। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি যখন সোনারগা আসনের যুক্ত ছিল তখন সাবেক এমপি রেজাউল করিমকেও দেখা গেছে নূর হোসেনের বাসায় পারিবারিক অনুষ্ঠানে।

পরে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি ফতুল্লায় যুক্ত করলে একজন বিএনপির শিল্পপতি নেতা নূর হোসেনের ভাই মিয়া মোহাম্মদ নূরউদ্দীনকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেন। যাতে গিয়াসকে ঠেকানো যায়। গিয়াসকে ঠেকাতে নূর হোসেনের সঙ্গে হাত মিলায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি নেতা আবার গিয়াসকে ঠেকাতেই নূর হোসেন বিএনপির সঙ্গে হাত মিলায়। বিএনপির চারদিকে এমনভাবে জড়িয়েছিল নূর হোসেন যে কারণে সাধারণ মানুষ বলেছেন, এখন নূর হোসেনের সঙ্গে ফাঁসির দড়িতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। কারন নারায়ণগঞ্জ বিএনপিও এখন জনগনের কাছে ফাঁসির দড়িতে রয়েছে। কারন বিএনপিও খুনি সন্ত্রাস চাঁদাবাজ নূর হোসেন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ