৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৩:০১ পূর্বাহ্ণ

শামীম ওসমান ও আইভী ছাড়া তৃতীয় শক্তি হবে না


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৭ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৮:৩৫ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


শামীম ওসমান ও আইভী ছাড়া তৃতীয় শক্তি হবে না

নারায়ণগঞ্জ শহরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতাদের নাম বলতে গেলে উঠে আসে শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভী। পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখেই নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব এ দুই নেতার। তাঁদের বাবারাও ছিলেন প্রতাপশালী প্রভাবশালী। তাদের মধ্যকার সেই দ্বৈরথ বিরোধ এখনো রয়েছে দুইজনের মধ্যে। যদিও গত বছরের ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার ‘ভাই বোন’ সম্পর্কের রেশ এখনো রয়ে গেছে অটুট।

নির্বাচনে আগে শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার দৃশ্যমান ও অভ্যন্তরীণ বৈরিতার অবসান এখনো দৃশ্যমান। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিদের উপর যে দুইজনের প্রভাব রয়েছে সেটাও প্রমাণিত হচ্ছে। আর শামীম ওসমান ও আইভী ছাড়া তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার ফলাফল যে শূণ্য সেটাও প্রমাণিত হয়েছে রোববার ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া জেলা পরিষদের নির্বাচনের ভোটে।

কারণ রোববার জেলা পরিষদের ২নং ওয়ার্ডে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের প্রার্থী ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আহসান হাবিব। এ নির্বাচনে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিজয়ী হন আইভীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি পেয়েছেন ৯ ভোট। আর ৪ ভোট পেয়েছেন আইনজীবী শরীফ হোসেন যিনি মূলত জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদলের অনুসারী। আহসান হাবিবের ঝুড়িতে পড়েনি একটি ভোটও। আর বাদল হলেন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট বন্ধু।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক যুক্তিতে এ নির্বাচনে আইভী পন্থীর বিজয় হয়েছে। আর শামীম ওসমান সরাসরি এ নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামায়নি। সে কারণে তাদের কোন প্রার্থী ছিল বলেও প্রচার হয়নি। কিন্তু আহসান হাবিব ছিলেন আনোয়ার হোসেনের প্রার্থী এমনটাই সত্য। শেষতক এখানে তৃতীয় বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার যে প্রক্রিয়া ছিল আনোয়ার হোসেনদের তারা হালে পানি পায়নি।

এ নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমান ও আইভী ছাড়া বিকল্প শক্তি গড়তে সহায়ক কেউ নেই। কারণ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন যদি আইভীকে ম্যানেজ করতে পারতো তাহলে হয়তো আহসান হাবিবের জয় সহজ ছিল। তাছাড়া শামীম ওসমানকে ম্যানেজ করতে পারলেও জিতে যেতে পারতো আহসান হাবিব। কারণ অনেক কাউন্সিলরই শামীম ওসমানের অনুগামী ছিলেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনকে ঘিরে আমূল পরিবর্তন আসে। এক হয়ে যান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও এমপি শামীম ওসমান বলয়। দুইজনের মতামতে পরে আসে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এর মধ্যে গত বছর সিটি করপোরশেন নির্বাচনকে ঘিরে আনোয়ার হোসেনকে মেয়র প্রার্থী করা নিয়ে মাঠে নামেন শামীম ওসমান।

সম্প্রতি মহানগর ও জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠন নিয়ে কিছুটা মনোমালিন্য দেখা যায় আনোয়ার হোসেন ও শামীম ওসমানের মধ্যে যারা একে অন্যকে ‘গুরু শিষ্য’ ডাকেন। গত ১২ আগস্ট শামীম ওসমান শহরে শোক র‌্যালির ডাক দিলে সেখানে আনোয়ার হোসেন উপস্থিত না হলেও ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব। যদিও র‌্যালির দুইদিন আগে আনোয়ার হোসেনের বাসায় যান শামীম ওসমান পন্থী মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা। কিন্তু তার পরেও আনোয়ার হোসেন র‌্যালিতে আসেনি। এর মধ্যে এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটির সঙ্গে সভায় আনোয়ার হোসেনকে বেশ হাস্যোজ্জল দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানান, আনোয়ার হোসেনরা চেয়েছিলেন বিকল্প কোন জোট করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করবেন। কিন্তু জেলা পরিষদের নির্বাচনে সেটা ভেস্তে গেছে।

এর আগেই আইভী গত বছরের বাজেট অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেনকে বেঈমান হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আর গত ১২ আগস্ট বঙ্গবন্ধু স্মরণে শামীম ওসমানের ডাকা শোক র‌্যালিতে বার বার অনুরোধ ও বাসায় নেতা পাঠানোর পরেই হাজির হননি আনোয়ার হোসেন যা নিয়ে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতা জানান, রোববার জেলা পরিষদ নির্বাচনে একটি ভোটও পাননি আহসান। অথচ এর আগে যখন ভোট হওয়ার কথা ছিল তখন শরীফ মনোনয়ন পত্র কিনলেও সেটা উহ্য করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। আর আনোয়ার হোসেন যে শামীম ওসমান ও আইভী দুই বলয়ের সঙ্গে বিদ্রোহ করেছেন তার কড়া শাস্তি হিসেবে পায়নি প্রার্থী আহসান হাবিব কোন ভোট।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ