৪ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

শামীম ওসমানকে টার্গেট !


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৩২ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


শামীম ওসমানকে টার্গেট !

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি শামীম ওসমানের বাড়ি থেকে প্রবাসী যুবককে গ্রেফতারের রহস্য এক সপ্তাহেও উদঘাটন হয়নি। এমনকি শামীম ওসমানের মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজের ১৪ জন কর্মচারীকে খাবারের সাথে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করার বিষয়টিও এখনো রহস্যাবৃত। দীর্ঘদিনেও ওই দু’টি ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকায় উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এমপি শামীম ওসমান। এছাড়া রহস্য উদঘাটনে পুলিশের গড়িমসি করায় হতাশ শামীম ওসমান সমর্থকরা।

এব্যাপারে শামীম ওসমান গণমাধ্যমকে জানান, গত ১০ডিসেম্বর রাতে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে আমার মালিকানাধীন কার্গো জাহাজের কর্মচারীরা রাতের খাবারের পরই সঙ্গাহীন হয়ে পরেন। ভাগ্যক্রমে একজন কর্মচারী তখনও খাবার না খাওয়ায় সে বিষয়টি বুঝে ফেলে এবং আমাদের জানায়। মোট ১৪জন কর্মচারী জ্ঞান হারানোর পরের দিন সন্ধ্যায় জ্ঞান ফিরে পায়। তিনি বলেন, জাহাজটির ইঞ্জিনের মেশিনে বেশ কিছু লোহার রড পাওয়া গেছে যেগুলো ইঞ্জিন চালু হওয়ার সাথে সাথে জাহাজটিকে ক্ষতিগ্রস্থ করতো। হয়তো যারা কাজটি করেছে তারা কর্মচারীদের সংজ্ঞাহীন করে জাহাজে অবৈধ পণ্য রেখে আমাকে হেয় করার চক্রান্ত করেছিল। আমার ছেলে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে, তাই বিষয়টি নিয়ে যাতে প্যানিক সৃষ্টি না হয় সেজন্যই আমি তখন জানাইনি। শামীম ওসমান আরো জানান, ১৫ডিসেম্বর বিকালে প্রবাসী সুলতান মাহমুদ শুভ ওরফে শুভ খান নামের ওই যুবকটি আমার জামতলাস্থ বাড়ীর ভেতরে ও বাইরে ভিডিও করে তড়িঘড়ি করে বের হওয়ার সময় তার পরিচয় জানতে চাইলে সে নিজেকে একজন অনলাইন পোর্টালের সংবাদকর্মী বলে পরিচয় দেয়। অনলাইন পোর্টালের আইডি দেখতে চাইলে সে ব্যর্থ হয় এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। এরপর আমি তাকে স্বাগত জানিয়ে বসাই এবং মিথ্যা বলার কারণ জানতে চাইলে সে জানায় ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। আমি তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি দেখতে চাইলে সে সেটিও দেখাতে ব্যর্থ হয়। তার বাড়ীর ঠিকানা জানতে চাইলে একবার বলে বগুড়া জেলায়, আবার বলে সিরাজগঞ্জ জেলায়। এসময় তার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রও ছিল না। এক পর্যায়ে যুবকটি বলে আমি আপনার ভক্ত তাই দেখতে এসেছি। আমি তখন তাকে বলি, আমার ভক্ত হলে আমার সাথে দেখা না করে কেন গোপনে ভিডিও করে চলে যাচ্ছিলে, এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে না পারলে আমার দেহরক্ষীকে বলি তার তল্লাশী নিতে। এসময় তার মানিব্যাগ থেকে প্রচুর মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, মালয়েশিয়ার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি, সেখানকার ব্যাংক আইডিসহ মালয়েশিয়ান কাগজ-পত্র পাওয়া যায়। এই মিথ্যার কারণ জানতে চাইলে সে জানায় বেশ কয়েক মাস আগে সে দেশে ফিরেছে এবং সে উত্তরায় থাকে। কিন্তু মানিব্যাগে এত বেশী মালয়েশিয়ান টাকা কি করে রয়ে গেল এবং উত্তরা কোথায় থাকে জানতে চাইলে সে নীরব হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ফতুল্লা পুলিশকে খবর দিলে তারা তাকে নিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, হতাশ হয়ে বলতে হয় ৫ দিন অতিবাহিত হলেও আমার বাসায় ওই যুবকের গ্রেফতার হওয়ার ব্যাপারে কোন কুল কিনারা করতে পারছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। উপরন্তু যারা তদন্ত করছেন তারা বলছেন ছেলেটি ভালো ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এ কারণে এনিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি।

শামীম ওসমান বলেন, যুবকটিতে গ্রেফতারের ২দিন পর বিষয়টি ফতুল্লা থানার ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান বিষয়টি তেমন ভাবে জানেননা। এরপর দিন আমি পুলিশ সুপারকে ফোন দিলে তিনি ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি তিনি এই প্রথম শুনেছেন। আমি হতাশ যে এই ঘটনার ৫দিন পরেও কোন সমাধান সূত্র খুজে পায়নি পুলিশ। উপরন্তু তদন্তকরী পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে বলার চেষ্টা করছেন যে, ঐ যুবক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে কৌতুহল বশত আমার বাড়ীতে এসেছিল বলে ধারনা করছেন তারা। অথচ, পুলিশের ভাষায় ঐ দরিদ্র পরিবারের যুবকের কাছে ছিল কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ক্যামেরা, পোষাকাদি ছিল অত্যন্ত দামী ব্রান্ডের। আর কৌতুহল বশত এসে থাকলে ঐ ছেলেটিকে যখন পুলিশ নিয়ে যাচ্ছিল তখন তার মধ্যে কোন ভীতি বা নারভাসনেস দেখা যায়নি। বরং সে নিজেই হ্যান্ডকাফ পরাতে হাত এগিয়ে দিয়েছিল। সে সাধারণ কেউ হয়ে থাকলে পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় অন্তত আমাদের কাছে কাকুতি মিনতি করতো। শামীম ওসমান বলেন, কিছু একটা ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, মেয়র আইভীর গাড়ীর নাট খুলে যাওয়ার মত একটি ঘটনা জাতীয় কোন গণমাধ্যম না জানলেও নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সেটির বিস্তারিত প্রকাশ হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঐ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে গাড়ীর নাট খুলে গেলে কোথায় কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটতো সেটিও অবলীলায় বলা হয়েছে এবং পরিশেষে ওসমান পরিবারকে এই ঘটনায় দায়ী করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনাই প্রমাণ করছে নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল করার সূক্ষè ষড়যন্ত্র চলছে। মেয়র আইভীর গাড়ীর নাট খুলে যাওয়া, আমার জাহাজে কর্মচারীদের সঙ্গাহীন করা এবং আমার বাসা থেকে ওই যুবকের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা এক সূত্রে গাথাঁও হতে পারে। কারণ, ১৬জুনের বোমা হামলার বিচার এখনও পাইনি। বারবার স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আমাকেই টার্গেট করেছে।

এদিকে সদর মডেল থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, এমপি শামীম ওসমানের জাহাজের ১৪ জন কর্মচারী রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গাহীন হয়ে পরেছিল। এব্যাপারে জাহাজের কর্মকর্তা শিব্বির আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরদিকে ফতুল্লা থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত সুলতান মাহমুদ শুভকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ও সন্দেহজনক। এদিকে ঐ যুবকের ফেইসবুক আইডি ঘুরে দেখা গেছে, সে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে জিওমাটিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার আইডিতে বিভিন্ন ইসলামিক ভিডিও পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য দেশে প্রথম রাজাকারদের প্রতীকি ফাঁসি দেয়াসহ শামীম ওসমান এমপি সবসময়ই জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। তাকে হত্যা করতে ২০০১ সালের ১৬জুন জঙ্গী সংগঠন হরকত-উল-জিহাদ(হুজি) বোমা হামলা চালিয়ে ২০জনকে হত্যা করেছিল। বিভিন্ন সময়ে তিনি জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে একাধিক সমাবেশ করেছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ