২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৭:১২ অপরাহ্ণ

আওয়ামীলীগ বিএনপির আইনজীবীরা প্রস্তুত


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৮ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৯:০১ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার


আওয়ামীলীগ বিএনপির আইনজীবীরা প্রস্তুত

নারায়ণগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতায় বিরোধ থাকলেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দুটি দলের আইনজীবীরা আশাবাদি নির্বাচনের সন্নিকটে সকল আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ দলের পক্ষে কাজ করবেন। বেশকবছর ধরে আইনজীবী সমিতির বড় দুটি পদে নেতৃত্বে আসতে পারছেনা বিএনপি। বিএনপি চায় এবার নেতৃত্বে আসতে। আর আওয়ামীলীগ চায় আবারো তাদের নেতৃত্বে চলবে আইনজীবী সমিতি। নির্বাচনটি নিয়ে জেলার বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদেরও দৃষ্টি রয়েছে এখানে। বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ নেতারা চায় এখানে বিএনপির আইনজীবীরা নেতৃত্বে থাকলে তাদের মামলা সংক্রান্ত জামেলাগুলো এড়ানো সহজ হবে।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া। গত বছরের নির্বাচনে প্যানেল পরিচিত সভায় এমপি একেএম শামীম ওসমান ঘোষণা দিয়েছিলেন এ নির্বাচনে জুয়েল ও মোহসীনকে নিয়ে প্যানেল গঠন করা হবে।

এদিকে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে অনেকটাই নিশ্চিত অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন। যদিও আলোচনা ছিলেন সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী ভুইয়া। তিনি এখনও নির্বাচনের কোন ঘোষণাও দেননি। তবে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছে বিএনপির প্যানেল থেকে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন আগামি জানুয়ারির মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে গত ২৩ নভেম্বর ৫সদস্যের নির্বাচন কমিশন ও ৩ সদস্যের আপিল বোর্ড গঠন করা হয়েছে আইনজীবী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায়।

আওয়ামীলীগের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি মূলত এমপি শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রনে। এমপি শামীম ওসমান ও এমপি সেলিম ওসমান তাদের রাজনীতিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। যে কারণে প্রতি বছর প্যানেল গঠনে এমপি শামীম ওসমানের নির্দেশনার গুরুত্ব থাকে। গত নির্বাচনের সময় শামীম ওসমান প্যানেল পরিচিতি সভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন পরবর্তী নির্বাচনে অর্থাৎ চলতি নির্বাচনে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল সভাপতি পদে ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়ে প্যানেল গঠন করা হবে।

যদিও আদালতপাড়ায় বেশকদিন নির্বাচন নিয়ে আইনজীবীদের সমর্থন চেয়ে ভোট চাওয়া নিয়ে আলোচনায় আসছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। তবে তিনি বর্তমানে আদালতপাড়ায় তেমন একটা প্রচারনায় নেই। এছাড়াও আবারো নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশি বর্তমান সমিতির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হাবিব আল মুজাহিদ পলু। অনেকেই বলেছেন শামীম ওসমানের পূর্বের ঘোষণাকে প্রাধাণ্য দিয়েই জুয়েল মোহসীন প্যানেল হিসেব ধরে অন্যান্য আইনজীবীরা প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচন কমিশন এখনও তফসিল ঘোষণা না করলেও নির্বাচন করতে আগ্রহী আইনজীবীরা সাধারণ আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সালাম আদাব দেয়া শুরু করেছেন। রাজনীতিতে বড় কোন পরিবর্তন হলে শামীম ওসমানের ঘোষণার নড়নড় হতে পারে। এখন পর্যন্ত শামীম ওসমান পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী জুয়েল ও মোহসীন আদালতপাড়ায় নিয়মিত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

অন্যদিকে বিএনপির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এবার অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লাকে নিয়ে বিএনপির জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল গঠন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারন বিএনপির রাজনীতিতে মুলত অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম ও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নামের দুটি বলয়ে রয়েছেন আইনজীবীরা। দুটি বলয়কে এক করতে হলে দুটি বলয় থেকেই প্রার্থী করার সম্ভাবনা বেশি।

যে কারণে সাখাওয়াত হোসেন বলয় থেকে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন সভাপতি ও তৈমূর বলয় থেকে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে প্যানেল গঠনের সম্ভাবনা বেশি ছিল। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে কিছুদিন কোর্টে প্রচারনায় ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাষানী ভূইয়া। ১১ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পাল্টা কমিটি গঠনের পর আজিজুুর রহমান মোল্লা ও আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভূইয়া চুপসে গেছেন। পাল্টা কমিটির নেতৃত্বে আসায় তারা নির্বাচন নিয়ে এখন আগ্রহী নন।

যে কারণে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন গত নির্বাচনে একই পদে পরাজিত অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান শাহিন, অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান শিমুল ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির। সম্প্রতি আলোচনায় ওঠেছেন গত বছরের আগের বছরে এ পদে পরাজিত অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের নাম। সরকার হুমায়ুন কবির এবার এ পদে নির্বাচনের সবচেয়ে সম্ভাবনা বেশি। কারণ হুমায়ুন মনোনয়ন চাইলে বাকিরা মনোনয়নই চাইবেনা। যদিও এসব আলোচনায় থাকা আইনজীবীরা নিজেরা অনেকটা কৌশল নিয়েই রয়েছেন।

গত নির্বাচনে সমিতির ১৭টি পদের মধ্যে সভাপতি সেক্রেটারি সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি সহ ৯টি পদে আওয়ামীলীগ প্যানেল থেকে আইনজীবীরা নির্বাচিত হন। বাকি ৮টি পদের মধ্যে যুগ্ম সম্পাদক সহ বিএনপির আইনজীবীরা নির্বাচিত হন। গত ৭ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ২৮৭ জনের কমিটি গঠন করা হয়। যেখান থেকে ১৪০ জন আইনজীবী গণপদত্যাগ করেছেন। এছাড়াও বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে গ্রুপ উপগ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। তবুও নির্বাচনের দিকেই এগুচ্ছেন আইনজীবীরা। এদিকে পাল্টা কমিটিতে গঠন করা হয়েছে যেখানে সভাপতি আবদুল বারী ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভুইয়া।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সংগঠন সংবাদ -এর সর্বশেষ