৪ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

সিদ্ধিরগঞ্জে বিফলে গেল খোরশেদের শ্রম!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৯ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


সিদ্ধিরগঞ্জে বিফলে গেল খোরশেদের শ্রম!

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে ও পরে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জে যে সংগঠনটির ভুমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি এখন সেই সংগঠনটিকে দুমরে মুছড়ে দিচ্ছে বিএনপি নিজেই। এখানকার মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের পক্ষে বিপক্ষের নেতাকর্মীরাও একবাক্যে স্বীকার করেন মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে দেয়ার মত একমাত্র যোগ্য নেতৃত্ব খোরশেদ। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির যে ক’টি সংগঠন রয়েছে সবগুলো সংগঠনের চেয়ে শক্তিশালী মহানগর যুবদল। সেই শক্তিশালী সংগঠনটি আন্দোলন সংগ্রামে যেমন ভুমিকা রেখেছিল তেমনি হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছে যুবদলের নেতাকর্মীরাই বেশি। কিন্তু সেই সংগঠনটির নেতারা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় কঠোর শ্রম দিয়েছিলেন গুছাতে। সেই শ্রম খোরশেদের বৃথা করে দিল বিএনপি নিজেই।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সিদ্ধিরগঞ্জে থানা যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে কম ধকল পোহাতে হয়নি খোরশেদকে। থানা যুবদলের সভাপতি করা হয় মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দীন মন্তুকে। যদিও মন্তুই অভিযোগ তুলেছিলেন খোরশেদ তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পদ বানিজ্যের জন্য টাকা নিয়েছেন। এনিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও ওঠে। মন্তুকে সভাপতি করায় অপর যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর প্রধান বিরোধীতা করেছিলেন। বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল এখানেও। সিদ্ধিরগঞ্জে কমিটি গঠন নিয়ে বর্তমান জেলা বিএনপির সেক্রেটারি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহামুদের সঙ্গে খোরশেদের মতবিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

যদিও পরবর্তীতে মন্তুকে সভাপতি, জুয়েল প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক ও জুয়েল রানাকে সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্ধিরগঞ্জে থানা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রামে মন্তু নীরব হয়ে গেল সাগর প্রধানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ নিয়েও বিরোধ তুমুল পর্যায়ে চলে যায়। প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনেও বিরোধ সৃষ্টি হয়। ১০নং ওয়ার্ডের কর্মী সম্মেলনেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল একটি পক্ষ। খোরশেদ অনুগামী মঞ্জুরুল হক মুছা সম্প্রতি মারধরের শিকার হয়েছে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের দ্বারা। এনিয়ে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল যুবদলের নেতাকর্মীরা। অভিযুক্ত করেছিলেন মামুন মাহামুদের নিদের্শে মুছাকে মারধর করা হয়। এত্ত কিছুর পরেও সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে কর্তৃত্ব হারালো খোরশেদ।

এদিকে ২০ ডিসেম্বর বুধবার কেন্দ্র থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসটি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত। ইতিমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাটিকে জেলা বিএনপির আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সংসদীয় নির্বাচনের স্বার্থে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোকে জেলা শাখার স্ব স্ব অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এ চিঠির অনুলিপি জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এতে জেলা কমিটিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাটি অর্ন্তভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ও বন্দর থানার পুরো এলাকা নিয়ে মহানগর কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের ১নম্বর থেকে ১০নম্বর ওয়ার্ড এলাকাটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। অথচ এ এলাকাটি জেলায় অর্ন্তভুক্ত করা হয় মুলত সংসদীয় আসন বিবেচনা করে।

এর আগে থেকেই সিটি কর্পোরেশনের পুুুরো এলাকা নিয়ে মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের কমিটি গঠন করা হয়। এরি মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ সহ বন্দরের ৫টি ইউনিয়নেও মহানগর যুবদল কমিটি গঠন করেছে। এখন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাটি জেলায় আওতাভুক্ত করায় সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো মুলদলের নিয়মে পরিচালিত হবে বলে কেন্দ্র থেকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। ফলে মহানগরের সংগঠনগুলোকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাটি ছেড়ে দিতে হলো। কিন্তু বন্দরের ৫টি ইউনিয়ন মহানগর যুবদল আগেই নিয়ন্ত্রন করেছিল। সেখানে কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ফলে মহানগর যুবদলের পরিধি কমিয়ে মহানগর যুবদলকে আরো দুর্বল করে দেয়া হলো দাবি করেছেন নেতাকর্মীরা। সামনের আন্দোলন সংগ্রামে মহানগর যুবদলের জন্য একটি বড় ধাক্কা গেল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা হারিয়ে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ