১ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

টাকার বিনিময়ে শাহআলমকে প্রার্থী ঘোষণা বন্দনা! বাস্তবতা ভিন্ন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩০ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৮:৩৪ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


টাকার বিনিময়ে শাহআলমকে প্রার্থী ঘোষণা বন্দনা! বাস্তবতা ভিন্ন

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে বেশ আলোচিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দুইজন নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও রুহুল কবির রিজভী আহম্মেদ। প্রথমজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দ্বিতীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পপতি শাহআলমের বাসায় এসে গেলেন এ দুজন নেতা। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এদিকে শুক্রবার এসে গেলেন রুহুল কবির রিজভী। গয়েশ্বর বলে গেছেন শাহআলমের মনোনয়নের বিষয়টি তিনি দেখবেন। আর এ বক্তব্যকেই শাহআলম পন্থীরা ছড়িয়েছেন শাহআলমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন গয়েশ্বর!

শুক্রবার রুহুল কবির রিজভী বললেন, শাহআলম বিএনপিকে দিয়েছেন কিছু নেয়নি। রিজভীর বক্তব্যে নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে বিএনপিকে কি কি দিয়েছেন শাহআলম?

তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবী, কেন্দ্রীয় নেতাদের এ ধরনের শাহআলম বন্দনার পেছনে মোটা অংকের টাকার লেনদেন থাকতে পারে। কারণ মাঠের বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

নেতাকর্মীদের দাবি, আপাতদৃষ্টিতে শিল্পপতি শাহআলম বিএনপিকেই কিছুই দেয়নি। কিন্তু তবুও কেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলে গেলেন শাহআলমের মনোনয়নের বিষয়টি দেখবেন তিনি। রিজভী কেন বলে গেলেন শাহআলম বিএনপিকে দিয়েছেন নেননি। কেনইবা বলে গেলেন ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জের অভিভাবক শাহআলম। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শাহআলম বিএনপির একটি মানববন্ধনেও শ্লোগান তুলেননি। মিছিল মিটিং তো দূরের কথা। সর্বোচ্চ তার বাসায় নেতাকর্মীদের নিয়ে খাওয়া ধাওয়ার আয়োজন ছাড়া আর কিছুই করেননি শাহআলম। জেলার সাতটি থানার কোথাও শাহআলমের বিরুদ্ধে একটি জিডি থাকার খবরও পাওয়া যায়নি মামলা তো দূরের কথা।

কল্যাণ পার্টির সাবেক কোষাধ্যক্ষ শিল্পপতি শাহআলম বিএনপিতে এসেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনের পর আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি নেই। একেএকে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও সর্বপরি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য পদে ভাগিয়ে নিয়েছেন। বিএনপির কঠিন পরিস্থিতিতেও মিটিং মিছিল সভা সমাবেশ করতে দেখা যায়নি শাহআলমকে। রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম করতে শাহআলমের নিষেধ ছিল। ফতুল্লায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন শাহআলম।

এমন বিষয় অভিযোগ তুলে প্রায় ৫ বছর পূর্বে মেরি এন্ডারসনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টু। তারা বলেছিলেন শাহআলম নেতাকর্মীদের রাজপথে নামতে দেননা। তাই ওই সময় থেকে তারাই রাজপথে আন্দোলন করবেন কিন্তু পরবর্তীতে তাদেরকেও দেখা যায়নি রাজপথে। শাহআলম তার আরেক চাটুকার আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে করেছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক যিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীরা আজাদ বিশ্বাসকে আওয়ামীলীগের দালাল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আজাদ বিশ্বাস জেলা ও থানার বড় পদের দায়িত্বে থাকলেও তার বিরুদ্ধেও কোন জিডি নাই। এমনকি মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবেও দাড়াননি আজাদ বিশ্বাস।

তাহলে রিজভীর দাবির প্রেক্ষিতে বিএনপিকে কি দিয়েছেন শাহআলম? আর কেনইবা শাহআলমকে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের অভিভাবক ঘোষণা করলেন রিজভী? অভিভাবক বলতে কি বুঝিয়েছেন রিজভী? থানার সভাপতি সেক্রেটারিই তো অভিভাবক। তাহলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি সেক্রেটারি কি ঘোড়ার ঘাস কাটবেন? তবে শাহআলম যা দিয়েছেন রিজভী সেটা মুখে না বললেও নেতাকর্মীরা ঠিকই বুঝে নিয়েছেন। আসলেই কি যা দিয়েছেন শাহআলম তা কি বিএনপিকে দিয়েছেন নাকি গয়েশ্বর ও রিজভীর মত নেতাদের দিয়েছেন? তাহলে কি বিএনপির রাজনীতিতে টাকাই সব? গয়েশ্বর ও রিজভীর বক্তব্যে তাদের ভুমিকা এটাই প্রমান করে বিএনপিতে টাকা দিন এমপি মন্ত্রী হোন। রাজপথে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। মিটিং মিছিল সভা সমাবেশের প্রয়োজন নেই। এসব শিল্পপতিতের বেমানান। শিল্পপতিরা দিবে শুধু টাকা আর টাকা। সেই টাকায় কেন্দ্রীয় নেতারা চোখ বন্ধ করে যা ইচ্ছা তাই বলবেন। এটাই বিএনপির রাজনীতি!

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ