তৈমূর পন্থীদের দখলে আইনজীবী ভবন, পারলেন না সাখাওয়াতরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার

তৈমূর পন্থীদের দখলে আইনজীবী ভবন, পারলেন না সাখাওয়াতরা

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার পন্থী আইনজীবীদের দখলে। ফলে আইনজীবী সমিতির বর্ধিত টিনসেড ভবনে দোয়া ও আলোচনা শেষে সমিতির ভবনের সামনে কেক কাটতে হয়েছে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান পন্থী আইনজীবীদের।

২০ নভেম্বর সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আইনজীবী সমিতির ভবনের নিচ তলায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাষানী ভূইয়া, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান খান খোকা, অ্যাডভোকেট  বোরহান  উদ্দীন সরকার, অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ার, অ্যাডভোকেট এসএম গালিব, অ্যাডভোকেট আবদুস সামাদ মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন মাসুম, অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম সিরাজী রাসেল, অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমেদ, অ্যাডভোকেট আলী হোসাইন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, অ্যাডভোকেট বাহাউদ্দীন, ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার, অ্যাডভোকেট দিলারা আফরোজ দিপু, অ্যাডভোকেট রাসেল প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, অ্যাডভোকেট নাসিরউদ্দীন, প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম মানিক, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মাসুম সহ তৈমূর পন্থী আইনজীবীরা।

জানাগেছে, পূর্বে থেকে সমিতিতে কর্মসূচি পালনের অনুমতি তৈমূর পন্থীরা নিয়ে নেওয়ার কারণে আইনজীবী সমিতির অনুমতি না পেয়ে দুপুরে টিনসেড ভবনের নিচে দোয়া ও আলোচনা শেষে সমিতির ভবনের সামনে কেক কাটা অনুষ্ঠান করেছেন সাখাওয়াত হোসেন খান পন্থী আইনজীবীরা। মূলত জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে সাখাওয়াত পন্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এঅনুষ্ঠানের আগে তৈমূর পন্থীদের জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ার ও সাখাওয়াত পন্থী অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধানের মাঝে তর্কবিতর্কে মৃদু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠলে সিনিয়র আইনজীবীরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সমিতির সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আরেক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম মোল্লা ও অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসানা শিমুল সহ সাখাওয়াত পন্থী আইনজীবীরা।

তবে বিএনপির আইনজীবীরা একসঙ্গে কেন কর্মসূচি পালন করতে পারলেন না এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে গঠিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের  বৈধ কমিটি করে দিয়েছে কেন্দ্র। আমাদের কমিটি  বৈধ। জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী  ফোরামের কমিটিও বৈধ। যুব আইনজীবী ফোরামের অনুষ্ঠানে আমি প্রধান অতিথি ছিলাম। অপরদিকে যারা করেছেন তারা মনগড়া কমিটি বানিয়েছে। তাদের এ সংগঠনের কোন বৈধতা নাই। মুলত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষেই এমনটা তারা করেছেন।’

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের সমর্থনে গঠিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পাল্টা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী ভূইয়া বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা থাকতেই পারে। তৈমূর আলম খন্দকার সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তি। আমরা তার নেতৃত্বে রাজনীতি করি। তৈমূর আলমকে সম্মান করি। তিনি জাতীয়তাবাদী  আইনজীবী ফোরামের ৩০  বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপির রাজনীতিতে ফাটল রয়েছে। এমন বিরোধের মাঝেই চলতি বছর ৭ জুন অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক ২৮৭ জন আইনজীবীকে নিয়ে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একটি কমিটি গঠন করেন কেন্দ্রীয় ফোরামের সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দীন খোকন। এ কমিটি মূলত গত সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগতদের দিয়ে গঠন করা হয়। এ কমিটিতে ৩০জনকে সহ-সভাপতি, ১৫ জন যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সহ-সাংগঠনিক মিলে ১৮ জন। এছাড়াও তৈমূর আলমকে উপদেষ্টা করে ১৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।

কেন্দ্রীয় ফোরামের সেক্রেটারি এককভাবে এ কমিটি গঠন করায় কমিটির বাতিল দাবি করে ১২ জুন নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ২৮৭ জনের মধ্যে ১৪৪ জন আইনজীবী পদত্যাগ করেন। সেই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারও পদত্যাগ করেন। ওই সময় তৈমূর আলম খন্দকার দাবি করেছিলেন, ‘ঢাকায় বসে কেন্দ্রের সেক্রেটারি এককভাবে কমিটি দেয়ার এখতিয়ার রাখেন না। এ কমিটির কোন বৈধতা নেই।’ ওই কমিটির পর শনিবার পাল্টা কমিটি গঠন করেছেন পদত্যাগী নেতারা যারা তৈমূর আলম খন্দকারের অনুগত আইনজীবী।

এছাড়াও কয়েক বছর পূর্বে তৈমূর আলমের অনুগত আইনজীবী কেন্দ্র থেকে শহীদ জিয়া আইনজীবী পরিষদের কমিটি  গঠন করে নিয়ে আসেন। এতে সভাপতি করা হয অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক করা হয় অ্যাডভোকেট এসএম গালিব ওসাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলুকে। ওই কমিটিকে বিতকির্ত করতে নারায়ণগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী ফোরামের কমিটি ঘোষণা করে দেন এখানকার আইনজীবীরা যারা সাখাওয়াত হোসেন খান পন্থী। এ কমিটির গঠনের পর তৈমূর আলম খন্দকার পন্থীরা অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ারকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠন করে দেন তৈমুর আলম পন্থী আইনজীবীরা।

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সমিতির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের ভরাডুবি ঘটলে নির্বাচনের দুদিন পরেই ফোরামের সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় তৎকালীন ফোরামের সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ খান ভাসানী পাল্টাপাল্টি দুজন দুজনকে বহিষ্কার ঘোষণা করে দেন। এনিয়ে সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সরকার হুমায়ুন কবির ফোরামই বিলুপ্ত ঘোষণা করে দেন। যদিও ফোরামের এসবের কোন নিয়ম নেই বলে আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও