৪ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

অনিশ্চিত জেলা বিএনপি ও মহানগরে উচ্ছ্বাসহীন কর্মী সম্মেলন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২০ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার


অনিশ্চিত জেলা বিএনপি ও মহানগরে উচ্ছ্বাসহীন কর্মী সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মীসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার তারিখ দেয়া হলেও নানা কারণে জেলা বিএনপির সভাটি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। একইভাবে মহানগর বিএনপির কর্মীসভার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও স্থান নির্ধারন করা হয়নি এখনো আর কর্মী সম্মেলনকে ঘিরে লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা কোন উচ্ছ্বাসও।

দলের জেলার এ সম্মেলনটি রূপগঞ্জে ১৩ জানুয়ারি ও মহানগরের সভাটি ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। যদিও রূপগঞ্জে ভেন্যু নির্ধারণ করতে না পেরে সিদ্ধিরগঞ্জে ভেন্যু নির্ধারন করেছে জেলার নেতারা। কর্মী সম্মেলন নিয়ে এখন পর্যন্ত নেতাদের সাথেও কোন আলোচনা করেনি জেলা বিএনপির নেতারা। ইতোমধ্যে এই কর্মী সম্মেলন ন্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে ধোঁয়াশা।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, আগামী ১৩ জানুয়ারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কর্মীসভা কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনও জানলাম না কখন কোথায় কি? আর এক অথর্ব সংবাদপত্রে বলে ভেন্যু ঠিক হয়নি আর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার দায়িত্বটা কি? শুধু দুই একজন টাকাওয়ালার সাথে শলা পরামর্শ যদিও বিগত দিনে সাবেক সকল সংসদ সদস্যদের পায়ের নিচে বসালেও এই নেতা কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি আসলে উনাদের দারা দলকে শক্তিশালী করা নয় দুর্বল করা সম্ভব। এবারো এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয়না কারণ ১৩ তারিখ সিনেট নির্বাচনের ভোট নারায়ণগঞ্জ এ হবে আর তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশনেত্রী আর ঐদিনই কর্মীসভা দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জেলা নেতাদের সাথে আলাপ করে আর তাতেই প্রমাণিত হয় তারা কতটুকু আন্তরিক ও সমন্নয়হীন দলকে শক্তিশালী করার জন্যে। আমাদের মত তৃণমূল কর্মীদের কাছে দেশনেত্রী ও জিয়া পরিবারের যেকোন নির্দেশই শিরোধার্য।

জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার জানান, আসলে আমি নিজেও কর্মীসভা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছি। কিভাবে দুদিন পর কর্মীসভা হবে, কোথায় ভেন্যু হবে তা জানা নেই আমার। তবে বিশ্ব ইজতেমা ও সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে কর্মী সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন হবে বলে আশা করি। আর সবাইকে নিয়ে বসে এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কর্মী সম্মেলনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।

জানা যায়, ১৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে সিনেট নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জ জেলার ভোট। এখানে ৬৮০ জন ভোটার ভোট দেবেন। এদিন জেলা বিএনপির সম্মেলন করার তারিখ নির্ধারন করা নিয়ে তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। কারণ দলের চেয়ারপারসন ও মহাসচিব ইতোমধ্যে দলের সকল পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন সিনেট নির্বাচনকে জোর দিতে এবং সিনেট নির্বাচনে ভালো ফলাফল আদায় করার জন্য নেতাদের কঠোর অংশগ্রহন করতে। আর এদিন ৬৮০ জন গুরুত্বপূর্ণ ভোটারের ভোটের দিন জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলন হলে এতে ভোটে নৈতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে করছেন দলের নেতারা।

এদিকে জেলার সম্মেলনটি রূপগঞ্জে করতে চাওয়ায় জেলা বিএনপির অন্য থানার নেতাকর্মীরা এবং মূল দলের নেতাকর্মীরাও ব্যাপক ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছেন। জেলা শহরের অনেক স্পট রেখেও কেন রূপগঞ্জে জেলা বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হতে হবে তাই নিয়ে অনেকের ক্ষোভ রয়েছে। এদুটি কারনেই এবার ১৩ তারিখের জেলা বিএনপির কর্মীসভাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আর তাছাড়া এখন পর্যন্ত ১৩ তারিখ ছাড়া অন্য কোন তারিখও দেয়া হয়নি। সর্বশেষ ১০ তারিখ বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভেন্যু নির্ধারন করেছেন দলের সাধারন সম্পাদক।

এর আগে জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলন জেলার লিংক রোডের পাশে হিমালয় চাইনিজে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের নেতাকর্মীদের তুমুল চাপের মুখে পড়েন জেলা বিএনপি নেতারা। জেলা বিএনপির সভাপতি থেকে শুরু করে দলের দালালখ্যাত নেতারাও সেদিন কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। নেতাকর্মীদের ধারণা, এবার সেই লাঞ্ছনার ভয়েই রুপগঞ্জে দলের কর্মীসভার স্থান নির্ধারন করেছে দলের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কর্মীসভা ২০ তারিখই নির্ধারিত রয়েছে। এদিন মহানগরের যেকোন স্থানে এ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মহানগর বিএনপির এ কর্মীসভা নিয়ে এখনো মহানগর বিএনপির নেতারা কোন বৈঠক করেননি। এ কর্মীসভা নেই নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন উচ্ছ্বাসও লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।

মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, আমরা মহানগর বিএনপির কর্মীসভা ২০ তারিখ করবো। আমাদের ভেন্যু এখনো ঠিক করা হয়নি খুব শিগ্রই আমরা একসাথে বসে দলের কর্মীসভার জন্য একটি স্থান নির্ধারিন করবো। কর্মীসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ জানান, আমরা সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভেন্যু পেয়েছি অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছি। এখন পর্যন্ত ১৩ তারিখেই আমাদের কর্মী সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ের এ সফর হচ্ছে বিএনপির। দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি নির্বাচন ও আন্দোলনের বার্তা পৌঁছাতেই কেন্দ্রীয় নেতাদের এই তৃণমূল সফর। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কেও একটি ধারণা পেতে চান বিএনপির নেতৃত্ব, মূলত এ কারনেই দলের এ সাংগঠনিক সফর। সফর শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সংশ্লিষ্ট এলাকার একটি রিপোর্ট দেবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নির্বাচনে গেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও দলের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ