৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭ , ১:৪০ অপরাহ্ণ

বিএনপি নেতার পরিবার

স্বামী হজে স্ত্রী কারাগারে সন্তান হাসপাতালে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:২৩ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:৩৩ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার


স্বামী হজে স্ত্রী কারাগারে সন্তান হাসপাতালে

পবিত্র হজ পালনে স্বামী রয়েছেন সৌদি আরবে ও স্ত্রী রয়েছেন কারাগারে এবং একমাত্র সন্তান রয়েছেন হাসপাতালে। এমনি একটি পরিবার প্রবীণ বিএনপি নেতা জামালউদ্দীন কালুর। স্ত্রী যখন কারাগারে পালন করবেন ঈদ তখন একমাত্র সন্তান পা ভাঙা অবস্থায় হাসপাতালে।

কিন্তু এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী নারায়ণগঞ্জ ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পরে পা ভেঙেছে মহানগর ছাত্রদল নেতা রাফিউদ্দীন রিয়াদের। পুলিশ গ্রেফতার করে রিয়াদের মা রাশিদা জামালকে পাঠিয়েছে কারাগারে। ওইদিকে স্বামী জামালউদ্দীন কালু পবিত্র হজব্রত। জেলার শীর্ষ নেতারা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ঘুরেন প্রকাশ্যে। বড় বড় নেতারা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে জামিন পান। কিন্তু অসুস্থ মহিলা দল নেত্রী রাশিদা জামালের জামিনের ব্যবস্থা করা হলো না!

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখে আসছেন প্রবীণ বিএনপি নেতা জামালউদ্দীন কালু পরিবার। শহর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা প্রবীন বিএনপি নেতা জামালউদ্দীন কালু ও তার স্ত্রী রাশিদা জামাল নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের আহ্বায়ক। তাদের একমাত্র সন্তান রাফিদউদ্দীন রিয়াদ মহানগর ছাত্রদল নেতা। রিয়াদের বিরুদ্ধে এতগুলো মামলা হয়েছে তাকে বছরের অর্ধেক সময় কারাগারেই কাটাতে হচ্ছে। জামালউদ্দীন বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। বৃদ্ধ বয়সে এখনও লাঠি হাতে দলের সভা সমাবেশে ঝাঝালো বক্তব্য রাখেন। কখনও একটু সুস্থ হলে কালু রাজপথে নেমে পড়েন মিছিলে। এ তিনজন বিএনপি কর্মীর দলের প্রতি ব্যাপক ত্যাগ রয়েছে। কিন্তু সেই রাশিদা জামাল যখন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে তখন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। রাশিদা জামালও শারীরিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু রাশিদা জামালকে দেখতে আদালতে গিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। কিন্তু তার জামিনের জন্য জোরালো চেষ্টা করা হয়নি।

জানা গেছে, সম্প্রতি দেওভোগ এলাকায় কালুর বাসায় পুলিশ হানা দেয়। ওই সময় পুলিশের গ্রেফতারি এড়াতে ছাদ থেকে লাফিয়ে পরে রাফিউদ্দীন রিয়াদ। এতে তার পা ভেঙ্গে যায়। লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। এখনও রিয়াদ হাসপাতালের বেডে রয়েছেন। এ ঘটনার তিন দিনের মাথায় রাশিদা জামালকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত রাশিদা জামালকে কারাগারে পাঠান। যদিও বৃহস্পতিবার একটি ননসিডিউল মামলায় রাশিদা জামাল জামিন পেয়েছেন। সিডিউল মামলায় রাশিদা জামালের ঈদ এবার কারাগারে। এটুকুর জন্য একমাত্র তৈমুর আলম খন্দকারকেই দেখা গেছে। যদিও একই মামলায় তৈমূর আলম খন্দকার নিজেও পরোয়ানা ভুক্ত আসামী। তৈমূর আলম আদালতপাড়ায় আইনপেশায় রয়েছেন নিয়মিত। রাশিদা জামালের জামিনের বিষয়ে তৈমূরই চেষ্টা করেছেন ক্ষীণ।

রাশিদা জামাল গ্রেফতার হওয়ার পর শুধুমাত্র বিবৃতি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। আর জেলা বিএনপি বিবৃতি দিতেও কার্পন্য করেছে। জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা এমন একটি পরিবারের প্রতি অবেহলা দেখিয়েছে। একটু জোরালো চেষ্টা করলে রাশিদা জামালের জামিনের ব্যবস্থাটাও হতো বলে অনেকের দাবি। এমনকি জোরালো কোন প্রতিবাদও করেনি জেলা ও মহানগর বিএনপি। একটি প্রতিবাদ সভা করার জন্য উদারতা দেখায়নি তারা। এই কারনে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা দিন দিন দল ত্যাগ করছেন। যোগ দিচ্ছেন জাতীয়পার্টি ও আওয়ামীলীগে। কারন বিএনপিতে ত্যাগ নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন ও সম্মান করা হয়নি। বিপদগ্রস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাড়ানোর মত শীর্ষ নেতাদের মন মানসিকতা নেই। জেলার শীর্ষ অনেক নেতারা আদালতে জামিন আবেদন করেন জামিন পান আর শোডাউন করেন। কিন্তু মধ্যম সারির ত্যাগী নেতাকর্মীদের রক্ষাণাবেক্ষন করার নেতা নারায়ণগঞ্জে নেই। মূলত এর আগে তৈমূর আলম খন্দকার যখন জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন তখন তৈমুর আলমের নেতৃত্বে রাজপথে ছিলেন কালু পরিবার। যে কারনে বর্তমান জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা এমন একটি দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের পাশে নেই।

এদিকে রাশিদা জামাল গ্রেপ্তারের পর থানা থেকে শুরু করে কারাগার পর্যন্ত তৈমূর আলম খন্দকার, মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সহ অন্যদের দেখা গেছে। আদালতে মামলার আইনী লড়াইয়েও দেখা যায় তাদেরকে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ