৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

হারিয়ে যায়নি তৈমূর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৮ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:১৫ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার


হারিয়ে যায়নি তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির থেকে সরিয়ে দেয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে কিছুটা পিছু হটেছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। এখানকার নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছিল হতাশা। কিন্তু তৈমূর আলম নারায়ণগঞ্জে ফুরিয়ে যাননি সেটাই প্রমাণ করে চলেছেন।

১২ নভেম্বর রবিবার ঢাকায় বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে শোডাউন করে যোগদান করেছেন তৈমুর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ থেকে যেসব নেতারা শোডাউন করেছেন তার চেয়ে অনেকটা বেশিই নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটিয়েছেন তিনি। এদিকে ভাটা পড়েছিল নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ফোরামের স্বেচ্ছাচারি অযৌক্তিক সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠন করে তিনি জাগানিয়া দিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত একজন।

অন্যদিকে শুধু রাজনীতিতে নয় তৈমূর আলমের নির্বাচনী এলাকা রুপগঞ্জ ভোলাব ইউনিয়নের ৮টি গ্রামবাসীর পক্ষে তিনি আন্দোলনে নেমেছেন। অসহায় নিরীহ মানুষের জমি যখন জোরপূর্বক ভূমিদস্যুরা দখলে নিয়ে বালু ভরাট করছেন তখন রুখে দাড়িয়েছেন একমাত্র তৈমূর আলম খন্দকারই। যে কারণে শতাধিক এলাকাবাসীর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় তৈমূর আলমকেও ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও নিয়মিত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও শহরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিনি। রূপগঞ্জে তিনি নিয়মিত নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন। পাড়া মহল্লায় ঘুরছেন। যাচ্ছেন সামাজিক পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতেও। ইতোমধ্যে নিজেদের জমি এলাকার রাস্তার জন্য দান করেছেন তিনি। কাজ করছেন বধির সংস্থার জন্য। রবিবার ঢাকায় বিশাল শোডাউনে তৈমূর আলম খন্দকার নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই শোডাউনে নারায়ণগঞ্জ শহর বন্দর ও রূপগঞ্জ এলাকার নেতাকর্মীরা ছিলেন বেশি। সঙ্গে ছিলেন নবগঠিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবী নেতারাও। তার বলয়ের নেতাকর্মীদের মতে তৈমূর মচকাবেন কিন্তু ভাঙ্গবেন না। তিনি আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন।

এদিকে ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মাসদাইর এলাকায় মজলুম মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে তৈমূর আলম সমর্থন করেছেন। তার দাবি কেন্দ্র থেকে বসে যেনো তেনো কমিটি  গঠন করে দিলেই এখানকার নেতারা মেনে নিবে না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটিতে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী ভূইয়াকে সভাপতি, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ভূইয়া সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু ও অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে এ আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও কমিটিতে আরো বেশকজন আইনজীবী রয়েছেন যারা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম বলয়ে রাজনীতি করেন।

কমিটি গঠনের বিষয়ে নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী ফোরামকে অভিভাবক হিসেবে ৩০ বছর যাবত নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সরকারি দলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ভোট গণনা ও ফলাফলেও উপস্থিত থাকেন। আমরা তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে ভুমিকা রেখেছি। বিএনপির আমলে তৈমূর কয়েক লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ করেছিলেন। আমরা সক্রিয় আইনজীবীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। এ কমিটিতে কেন্দ্রীয় ফোরামের নেতাদের সমর্থন রয়েছে। তৈমূর আলম খন্দকারই নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী ফোরামের মুরুব্বী হিসেবে ছিলেন এবং থাকবেন।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ