৮ আষাঢ় ১৪২৫, শুক্রবার ২২ জুন ২০১৮ , ৯:১৯ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক পদ দখলে নেতারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:৪৮ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক পদ দখলে নেতারা

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে অনেক আগে থেকেই এক নেতা একাধিক পদে নেতৃত্বে থাকার বিধান নেই। তবে বিএনপির গত সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বিধান করা হয়েছে একই নেতা একাধিক সংগঠনের বা কোন ইউনিট কমিটির একাধিক পদে থাকতে পারবে না। এক্ষেত্রে সকল ক্ষমতা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মর্জি। তিনি চাইলে একজনকে একাধিক পদেও রাখতে পারবেন। নারায়ণগঞ্জ ও মহানগরের আওতাধীন সাতটি থানা এলাকা রয়েছে। যেখানে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে দেখা যাচ্ছে যারা জেলা কমিটির নেতৃত্বে তারা আবার থানা উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে। আবার যারা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে আবার মূল দলের নেতৃত্বস্থানীয় পদ আকড়ে রয়েছেন। গত সম্মেলনে বিএনপির শ্লোগান ছিল এক নেতার এক পদ কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এক নেতার যেনো বারো পদ।

জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান একই সঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদে রয়েছেন। রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য পদেও। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহামুদ একই সঙ্গে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহআলম একই সঙ্গে রয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি পদে। আবার তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য পদেও রয়েছেন। জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস একই সঙ্গে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন জাহিদ হাসান রোজেল ও মাসুকুল ইসলাম রাজীব। রোজেল একই সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও মাসুকুল ইসলাম রাজীব জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। রাজীব এছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও রয়েছেন।

আজহারুল ইসলাম মান্নান তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদে থেকেও সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফরও জেলা কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।

মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল হয়েছেন মহানগর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। একই পদে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতেও রয়েছেন। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম মুকুল একই সঙ্গে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন।

আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এএম বদরুজ্জামান খান খসরু একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে তিন সদস্যের গঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হন অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। তিনি একই সঙ্গে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। সম্প্রতি গত ২৬ নভেম্বর গঠিত জেলা আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন মীর সোহেল আলী যিনি একই সঙ্গে ফতুল্লা থানা যুবলীগ সভাপতি পদে রয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন আবদুল কাদির যিনি একই সঙ্গে জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে রয়েছেন। এর আগে মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন জাকিরুল ইসলাম হেলাল যিনি জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহনিজাম একই পদে রয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটিতেও।

এসব নেতা ছাড়াও জেলার সাতটি থানায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মুলদল সহ এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতারা একাধিক পদে রয়েছেন। যে কারনে নেতাকর্মীরা মনে করছেন একজন নেতা একাধিক পদ আকড়ে রাখলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছেনা। আর মুল কথা হলো আওয়ামীলীগে রয়েছে একজন নেতা একাধিক সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন যা আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী। আর বিএনপিতে সরাসরি গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বলা হয়েছে এক নেতার এক পদ। এর বাহিরে কারো একাধিক পদই থাকতে পারবে না। তবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চাইলে একজনকে একাধিক পদে রাখতে পারবেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাদের এতটাই যোগ্যতা রয়েছে যে তাদের একজন একাধিক পদের মালিক। এদের মধ্যে সম্প্রতি গঠিত কমিটিতে যারা এসেছেন তাদের ঘারেও এখন একাধিক পদ রয়েছে। তারা এ একাধিক পদ ছেড়ে যাবে কবে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ