১ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

থানার শীর্ষ নেতাদের অনীহাতেই আটকে জেলা আ.লীগের কমিটি পুনর্গঠন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৯ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০৭:৫৩ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার


থানার শীর্ষ নেতাদের অনীহাতেই আটকে জেলা আ.লীগের কমিটি পুনর্গঠন

প্রায় এক বছর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ প্রায় এক বছরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগ। আর জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি পুর্নগঠনে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে এক ডজন বয়সের ভারে ন্যুজ নেতা। যারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে থানা কমিটিগুলোর পদ আকড়ে ধরে রয়েছেন। ওইসকল নেতারা চাচ্ছেন না কমিটি পুর্নগঠন হোক। আর তাদের কলকাঠিতেই ত্রিধাবিভক্ত জেলা আওয়ামীলীগ।

দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ ১৪ বছর পরে গত বছরের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সেক্রেটারী ও সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ সভাপতি করে জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১ বছরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি।

দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ২০০২ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। সাবেক এমপি এস এম আকরামকে আহবায়ক ও মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। এরপর তাদের নেতৃত্বে ২০০৪ সালে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানায় সম্মেলনের কমিটি গঠন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে শাহাবুদ্দিন মন্ডল ও সেক্রেটারী পদে আল মামুন নির্বাচিত হন। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগে সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল ও সেক্রেটারী শওকত আলী নির্বাচিত হন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে মজিবুর রহমান ও সেক্রেটারী হাজী ইয়াসিন নির্বাচিত হন। বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ ও সেক্রেটারী খুরশীদ আলম সাগর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে খুরশীদ আলম সাগরকে বাদ দিয়ে আবেদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী করা হয়েছিল। বর্তমানে সোনারগাঁয়ে থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী দু’জনেই ভারপ্রাপ্ত। সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম ভূইয়া ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম রয়েছেন। রূপগঞ্জে থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা ও সেক্রেটারী পদে রয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া। আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে শাহজালাল মিয়া ও সেক্রেটারী পদে অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ মনোনীত হন।

তবে এরপর আর আওয়ামীলীগের জেলা কিংবা থানা পর্যায়ের সম্মেলন হয়নি। ওই সকল নেতারাই জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছেন শীর্ষ পদে। আর ওই সকল বয়সের ভারে ন্যুজ প্রবীন নেতারা কেউই তাদের স্বীয় পদ ছাড়তে রাজী নন বলে জানা গেছে। তৃনমূলের নেতাকর্মীরা জানান, বিভিন্ন থানা ও উপজেলা পর্যায়ে যারা সভাপতি ও সেক্রেটারী পদে আসীন রয়েছেন তারাই মূলত এমপির পরে দন্ডমুন্ডের কর্তা। উপজেলা ও থানা পর্যায়ের বিভিন্ন সেক্টর রয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রনে। বর্তমানে যেহেতু আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এ কারণে তাদের অনেকেই চাচ্ছেন না জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি পুর্নগঠন হোক। কারণ এখন জেলা উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কমিটিগুলো পুর্নগঠন হলে ওই সকল বয়সের ভারে ন্যুজ প্রবীন নেতারা স্বীয় পদ হারাতে পারেন। আর পদ না থাকলে তাদের মূল্যায়ন কমে যাবে এবং বিভিন্ন সেক্টর হাতছাড়া হবে এ কারণে তাদের অনেকেই পদ ছাড়তে রাজী নন বলে অভিমত দলটির নেতাকর্মীদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্ন্তকোন্দলের কারণে সহসাই জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না। থানার নেতারা শুরুতে আগ্রহ দেখালেও এখন আর তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তারা স্ব স্ব পদ ছাড়তে চান না। আর সে কারণেই এখনই থানা কমিটিও ভেঙ্গে দেয়া কিংবা পুনর্গঠন করা হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যত কমিটি গঠনের ব্যাপারে লবিং গ্রুপিং শুরু করেছেন পদ প্রত্যাশীরা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ