১০ বৈশাখ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৪ এপ্রিল ২০১৮ , ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

Kothareya1150x300

পুলিশের বাঁশিতেই পালালো কাজী মনির


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৪ পিএম, ৫ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:৩৩ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০১৮ রবিবার


পুলিশের বাঁশিতেই পালালো কাজী মনির

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ঘোষিত ‘গণতন্ত্রের হত্যা দিবস’ পালনের সময় পুলিশের বাঁশির শব্দ শুনে দৌড়ে ব্যানার ফেলে পালিয়ে গেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান-এমন তথ্য জানিয়েছেন সেখানে থাকা নেতাকর্মীরা। তবে তাঁর এ পলায়ন টক অব দ্যা বিএনপিতে পরিণত হয়েছে। খোদ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে তাকে চরমভাবে ভর্ৎসনা করছেন এবং এমন ভীতু কাপুরুষ নেতাকে আগামীতে আর এ ধরনের রাজপথের কর্মসূচীতে এসে নেতাকর্মীদের মনোবল না ভেঙে দিতে অনুরোধ করছেন।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টায় জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক মামুন মাহমুদ, সহ সভাপতি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার, সহ নেতাকর্মীরা চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকাতে প্যারাডাইজ ক্যাবলের সামনে কালো পতাকা নিয়ে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ এসে তাদের সরে যেতে বলে ‘বাঁশি’ বাজালে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানসহ নেতাকর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যান।

এসময় একদল নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মামুন মাহমুদ ও মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালসহ নেতাকর্মীরা অবাক হয়ে যান। কাজী মনিরুজ্জামান নিজের অনুগত নেতাদের নিয়ে এক দৌড়ে পুরো এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। কাজী মনিরের দৌড় দেখে হতবাক হয়ে পড়লেও নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তাদেরকে নিয়ে সাহসিকতার সাথে মাঠে থাকেন মামুন মাহমুদ, এটিএম কামাল, রুহুল আমিন সিকদার সহ অনেকেই।

কাজী মনিরের এহেন কর্মকান্ডে পুলিশ থেকে শুরু করে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও হাসাহাসি করেন। এমন একজন নেতা যিনি পুলিশের বাঁশি শুনেই ব্যানার ফেলে ভোঁ দৌড় দিলেন তিনি কিভাবে জেলার সভাপতি হন তাও অনেকে প্রশ্ন করেন।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার জানান, এ ব্যাপারে তেমনভাবে বলার কিছু নেই। তবে মামুন মাহমুদ ও এটিএম কামাল যেভাবে রাজপথে নেতাকর্মীদের নিয়ে থেকেছেন, মূল সড়কে উঠতে চেয়েছেন তাতে তারা প্রমাণ করেছেন তারা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। আর নেতাকর্মীদের এভাবে ফেলে কোন কারণ ছাড়াই দৌড়ে পালিয়ে যাওয়াটা সমীচীন নয়। এতে কর্মীদের মনোবলে আঘাত আসে।

পুলিশের লাঠিচার্জের আগেই কেন সভাপতি দৌড় দিলেন জানতে চাইলে শীর্ষ এক নেতা নাম প্রকাশ না করে জানান, আসলে আমাদের কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে উনিই হয়তো একমাত্র নেতা যিনি এভাবে কোন কারণ ছাড়াই দৌড়ে পালিয়ে গেলেন। বিগত সময়ে তৈমূর আলম খন্দকার যখন রাজপথে ৫জানুয়ারির দিনগুলোতে কর্মসূচী করেছেন তখনও পুলিশের গুলি, লাঠিচার্জেও তিনি রাজপথে ছিলেন। সেসময় কাজী মনিরুজ্জামান নীরব ছিলেন আর আজকে দৌড় দিলেন।  

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ