২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ

কর্মসূচীর জন্যই আজাদ শাহআলমকে তোষণ!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩২ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৮:১০ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


কর্মসূচীর জন্যই আজাদ শাহআলমকে তোষণ!

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান নেতাদের মধ্যে যাঁরা সবচেয়ে বিতর্ক তাদের দুইজন শাহআলম ও আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। শাহআলম জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও অঘোষিত নিয়ন্ত্রক। আর আজাদ বিশ্বাস হলেন তাঁরই পোষ্য ও জেলা কমিটির সহ সভাপতি একই সঙ্গে ফতুল্লা থানা কমিটির সেক্রেটারী। তিনি আবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও। নানা কারণে এ দুইজন বিতর্কে তম্মধ্যে বেশী সরকার দলের তোষণ, সরকার দলের সঙ্গে আঁতাতের কারণে।

তবে বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি অনুধাবন করে কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা করলেও দলের স্বার্থে কিছু করতে পারছেন না। কারণ সভা সমাবেশের অনুমতি কিংবা প্রশাসনের শৈথিলত্যার জন্য এ দুইজনের কাছেই সর্বদা দ্বারস্থ হতে হয়।

সবশেষ ৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হয়ে মিছিলের মত করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে। শুরু থেকে মিছিলের আগে ও পরে ছিল পুলিশ প্রহরা। সমাবেশের সময়েও ছিল পুলিশ। আর সকালে মহানগর বিএনপি পুলিশের বাধার কারণে সমাবেশ তো দূরের কথা প্রেস ক্লাবের সিড়ির সামনে ব্যানার নিয়েও ঠিকমত দাঁড়াতে পারেনি।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আজাদ বিশ্বাস ও শাহআলমের সঙ্গে যে সরকার দলের আঁতাত আছে সেটা সবাই জানে। কারণ ১৯ অক্টোবর ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সমাবেশে আজাদ বিশ্বাস নিজেই বলেছেন ‘আমার নেতা শামীম ওসমান।’ ওই বক্তব্যের পর আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে। বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশ হয়। পরে শাহআলম নিজে বাঁচতে আজাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথাও বলেন। জেলা বিএনপির সেক্রেটারী শোকজের কথাও বলেন। তবে সবকিছুই নাটক। কারণ আজাদ বিশ্বাসের সঙ্গে সরকার দলের অনেক নেতা ও এমপিদের সু সম্পর্ক। অনেক অনুষ্ঠান করতে হয় যেখানে প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন হয়। সে কারণেই এটা করতেই শাহআলম ও আজাদ বিশ্বাসের প্রয়োজন।

এদিকে শাহআলমের সঙ্গে সরকার দলে সখ্যতা আরো প্রমাণ হয়েছে সবশেষ একমাত্র মামলা থেকে শাহআলমের অব্যাহতির ঘটনাটিতে। সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার চার্জশিট থেকে শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলমকে অব্যাহতির আবেদন করেছে পুলিশ। একই চার্জশিটে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীনকে।

চার্জশিটে পুলিশ উল্লেখ করেছেন, মুহাম্মদ শাহআলমের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। যদিও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম। এ শাহআলমের বাসা ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কার্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে। তার বাবার নাম জালাল হাজী। নারায়ণগঞ্জ জেলায় শিল্পপতি শাহআলমের বাসা খুঁজে পায়নি পুলিশ যা বিষয়টি রহস্যজনকভাবে দেখছেন। এ মামলায় নির্দেশদাতা হিসেবে মাহাবুব রহমানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনজন নির্দেশদাতার মধ্যে একমাত্র শিল্পপতি শাহআলমের বাসা খুঁজে পায়নি পুলিশ যে কারণে মামলার চার্জশিট থেকে তার নাম অব্যাহতির আবেদন করেছে পুলিশ।

এদিকে গিয়াসউদ্দীনের নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, সোনারগাঁও থানা পুলিশ শাহআলমের কাছ থেকে বিশেষ লাভে দেড়চোখা ভূমিকা পালন করেছেন। যে কারণে একই অভিযুক্ত গিয়াসউদ্দীনকে চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হলেও শিল্পপতি শাহআলমের বাসা খুজে পায়নি পুলিশ। বিষয়টি বেশ রহস্যজনক দেখছেন বিএনপি নেতাকর্মীরাই। এছাড়াও মামলার বাদিও সোনারগাঁও থানা পুুলিশ।

জানা গেছে, বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন সহ বিএনপির ৮৭জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে সোনারগাঁ থানার একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটটি দাখিল করেন সোনারগাঁও থানা পুলিশের এসআই তানভীর হোসেন।

এদিতে সেই আজাদ বিশ্বাসকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে জামিনে নিয়ে গিয়েছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর শামীম ওসমানের ওই কর্মীকে নিয়ে আদালতপাড়ায় শোডাউন করেছেন শাহআলম। ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁও থানার একটি নাশকতার মামলায় তিনি জামিন পান।

গত ১৯ অক্টোবর ফতুল্লা দেলপাড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। তিনি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। ওইদিন আজাদ বিশ্বাস বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমাবেশে বলেছিলেন, ‘আমার নেতা শামীম ওসমান। আমি বিএনপি নেতা হয়ে শামীম ওসমানকে স্যালুট জানাই।’

ওই অনুষ্ঠানের কদিন পরেই নারায়ণগঞ্জ বালুর মাঠ এলাকায় জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেছিলেন আজাদ বিশ্বাস। ওইদিন বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেছিলেন শামীম ওসমানের কর্মীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশটি হলো। কারণ আজাদ বিশ্বাস বলেছিলেন, শামীম ওসমান আজাদ বিশ্বাসের নেতা। সে হিসেবে আজাদ বিশ্বাস শামীম ওসমানের কর্মী। আর সেই শামীম ওসমানের কর্মীকে নিয়ে আদালতপাড়ায় শোডাউন দিলেন শাহআলম।

এছাড়া আজাদ বিশ্বাস থাকায় সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির একটি প্রস্তুতি সভা বয়কট করেছিল বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ