৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সিদ্ধিরগঞ্জে অস্তিত্বহীন শাহআলম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২০ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার


সিদ্ধিরগঞ্জে অস্তিত্বহীন শাহআলম

মূলত শিল্পপতি শাহআলমের সুবিধার্থে নারায়ণগঞ্জ মহানগর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাকে লেজ বানিয়ে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এমনটাই দাবি করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু যে শাহআলমের সুবিধার জন্য আসন ভিত্তিক চিন্তা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই শাহআলমের অস্তিত্বই নেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায়।

নেতাকর্মীরা বলেছেন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। এ আসন এলাকা থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে অন্যতম হলেন শিল্পপতি শাহআলম ও সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীন।

সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটিতে বসবাস করেন গিয়াসউদ্দীন ও ফতুল্লায় বসবাস করেন শাহআলম। শাহআলম কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সেক্রেটারি পদে রয়েছেন। গিয়াসউদ্দীন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি।

গত ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের মুল এলাকা ১নং ওয়ার্ড থেকে ১০নং ওয়ার্ড এলাকা পর্যন্ত জেলা বিএনপির কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে বন্দরের ৫টি ইউনিয়ন ও সদর থানাধীন দুটি ইউনিয়নকে মহানগর বিএনপির কমিটিতে অন্তভূক্ত করা হয়েছে। ওই কমিটি গঠনের বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মুলত সামনের নির্বাচনে আসন ভিত্তিক হিসেবে করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসন থেকে বিএনপির এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন গিয়াসউদ্দীন। ওই সময় দুটি থানা এলাকার নিয়ন্ত্রক ছিলেন গিয়াস। পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দীন কারাগারে গেলে শুধুমাত্র ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন শাহআলম। নির্বাচনে শাহআলম পরাজিত হন।

এর আগে তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই রাজু ও এমএ হালিম জুয়েল এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টু ছিলেন গিয়াসউদ্দীনের অনুগত। পরবর্তীতে সিদ্ধিরগঞ্জে আহ্বায়ক কমিটি ও এর আগে ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি হয়। যেখানে গিয়াসউদ্দীনের মুঠোবন্দি থেকে সটকে যায় বিএনপির নিয়ন্ত্রন। ফতুল্লায় বিএনপির কমিটির নিয়ন্ত্রন শাহআলমের হাতে থাকলেও সাবেক  কমিটির নেতারা রয়েছেন গিয়াসের সঙ্গেই। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে শাহআলমের কোন অস্তিতই নেই। তার প্রত্যাশিত নির্বাচনী এলাকায় হলেও সিদ্ধিরগঞ্জে ডুকতে পারেননি শাহআলম।

এর আগে ২০১৪ সালে সাত খুনের ঘটনার পূর্বে আনোয়ার হোসেন আশিক যখন মহানগর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তখন আশিকককে দিয়ে শাহআলম সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যানার ফেস্টুন পোস্টার সাটাতেন। নূর হোসেনের সঙ্গে গিয়াসের ছিল শত্রুতা। তাই নূর হোসেনের সঙ্গেও শাহআলমের সখ্যতা  গড়েছিলেন। যে কারনে আশিক নূর হোসেনের গানম্যান হলেও তাকে মহানগর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়েছিল। সাত খুনের মামলায় আশিক আসামী হলে পরবর্তীতে অব্যাহতি পেয়ে তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। এখন সিদ্ধিরগঞ্জে শাহআলমের কেউ নেই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ