৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

শামীম ওসমান আইভী ইস্যুতে চ্যালেঞ্জে হাই ও আনোয়ার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৭ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ১১:১৯ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার


শামীম ওসমান আইভী ইস্যুতে চ্যালেঞ্জে হাই ও আনোয়ার

নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা যাঁরা দলে অভিভাবক হিসেবেই পরিচিত। একজন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও অপরজন মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। জেলা কমিটি সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। আর দুই বছর আগেই হয়েছে মহানগর কমিটি। এসব কমিটি গঠন নিয়ে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে নীতিগত বিরোধ ও লড়াই ছিল। এখন সেটা বর্তাচ্ছে জেলা ও মহানগরের সভাপতি সহ দলের নেতাকর্মীদের উপর।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, মহানগর ও জেলা কমিটিতে যারাই আসুক এখানে মূলত শামীম ওসমানের সঙ্গে আইভীর পর্দার আড়ালের বিরোধ দ্বৈরথ আছে। এর প্রভাব পড়ছে রাজনীতি ও দলের ভেতরে। ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন সেক্রেটারী খোকন সাহা সহ অনেকে। আর আনোয়ার হোসেন শুরুতে বিরোধী থাকলেও ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনের পর শামীম ওসমান ও আনোয়ার একত্রিত হয়ে যায়। মহানগর আওয়ামী লীগে প্রাণ ফিরে আসে। তবে গত বছর মহানগর ও জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটি নিয়ে শামীম ওসমানের সঙ্গে কিছুটা মনোমালিন্য দেখা দেয় আনোয়ার হোসেনের। দূরে সরে যান খোকন সাহাও। এখন আনোয়ার ও খোকন সাহা একত্রে। এরই মধ্যে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফরম বিতরণ নিয়ে আনোয়ার হোসেনদের সঙ্গে শামীম ওসমানের লোকজনদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ অবস্থায় মহানগর আওয়ামী লীগে দেখা দিচ্ছে নাটকীয়তা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন আগামীতে আনোয়ার হোসেনকে বেশ কষ্ট করতে হবে। কারণ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিরোধ থাকলে কর্মীরাও বিভক্ত হবেন। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে আনোয়ার হোসেন কতটা কুলিয়ে উঠতে পারবেন সেটাও প্রশ্ন।

যদিও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর নাসিক মেয়র আইভীকে আপনাকে ‘কাকা’ ও সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান আপনাকে ‘গুরু’ মানেন কিন্তু এ দুজনের মধ্যে দূরুত্ব রয়েছে-এক্ষেত্রে আপনি মুরুব্বী হিসেবে তাদের দূরুত্ব কমিয়ে নারায়ণগঞ্জের আরো উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত করতে আপনি কি ভূমিকা রাখবেন? প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন বলেন, মুরুব্বী হিসেবে আমার যে দায়িত্ব সেটা হলো দু’ জনকেই বুঝাতে হবে। দু’জনকে এক জায়গায় বসাতে হবে। আমি এটাই বলতে চাই যে, আমাদের পূর্বসূরীরা যেভাবে নারায়ণগঞ্জকে দেখতে চেয়েছিলেন আমরা সেভাবে নারায়ণগঞ্জটাকে গড়তে পারিনি। আমরা আমাদের মান অভিমান রাগ অভিমান এগুলোর কারণে আমরা এখনও এক সঙ্গে বসতে পারিনি। তাদের কাছে আমার আহ্বান আসুন আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একসাথে এক সাথে বসি এবং একসাথে বসে আমরা মান অভিমান সকল কিছু ভুলে গিয়ে আমাদের পূর্বসূরীরা যে নারায়ণগঞ্জ গড়তে চেয়েছিলেন আমরা সেই নারায়ণগঞ্জ গড়ি। আমার দায়িত্ব থাকবে এটাই করা।

আপনার কারো প্রতি রাগ বিরাগ অভিমান আছে কিনা? এমন প্রশ্নে আনোয়ার হোসেন বলেন, আসলে আমি তো মুরুব্বী। এরা সবাই আমার ছোট বা সন্তানতুল্য। এখন সন্তান যদি বাবার প্রতি বেয়াদবী করে তাহলে বাবা তো সন্তানকে ত্যাহ্য করতে পারে না। সন্তান বাবাকে যত কষ্টই দেক বাবা কোনদিন সন্তানকে ত্যাগ করতে পারে না। যারা আমাদের সাথে বেয়াদবী করেছে আমি সব কিছু ভুলে গিয়ে মুরুব্বীর মতই তাদেরকে আমার কাছে টেনে নিতে চাই। তাদেরকে নিয়েই আমি একটা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই।

কিন্তু এখানো আনোয়ার হোসেনের সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি। এতেও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ৭৪ সদস্যের কমিটিতে কারা শামীম ওসমান ও কারা আইভীর সেটা নিয়ে চলছে নানা প্রশ্ন। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই চাচ্ছেন দুইজনকে একত্রে বসাতে।

শামীম ওসমান, আইভী ও আপনি নিয়ে কোন মেরুকরণ হবে? প্রশ্নের জবাবে আবদুল হাই বলেন, ‘আমি এগুলো হওয়ার কোন মনে করি না। বলয় রাজনীতির সব সময় বিরোধীতা করি। এগুলো পরিহার করে আমরা সবাই আওয়ামীলীগ করি। আমরা আওয়ামীলীগের সদস্য। আমাদের সকলের বক্তব্যে শেষে আমরা সকলই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলি। এ ইস্যুতে আমরা সবাই একমত।

তিনি আরো বলেন, ‘একটি বড় দলের নেতৃত্ব নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা থাকে। এটি বিশাল দল ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, বাসদ না। বিশাল দলের বিশাল কর্মী বাহিনী। বলয় মানে আমি মনে করি পার্টির জন্য ক্ষতি বয়ে আনা। বলয় মানে আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর বলয়ে আছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সবাই তার পিতার আদর্শের কর্মী।  আমাদের নেত্রী যেভাবে নির্দেশ দিবে সেই ভাবেই কাজ করবো।

শামীম ওসমান জেলা কমিটির কোন পদে নেই, কমিটির বিষয়ে ওনার কোন পদক্ষেপ বা এবিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে ? প্রশ্নের উত্তরে আবদুল হাই বলেন, ‘কথা হয়েছে। তার মনোনীত লোকজনও এ কমিটিতে আছে। তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে কারো সঙ্গে বিরোধ রাখতে চাই না। এমপি হিসেবে তার কর্মক্ষেত্রে আলাদা আবার দলের বিষয়ে তার কর্মক্ষেত্র আলাদা। অবশ্যই তিনি দলের ভালোর জন্য কাজ করবেন। আর এমপি হিসেবে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন আর করবেনও। আর একটি বড় পরিবারে থাকলে দেখা যায় ভাইয়ের সঙ্গে বোনের ঝগড়া হয়। শুধু ঝগড়া না অপ্রীতিকর ঘটনাও হয় কিন্তু পরে দেখা যায় সব কিছু ঠিক হয়ে যায়। আমাদের মধ্যে যা আছে তা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা কিন্তু আদর্শ গত কোন দন্ধ নেই। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকা ভালো। নমিনেশনের জন্য সবাই বলে, আমি সবাই বলি চাও। দলে নৌকা তো ভাগ করে দেওয়া যাবে না। একজনই নৌকা পাবে । সেটা দল থেকে নির্ধারণ করে দিবেন। আর নেত্রী যাকে দায়িত্ব দিবেন তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো।’

মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানকে নিয়ে এক মঞ্চে বসানো সম্ভব? প্রশ্নের জবাবে আবদুল হাই বলেন,: আমি চেষ্টা করবো। ইতোমধ্যে সেলিম ওসমানের সঙ্গে আইভী বসেছেন। এখন বাকি আছে শামীম ওসমান। আমি চেষ্টা করবো দুই ভাই বোনকে এক সাথে বসানোর জন্য এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য। সামনে তো নির্বাচন এটার সঙ্গে ক্ষমতার প্রশ্ন এটা কোন সিটি করপোরেশন কিংবা পৌরসভা নির্বাচন না জাতীয় নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে ক্ষমতার প্রশ্ন জড়িত। যেখানে ক্ষমতার প্রশ্ন সেখানে আমি আশা করবো তারা সবাই দলের দিকে চেয়ে, দলের ভালো দিকে চেয়ে, নেত্রীর দিকে চেয়ে সবাই আমারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেত্রীকে আমরা যারা নৌকার প্রার্থী হয়ে আসবেন তাকে বিজয়ী করে নেত্রীকে উপহার দিবো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ