৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭ , ১:৪৬ অপরাহ্ণ

ডিম পাড়া হাস ‘শাহআলমে’ জিম্মী বিএনপি, উদহারণ ‘দালাল’ বিশ্বাস


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫৭ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৭ শুক্রবার


ডিম পাড়া হাস ‘শাহআলমে’ জিম্মী বিএনপি, উদহারণ ‘দালাল’ বিশ্বাস

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কোন চেইন অব কমান্ড নেই। এখানকার বিএনপি জিম্মী হয়ে আছে গুটিকয়েক নেতার কাছে। শিল্পপতি এসব নেতারাও প্রচার করেন, তাদের কথায় দলের চেয়ারপারসন কমিটি দেয়। গুলশান অফিসের খরচ বহন করেন তারা। যেভাবে বলবেন সেভাবেই কমিটি হবে। আর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির যে কমিটি হয়েছে সেটা শাহআলমের কারণেই হয়েছে এমনটাই প্রচার করা হচ্ছে। এসব কারণে শাহআলমের ব্যাপারে কথা বলতে মানা অনেক নেতাদের। তাদের ভয় যদি পদ চলে যায়।

এদিকে আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস যিনি জেলা বিএনপির সহ সভাপতি। তাঁকে ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটিতে সেক্রেটারী করা হয়েছে কোন ধরনের সম্মেলন ছাড়াই। তিনি শাহআলমের আস্থাভাজন। আজাদ বিশ্বাসের কথায় চলেন শাহআলম।

এ আজাদ বিশ্বাস এখন আওয়ামী লীগেরও বেশ আস্থাভাজন। তিনি বিএনপির রাজনীতি করলেও তাঁর সামনেই দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ গালি দেওয়া হয়েছিল। সেটা তিনি হজমও করেছিল। কিন্তু তার পরেও তাকে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি করেন শাহআলম। বসান সব সময়ে পাশের চেয়ারে। যথেষ্ট সম্মান ও ইজ্জত দেন।

অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ ও প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে লিয়াজো শাহআলম রাখেন আজাদ বিশ্বাসের মাধ্যমেই। যদিও আজাদ বিশ্বাসকে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরাই এ নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই শাহআলমের। কারণ তিনি এ দালালের গডফাদার নিয়ন্ত্রক।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, শাহআলম চুপ কারণ তিনি আগে থেকেই দল পাল্টানো। ক্ষমতার লোভে যোগ দেন কল্যাণ পার্টিতে। আবার পরে যোগ দেন বিএনপিতে।

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে অবশেষে মামলার আসামী হয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শিল্পপতি কাম রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ শাহআলম। তবে সেই মামলায় আরো ৯৯জন আসামী হলেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেবল শাহআলমের পক্ষে বিবৃতি ও নিন্দা জানানোর ঘটনায় সেই মামলা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারন ওই মামলায় সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন আসামী হলেও গিয়াসের পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের কোন প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।

তবে বিএনপির নেতাদের অনেকেই জানিয়েছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই শাহআলম মামলা না হওয়ার কলংক এড়াতেই চেষ্টা করেছিল যেন কোন মামলার আসামী হয়।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, কল্যাণপার্টি থেকে বিএনপির রাজনীতিতে আসার পর রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা দলীয় স্বাভাবিক কর্মসূচিও পালন করেননি শাহআলম। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। পরাজিত হলেও তিনি নারাযণগঞ্জ বিএনপিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বর্তমান জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহআলম আগের কমিটিতেও একই পদে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতির পদে রয়েছেন। ফতুল্লায় বিএনপির রাজনীতি একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন নিয়েছেন তিনি।

আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নেতাকর্মীদের রাজপথে আন্দোলনে তার ছিল নিষেধাজ্ঞা। তিনি এ জেলায় নিজেকে প্রচার করেন তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির একজন বড় ডোনার। তাই তিনি সময় হলে মনোনয়ন পাবেন এবং নেতাকর্মীদের ডাকবেন তখন নেতাকর্মীরা ভোট  চাইবেন। এর আগে আন্দোলন সংগ্রামের কোন প্রয়োজন তার নেই। এবং যারাই আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে মামলার আসামী হয়েছেন তাদের দায়ভারও তিনি নেননি। জেলার সাতটি থানার কোথাও তার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরীর খবরও পাওয়া যায়নি।

নেতাকর্মীরা বলছেন, শাহআলম আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি। একই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীন। এদের দুজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা রয়েছে। তবে শাহআলমের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেননা বলে যে অভিযোগ  রয়েছে সেই অভিযোগ  গুছতেই হয়তো কৌশলে মামলার আসামী হয়েছেন শাহআলম। কারন রাজনীতিতে মামলার আসামী হলেই উপরে ওঠা যায়। আর শাহআলমের মনোনয়নটা নিশ্চিত করতেই এ মামলার আসামী হয়েছেন। কর্মীদের এমন সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে যখন সকল নেতাকর্মীরা শুধুমাত্র শাহআলমের পক্ষেই প্রতিবাদ নিন্দা জানাচ্ছেন। ইতিমধ্যে  ফতুল্লায় বেশকটি প্রতিবাদ সভা হলেও কেউ গিয়াসের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ জানাননি। এমনকি যারা মিডিয়াতে বিবৃতি দিয়েছেন তারাও শাহআলমের পক্ষেই দিয়েছেন। ফলে শাহআলমের মামলায় আসামী হওয়াটা আরো রহস্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ