৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭ , ১:৪৩ অপরাহ্ণ

শামীম ওসমান ঠেকাতে বিকল্প প্রার্থীতায় ব্যর্থ


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫১ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:০৫ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার


শামীম ওসমান ঠেকাতে বিকল্প প্রার্থীতায় ব্যর্থ

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কখনো কখনো এমপি শামীম ওসমানের প্রভাব কমিয়ে আনার লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করা হলেও নির্বাচনে বিকল্প প্রার্থী তৈরি করতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে প্রতিপক্ষরা। আর সে কারণেই নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থীদের ছড়াছড়ি থাকলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ তথা সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা আসনে শামীম ওসমান ছাড়া বিকল্প প্রার্থীর ক্ষেত্রে কেউ শক্ত অবস্থান করতে পারেনি। এখন অবধি এ আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের অবস্থানসম্পন্ন কোন নেতার হাকডাক নেই।

সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন নিয়ে নানা তথ্য। ওই প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটির মর্যাদা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আগামীতে এখানেও শামীম ওসমানের মনোনয়ন প্রয়োজন। কারণ বিগত সময়ে উড়িয়ে এনে সারাহ বেগম কবরীর মত অভিনেত্রীকে এমপি করা হলেও তার নেতিবাচক কর্মকান্ড ও সাংগঠনিক নীতি পরিপন্থী কাজের কারণে আওয়ামী লীগে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যার প্রভাব ছিল দীর্ঘদিনের। তাছাড়া আগামীতে এখানে বিএনপির প্রার্থীকে বধ করতে হলেও প্রয়োজন দৃঢ়চেতার কোন প্রার্থী যেটার প্রতিফলন রয়েছে শামীম ওসমানের মধ্যে।

ওই বিশেষ সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূলত চারটি পৃথক পন্থায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা তৈরি করে তাদের ব্যাপারে বিশদ খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপিদের অবস্থা, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অবস্থান ও বিগত দিনের কর্মকান্ড, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পরিস্থিতি ও বিএনপির কোন কোন প্রার্থী ফ্যাক্টর হতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে।

ওই কর্মকর্তা ও তাদের কয়েকজন মূলত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপারে ডাটাবেজ তৈরি করেছেন। এটা এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ তথ্যাবলী সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌছানো হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমান দেশের বাইরে থাকায় সারাহ বেগম কবরীকে এনে এমপি করা হয়। তখন শামীম ওসমানের লোাকজনই আওয়ামী লীগের সবাই তার পক্ষে কাজ করেছিল। কিন্তু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কবরীর কর্মকান্ড বেশ নেতিবাচক হয়ে উঠে। রাজধানীর শ্যামপুর থেকে সেন্টু নামের সন্ত্রাসীকে পিএস বানানোর পাশাপাশি ফতুল্লার তালিকাভুক্ত ও আওয়ামী লীগের নামধারী সন্ত্রাসীদের আশেপাশে রেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গেও বিমাতাসুলভ আচরণ করে। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী শওকত আলীকে গ্রেপ্তারও করায় কবরী। বিরোধে জড়ায় শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের সঙ্গেও। এসব কারণে আওয়ামী লীগের ভেতরে তৈরি হয় অসন্তোষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কবরীর রাজনীতি আওয়ামী লীগের ভেতরে ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে একটি ‘উদহারণ’ হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটিতে রাজনীতিবিদদের প্রাধান্য প্রয়োজন। এখানে কাউকে উড়িয়ে এনে আর নির্বাচন করানোটা সঠিক কাজ হবে না। সে কারণে এখানে আপাতত শামীম ওসমান ছাড়া বিকল্প রাজনীতিক গড়ে উঠেনি।

‘আওয়ামী লীগের ভেতরে অনেক গ্রুপিং থাকলে সেটা মূলত নারায়ণগঞ্জ শহর কেন্দ্রীক ও বিভিন্ন আসন কেন্দ্রীকও ছড়িয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনগুলো শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রনে। এখানকার আওয়ামী লীগে নেই কোন বিভাজন। যেহেতু আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনগুলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে একতাবদ্ধ সেহেতু এখানে শামীম ওসমান বেস্ট প্রার্থী।’

শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম কখনো শোনা গেলেও রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় তিনি অনেকটাই পিছিয়ে। মনোনয়ন প্রত্যাশী শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ এখনই এমপি হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা বলা হয় রিপোর্টে। কারণ হিসেবে বলা হয়, শ্রমিক রাজনীতির কারছে এক শ্রেণির শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রক তিনি। কিন্তু আপমর জনতার লোক হয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে আলীগঞ্জ ও পাগলা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এমপি হওয়ার যথার্থ অবস্থান গড়তে পারেনি তিনি। ফলে এখনই এমপি মনোনয়ন কিংবা এ ধরনের বড় উচ্চাকাংখাও তাকে ধরা দিচ্ছে না।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ