৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ

UMo

শামীম ওসমানের আশংকা ‘কিছু ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪১ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার


বায়ে শামীম ওসমান ডানে সুলতান মাহমুদ শুভ।

বায়ে শামীম ওসমান ডানে সুলতান মাহমুদ শুভ।

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের বাড়ী থেকে গ্রেফতারকৃত প্রবাসী যুবকের বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের বক্তব্য, গণমাধ্যমে শুনেছি এক যুবক শামীম ওসমানের বাড়ির ভিডিও করেছিল। তাকে গ্রেফতার করা হলেও এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শামীম ওসমান নিজেই পুলিশের কর্মকান্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন। সেখানে বিষয়টি আরো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এটা সত্যিই উষ্মা প্রকাশের মত।

এদিকে শামীম ওসমানের মতে কিছু একটা ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। প্রতীয়মান হচ্ছে নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। মেয়র আইভীর গাড়ীর নাট খুলে যাওয়া, আমার জাহাজে কর্মচারীদের সঙ্গাহীন করা এবং আমার বাসা থেকে ঐ যুবকের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা এক সূত্রে গাথাঁও হতে পারে। কারণ, ১৬জুনের বোমা হামলার বিচার এখনও পাইনি। বারবার স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আমাকেই টার্গেট করেছে।

শামীম ওসমান জানান, আমার বাসায় ওই যুবকের গ্রেফতার হওয়ার পর এনিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু হতাশ হয়ে বলতে হয় ৬দিন অতিবাহিত হলেও এব্যাপারে কোন কুল কিনারা করতে পারছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। উপরন্তু যারা তদন্ত করছেন তারা বলছেন ছেলেটি ভালো ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

সেদিন কি হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান জানান, ১৫ডিসেম্বর বিকালে ছেলেটি আমার বাড়ীর ভেতরে ও বাইরে ভিডিও করে তরিঘরি করে বের হওয়ার সময় তার পরিচয় জানতে চাইলে সে একজন অন লাইন পোর্টালের সংবাদকর্মী বলে পরিচয় দেয়। অন লাইন পোর্টালের আইডি দেখতে চাইলে সে ব্যর্থ হয় এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। এরপর আমি তাকে স্বাগত জানিয়ে বসাই এবং মিথ্যা বলার কারণ জানতে চাইলে সে জানায় ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। আমি তখন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি দেখতে চাইলে সে সেটিও দেখাতে ব্যর্থ হয়। তার বাড়ীর ঠিকানা জানতে চাইলে একবার বলে বগুড়া জেলায়, অবার বলে সিরাজগঞ্জ জেলায়। এসময় তার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রও ছিল না। এক পর্যায়ে যুবকটি বলে আমি আপনার ভক্ত তাই দেখতে এসেছি। আমি তখন তাকে বলি, আমার ভক্ত হলে আমার সাথে দেখা না করে কেন গোপনে ভিডিও করে চলে যাচ্ছিলে, এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে না পারলে আমার দেহরক্ষীকে বলি তার তল্লাশী নিতে। এসময় তার মানিব্যাগ থেকে প্রচুর মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, মালয়েশিয়ার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি,সেখানকার ব্যাংক আইডিসহ মালয়েশিয়ান কাগজ-পত্র পাওয়া যায়। এই মিথ্যার কারণ জানতে চাইলে সে জানায় বেশ কয়েক মাস আগে সে দেশে ফিরেছে এবং সে উত্তরায় থাকে। কিন্তু মানিব্যাগে এত বেশী মালয়েশিয়ান টাকা কি করে রয়ে গেল এবং উত্তরা কোথায় থাকে জানতে চাইলে সে নীরব হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ফতুল্লা পুলিশকে খবর দিলে তারা তাকে নিয়ে যায়।

শামীম ওসমান বলেন, যুবকটিতে গ্রেফতারের ২দিন পর বিষয়টি ফতুল্লা থানার ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান বিষয়টি তেমন ভাবে জানেননা।

এরপর দিন আমি পুলিশ সুপারকে ফোন দিলে তিনি ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি তিনি এই প্রথম শুনেছেন। আমি হতাশ যে এই ঘটনার ৫দিন পরেও কোন সমাধান সূত্র খুজে পায়নি পুলিশ। উপরন্তু তদন্তকরী পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে বলার চেষ্টা করছেন যে, ঐ যুবক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে কৌতুহল বশত আমার বাড়ীতে এসেছিল বলে ধারনা করছেন তারা। অথচ, পুলিশের ভাষায় ঐ দরিদ্র পরিবারের যুবকের কাছে ছিল কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ক্যামেরা, পোষাকাদি ছিল অত্যন্ত দামী ব্রান্ডের। আর কৌতুহল বশত এসে থাকলে ঐ ছেলেটিকে যখন পুলিশ নিয়ে যাচ্ছিল তখন তার মধ্যে কোন ভীতি বা নারভাসনেস দেখা যায়নি। বরং সে নিজেই হ্যান্ডকাফ পরাতে হাত এগিয়ে দিয়েছিল। সে সাধারন কেউ হয়ে থাকলে পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় অন্তত আমাদের কাছে কাকুতি মিনতি করতো।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ