২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ

এখন সবাই পদ চায়, ক্ষমা চাই : শামীম ওসমান


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৪ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার


এখন সবাই পদ চায়, ক্ষমা চাই : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, আগে কর্মীরা পদ পদবী কিছুই চায় নাই। আমি এভাবেই ওদের তৈরী করেছি। কিন্তু এখনতো দেখি আওয়ামীলীগ যুবলীগে আগেই পদ চায়। পদ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ করে। সবাই পদ পেয়ে বড় নেতা হয়ে যায়। এখন দেখি কেউ মানে না। রাজনীতি এখন কতটুকু আছে তাও বুঝি না। আসলেই রাজনীতি আছে কিনা তাও বুঝিনা। কতটুকু টিকে আছে কতটুকু আদর্শ আছে তাও বুঝিনা।

৩০ অক্টোবর প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা যিনি ছিলেন শামীম ওসমানের অনুগামীদের একজন তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর দোয়ায় শামীম ওসমান বলেন, ‘সারোয়ার একটি সুদর্শন মানুষ ছিল, ভালো মানুষ ছিল। স্কুলে প্রথম ছিল। সাহসী ছিল। প্রয়োজনের খাতিরে সাহস দেখিয়েছে। বাধ্য হয়ে লাঠি তুলে নিতে হয়েছে আমাদের। তার তিন মেয়ে তিনজনই মেধাবী। তার ভাইয়েরাও নাম করেছে।

২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর দেশ ছাড়তে হয় শামীম ওসমান সহ অন্যদের। শামীম ওসমান বলেন, ‘২০০১ এর পর আমরা বিপদে পড়ে ছিলাম। তার জন্য দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। আমি মনে করি আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা নিয়েছে। কারণ আল্লাহ ঈমানদারদেরই পরীক্ষা নেয় বেঈমানদের না। আমরা আসল রেখে নকলের পিছনে ছুটছি। আমাদের আল্লাহর পথে থাকা চাই। আমরা প্রতিযোগিতাই নেমে গেছি। আরো চাই। তবে অসৎ পথে কোন প্রয়োজন নাই। সত্য পথে হলে ঠিক আছে।’

কিছুটা ভারাক্রান্ত কণ্ঠে শামীম ওসমান বলেন, ‘লাল, সুইট, সারোয়ার, মাকসুদ সবাই চলে গেছে। আমিও যে কখন চলে যাই ঠিক নাই। আমি তাই সবার জন্য দোয়া চাই। সবার আগে নিজের জন্য ক্ষমা চাই। প্রতিদিনই ভাবি আমার শেষ দিন। ২০০১ এর আগে এটা ভাবতাম না। আল্লাহর কাছে কাঁদতে হবে। বাবা মা স্বজনদের জন্য কাঁদতে হবে। যে চলে গেছে তার সন্তানরাই বুঝে।’

আগের ত্যাগের রাজনীতির উদহারণ দিতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘তখন বিএনপি ক্ষমতায় আমরা বাসায় বসে ছিলাম। তখন সদর থানার একজন ওসির চাকরি চলে যায় যায় অবস্থা। সে এসে আমাদের বলে কাউকে না কাউকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তা নাহলে চাকরি চলে যাবে। তখন আমি বললাম কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। চাকরি গেলে চলে যাক। এরই মধ্যে একজন বলে উঠলো না ভাই ওসি ভালো মানুষ। আমরা একজন চলে যায়। এর মধ্যে সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, পাপ্পু সহ কয়েকজন বলতে লাগলো তারা যাবে। এ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেলে। পরে শেষে লটারী হলো তার মধ্যে মাকসুদের নাম উঠলো। মাকসুদ পুলিশের গাড়িতে গিয়ে বসে পড়লো। আমরা হাতে বানানো নেতাকর্মী এমন ত্যাগী ছিল। কোন সময় পদ পদবী চাইতে না। আর এখন যারা ছাত্রলীগ করে তারাও পদ খোঁজে। বিএনপি সহ সব দলের মধ্যে একই অবস্থা। আমার দলের ভেতরেও একই অবস্থা। রাজনীতি আগে ছিল ত্যাগ করা এখন ভোগ করা।

দোয়া প্রার্থনা করে বক্তব্য রাখেন প্রয়াত সারোয়ারের ছোট দুই ভাই মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি জাকিরুল আলম হেলাল এবং অপর ভাই নগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, পরিচালক ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান, বন্দর ইউপি চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, নাসিকের ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসাইন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতি, আসিফ হোসেন মানু প্রমুখ।

১৯৮৮ সালে চাষাঢ়া-মিশনপাড়ার রাজনৈতিক বিরোধের সময়ে জেলাজুড়ে আলোচিত হন সারোয়ার। এরপর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সারোয়ার ছিলেন আলোচিত। নব্বই দশকে শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন রাজনীতির মাঠে। ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সারোয়ারের নাম ছড়িয়ে পড়ে জেলা জুড়েই। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজনীতি থেকে এক প্রকার নির্বাসিতই ছিলেন সারোয়ার। পরে তিনি ভারতে ছিলেন কয়েক বছর। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সারোয়ার দেশে ফিরে আসলেও শারিরীক অসুস্থ্যতার কারণে রাজনীতিতে সক্রিয় হননি। এর মধ্যে সারোয়ার মস্তিস্ক, কিডনী রোগে ভুগছিলেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ