৩ মাঘ ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ

এখনো নির্যাতনের কথা স্মরণে আঁতকে উঠে শিক্ষার্থী


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৯ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ১০:০৬ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার


এখনো নির্যাতনের কথা স্মরণে আঁতকে উঠে শিক্ষার্থী

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে বিনাভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মতিউর রহমান মতির আক্রোশের শিকার হওয়া কলেজ ছাত্র এখনো মানসিক বিপর্যস্ত। চেয়ারম্যান মতি ও তার লোকজনের নির্মম নির্যাতনের পরে বিচারের নামে প্রহসনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ওই কলেজছাত্রটি। যার ফলে ওইসময় অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি ওই পরীক্ষার্থীটি। ঘটনার ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই কলেজছাত্রটি এখনো মধ্যযুগীয় ওই নির্যাতনের কথা স্মরণ করে ভয়ে আঁতকে উঠে। ওই ঘটনার পরে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছিল ওই শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত ৩০ মে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ আবু রায়হান সহ তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলায় প্রহসনের বিচারের নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ তার পরিবারকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার পরে উল্টো হুমকি দিচ্ছে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী রায়হানের পিতা রফিকুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ আল ইমরান, ছোট চাচাতো ভাই মো. নোমান আহম্মেদ, চাচা সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে রায়হান বলেন, ‘গত ৪মে রাতে আলীরটেক মুক্তারকান্দি এলাকায় আমার ছোট বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে বর পক্ষের লোক বিদায় নিয়ে ফেরত যাওয়ার সময় রাস্তায় বরের বোনকে এলাকার খবিরউদ্দিন, মতি চেয়ারম্যানের নিকটস্থ আত্মীয় নওয়াব মিয়ার ছেলে মাহবুব ও মুন্নার ছেলে আলামিন মদপান করে উত্ত্যক্ত করে ইভটিজিং করে। মেয়েটি তার প্রতিবাদ করলে তাকে চুলে ধরে মারধর করে ও ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখায়। এতে মেয়ের আত্মীয়রা তাকে ছাড়িয়ে প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলে তারা উল্টো সবাইকে আটকে রাখার ঘোষণা দিয়ে আবারো মারধর শুরু করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে তবে এর পূর্বে খবিরউদ্দিন এসে তার কর্মের জন্য ক্ষমা চায়। তবে মতি চেয়ারম্যানের আত্মীয় সহ বাকি সবাই দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বিয়ে বাড়ির গেট ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে আমাদেরকে ২ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশে খরব দিয়ে তারা আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মতি চেয়ারম্যানকে জানানো হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ি। নারায়ণগঞ্জ আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমানকে তার নিকটস্থ আত্মীয় ও তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ব্যাপারে বিচার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উল্টো বিচার করে মধ্যযুগীয় কায়দার আমাদের উপর নির্মম নির্যাতন করে। অভিযোগের প্রাথমিক পর্যায়ে মতি চেয়ারম্যান আমাদের বাসায় এসে তার ভাই, ভাতিজা ও তাদের সহযোগিদের বাদ দিয়ে শুধু খবিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বলেন। কিন্তু খবির মিয়া আমদের কাছে এ ব্যাপারে ক্ষমা চাইলে আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করতে অস্বীকৃতি জানাই এবং যারা মারামারি করে আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখল তাদের বিচার করতে বলি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এবং তার নির্দেশে নোয়াব মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে আমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে।

১৯ মে শুক্রবার বিকেলে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আমদের কথা না শুনে শুধু একতরফা বিচার করে উল্টো আমাদেরকে শাস্তি দেন মতি চেয়ারম্যান। আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলার পরেও আমাকে একশটি বেত্রাঘাত করা হয়। এছাড়াও আমাদেরকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা সহ অন্যদের শাস্তি দেয়া হয়। এসময় কেউ শাস্তির ছবি তুললে তার হাতের রগ কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ খবর স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে মতি চেয়ারম্যান সংবাদের প্রতিবাদ দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এবং সদর থানায় জিডি করা হলেও তারা কোন সহযোগীতা করছেনা। এতে মতি বলেন পুলিশ সুপার তার ঘনিষ্ট লোক তাই তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেবে না।

এদিকে সহপাঠীকে সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি কর্তৃক বিচারের নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের প্রতিবাদে এর আগে গত ২৩ মে শহরে মানববন্ধন করেছিল নির্যাতনের শিকার পরীক্ষার্থী আবু রায়হানের সহপাঠীরা। তারা নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সুষ্ঠু বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।

তবে ওই সময়ে আলীটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি বলেছিলেন, ‘গ্রাম পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে ওই ছেলের মামা ও ভাগ্নে ঝাড়–র ডাট দিয়ে দুটি আঘাত করে। তবে আমি সেই সময় বাধা দেই। মূলত এ ছেলে একটি ছেলেকে আহত করেছে। যার প্রেক্ষিতে মামলা দিয়েছে। ওরা গত কয়েকদিন ধরে এর জন্য আমার পিছনে ঘুরছে। তারা এখন পর্যন্ত বিচারের ৮০ পয়সাও দেয় নাই। এ বিচার আমি করি নাই গ্রাম পঞ্চায়েত করছে। বিচারের রায় ওনারা দিয়েছেন আমি না।

এদিকে মতিউর রহমান মতির নির্যাতনের শিকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী রায়হানের বড় ভাই ইমরান হোসেন জানান, আলীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির বিচারের নামে প্রহসনে একটি বিচারে রায়হানের উপর একশ বেত্রাঘাত করে মারাত্বক ভাবে আহত করে। এতে রায়হানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মতির আক্রোশের শিকার হয়ে রায়হান মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং পরীক্ষার সময় ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারেনি। যার কারনে এইচএসসি পরীক্ষায় রায়হানের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। যে পরীক্ষার সময় মতির বিচারের নামে প্রহসনের শিকার হয়েছে সেই পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করে রায়হান। মতির বিচারের নামে প্রহসনে আলীরটেক ইউনিয়নের বহু লোক নির্যাতনের শিকার হলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। মতির নির্যাতন থেকে আমরা আলীরটেকবাসী রক্ষা পেতে চাই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ