৪ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৪৬ অপরাহ্ণ

আইভীকে জবাব দিলেন সেলিম ওসমান


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:৫৭ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার


আইভীকে জবাব দিলেন সেলিম ওসমান

সিটি করপোরেশনের আয়োজনে জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী তাঁর বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের বিয়ের ব্যয় এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আমি পত্রিকায় দেখেছি গত ৯জানুয়ারী জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠান হয়েছে। যেটি আমি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উপলদ্ধি করে ছিলাম। তবে যাদেরকে নিয়ে আলোচনা, যাদের কাছ থেকে উপদেশ নেওয়ার জন্য যে আয়োজন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে আমি বা এলাকার মানুষ তেমন কোন আশার সংবাদ পাইনি। তবে শামীম ওসমানের ছেলের বিয়ে নিয়ে যেভাবে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তাতে আমার মনে হয়েছে যেন অনুষ্ঠানটি শুধু তার জন্যই হয়েছিল। সব থেকে বড় কথা এতো সুন্দর একটি অনুষ্ঠানে এ বিষয়টি আলোচনার কোন প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয় না।

তিনি আরো বলেন, যতটুকু জানি শামীম ওসমান মেয়র আইভীর বাড়িতে নিজে আমন্ত্রন পত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে মেয়র উপস্থিত হননি। সামাজিক ভদ্রতা অনুযায়ী যতই শত্রুতা মনোমালিন্য থাকুক না কেন মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকাটাই আল্লাহ পছন্দ করেন। সেই সাথে বুঝতে হবে অয়ন ওসমান শুধু শামীম ওসমানের সন্তান নয় সেলিম ওসমানের ভাতিজা ও শামসুজ্জোহার নাতি। আল্লাহ গীবত সব থেকে বেশি অপছন্দ করেন। মেয়র আইভীর সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। মন্তব্য করার আগে পারিবারিক সূত্রে উনি আমার কাছে জানতে চাইতে পারতেন কি পরিমান অর্থ খরচ হয়েছে অথবা কোন সাংবাদিক এ প্রশ্ন করতে পারতেন। আমরা প্রায়ই সাংবাদিকদের দোষারোপ করি জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য না নিয়েই পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন। এখানে প্রশ্ন থাকতেই পারে একজন সিটি মেয়র কেন কারো বিয়ের খরচ নিয়ে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করে উত্তেজনার সৃষ্টি করলো। যেখানে সাধারণ মানুষও জানে একজন সংসদ সদস্যের সকল আয় ব্যয়ের হিসাব সরকারকে প্রেরণ করতে হয়। সব কথার একথা এতো সুন্দর একটি অনুষ্ঠানে এ বিষয়টি আমার কাছে শোভনীয় বলে মনে  হয়নি।

উক্ত অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বক্তব্যের একাংশে বলেছেন, ইদানিং মোহাম্মদ আলী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। আমরা চাই না তিনি সমঝোতা করুক বা কারো সঙ্গে করাক।

এ ব্যাপারে এমপি সেলিম ওসমান প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রশংসার সাথে প্রকাশ্যে সমালোচনা যুক্তি সংঙ্গত নয়। যার যার ব্যক্তিগত অভিরুচি থাকতেই পারে। যেটি ব্যক্তিগত ভাবে প্রশ্ন করা যেত পাশাপাশি কোন পরামর্শ থাকতে দিতে পারতেন। প্রকাশ্যে সকলের সমানে এভাবে একজন মুরুব্বিকে সরাসরি তার উপস্থিতিতে এসব কথা আমার কাছে শোভনীয় মনে হয়নি। ব্যক্তি মোহাম্মদ আলী আর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী এক নয়। আল্লাহ যাকে সম্মান দেন তাকে সম্মান করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। যেমন আমিও কখনই প্রকাশ্যে কোন জনপ্রতিনিধির সমালোচনা করি না। তিনি আমার দলের হোক বা অন্য কোন দলের হোক। এমনকি আমি মেয়রকেও সম্মান করি। এক হচ্ছে তিনি সিটি করপোরেশনের মেয়র। অপরটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্শীবাদে উপমন্ত্রী মর্যাদায় ভূষিত। সুতরাং আমি তাকে সম্মানিত ব্যক্তি বলে মনে করি।

তিনি আরো বলেন, যারা নেতৃত্ব দেন তারা কোন প্রকার উত্তেজিত বা রাগান্বিত হয়ে কোন আলোচনা সভা করা ঠিক নয়। ওই সভায় আমি উপস্থিত থাকলে নগরীর জলাবদ্ধতা এবং পয়নি:স্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সদস্যা সমাধানের দাবী রাখতাম। উক্ত বিষয় গুলোর সমাধানে মেয়র ৬ মাসের সময় নিয়েছেন। আমাদের উচিত সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগীতা করা। সাংবাদিক সহ সকলের প্রতি অনুরোধ রাখবো যে কারনে আলোচনা সভাটির আয়োজন সেই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে শহরর উন্নয়ন পরিকল্পনা করা। কোন বিষয় নিয়ে কাদাঁ ছুড়াছুড়ি না করাই শ্রেয়। অতীতে এ ধরনে ঘটনা সকল পক্ষ থেকেই হয়েছে। যার জন্য আমরা নারায়ণগঞ্জের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছি। চিন্তা করলে হতবাক হতে হয়। আমাদের ঐতিহ্যের প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জে এখন পাটের ব্যবসা নাই। স্পিনিং মিলগুলো অস্তিত্ব হারিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কন্টেইনার পোর্ট হওয়ার কথা ছিল সেটি পানগাঁও চলে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন করার জন্য যথাযথ দিক নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দিয়েছে। যা বাস্তবায়নের জন্য নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজনীতিবিদরা নিজেদের দলে দলে কোন্দল একে অন্যের সমালোচনা বিভিন্ন দল থেকে পেশী শক্তি সঞ্চালন এগুলোতে বেশি উৎসাহি হয়ে উঠছে। অতীতের ভুল ত্যাগ করে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ক্রিড়া সাংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ভুল হতেই পারে ভুল শুধরানো যেতে পারে। কোন অবস্থায় জনপ্রতিনিধি হয়ে নিজেদের ভুলের জন্য এলাকার মানুষের ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।

অবৈধ হকার উচ্ছেদের ইস্যুতে তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি একদিকে হকার যেমন উচ্ছেদ করতে হবে অপরদিকে শহরে যেন বেকারত্ব বেড়ে না যায় সে দিকে নজর দিতে হবে। এ জন্য প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধি এক টেবিলে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ