১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, রবিবার ২৭ মে ২০১৮ , ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

হকারদের আর্তনাদে মানবিকতা বিপন্ন


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:৫২ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৪:৫২ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার


হকারদের আর্তনাদে মানবিকতা বিপন্ন

নারায়ণগঞ্জ শহরে উচ্ছেকৃত হকাররা ‘মানবিক’ বিপর্যয়ে আছেন উঠে এসেছে তাদের কণ্ঠে। আবেগ আপ্লুত আর কান্নাজড়িত কণ্ঠে অনেক হকার বলেছেন, গত ২৫ দিন ধরে যেভাবে আমাদের উপর অত্যাচার চলছে সেখানে আমরা খেয়ে না খেয়ে আছি। বাসায় চুলা জ্বলছে না। ছেলে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারছি না। চরম মানবেতর অবস্থায় আছি।’

১৫ জানুয়ারী সোমবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় সলিমুল্লাহ সড়কে হকারদের সমাবেশে বেশ কয়েকজন হকার এসব দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

ওই সমাবেশে উপস্থিত হন শামীম ওসমান। তখন তাঁর পায়ে ধরে অনেকে কৃপা চান যে কোন মূল্যে যাতে ফুটপাতে বসার সুযোগ পান।

সভায় কমিউনিস্ট পার্টি জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, অনেক হকার ২৫ দিন ধরে ঠিকমত খেতে পারছে না। অনেকের বাড়িতে চুলা জলছে না। স্কুলে যাবে সন্তানেরা সেই টাকাও যোগাড় করতে পারছে না। এক কথায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে আছেন হকাররা।

দিলরুবা নামের এক হকার বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে চাষাঢ়ায় জিয়া হলের সামনে কলা বিক্রি করি। কিন্তু আমার দোকান লাথি মেরে উঠিয়ে দিয়েছে। ১৫ বছর ধরে আমার স্বামী প্যারালাইসিস। কলা বিক্রির টাকায় সংসার চালাচ্ছি।

ইয়াসমিন আক্তার নামের এক হকার বলেন, দেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে যদি খাওয়াতে পারে তাহলে মাত্র ৫ হাজার হকারের জন্য কেন ব্যবস্থা না।

ওই সমাবেশে শামীম ওসমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে না খাইয়ে রাখার রাজনীতি করেন না। দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার রাজনীতি করেন তিনি। সেই নেত্রীর দেশে এভাবে হকারদের পেঠে লাথি মারা হবে সেটা সহ্য করা হবে না। তিনি বলেছেন আগে বিকল্প ব্যবস্থা করো তার পর উচ্ছেদ করো।

বক্তব্যের শুরুতেই শামীম ওসমান বলেন, হকারদের এ সমাবেশে এসে আমি লজ্জিত ও দুঃখিত। কারণ স্বাধীন বাংলাদেশে একজন নাগরিক হওয়ার পরেও জীবিকার তাগিদে হকারদের এভাবে মাঠে নামতে হয়েছে। আর এর পেছনে আমাদের মত কোন কোন রাজনীতিকের চাপ কিংবা নির্দেশও ছিল যে ফুটপাতে বসলেই যেন লাঠিপেটা করা হয়। এত নির্যাতনের পরেও শুধুমাত্র ছেলে মেয়ে আর সংসার চালানোর জন্য দুই বেলা একটু পেট ভরে ভাত খাওয়ার জন্য হকাররা আন্দোলন করে যাচ্ছে। অথচ ভোট আসলে এসব হকারদের কাছেই আমরা প্রথমে ছুটে যাই। তাদের কেউ আমাদের মাথায় হাত রেখে আর সে ছবি তুলে প্রচারণা চালাই। ভোটের আগে তারা থাকে মানুষ আর ভোটের পর তারা হয়ে যায় অমানুষ। কিন্তু আমি শামীম ওসমান এসব ভন্ডামির রাজনীতি করি না।

তিনি বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে এ অবস্থা চললেও আমি কোন কথা বলি নাই। দেখতে চেয়েছি বিবেকবান কারা তাদের পক্ষে আসে। কিন্তু অনেকেই আসে না। কারণ যারা কষ্ট বুঝে তারাই হকারদের মানুষ মনে করবে। যারা ক্ষুধার জ্বালা বুঝবে না তারাই হকারদের উচ্ছেদ করে। আমি দেশের অন্যতম একজন ধনী পরিবারের সন্তান হলেও ৭৫ পরবর্তী সময়ে বড় ভাই (নাসিম ওসমান) বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবীতে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়, মেঝো ভাইকে (সেলিম ওসমান) বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনীরা ধরে নিয়ে যায় তখন আমরা এক বেলা খেয়েছি আর ২ বেলা খেতে পারি নাই। ৮১ সালে আমি শত শত শিক্ষার্থীর এক সিগন্যাচারে বেতন মওকুফ করে দিয়েছি। কিন্তু তখন মাত্র ৯শ টাকার জন্য আমি ফরম ফিলাপ করতে পারি নাই। ক্ষুধার জ্বালা আমি বুঝি। সে কারণেই হকারদের পাশে এসেছি। ২ বেলা না খেয়ে থাকুন দেখবেন বুঝবেন না খাওয়ার কষ্ট কী। আমিও চাই না ফুটপাতে হকার থাকুক। এভাবে হকার উচ্ছেদ সমুচিত না। অন্তত ২মাস আগে তাদের নোটিশ দেওয়া প্রয়োজন ছিল না। আর কোন কোন মৌসুম আসলেই হকারদের উপর অত্যাচার হয়। ঈদের সময়ে, নববর্ষ আর শীতের সময়েই কেন হকারদের উচ্ছেদ হয়। হকার উচ্ছেদ করে দিলাম কিন্তু কেউ চিন্তা করলাম না ওই হকার আজ কী খাবে আগামীকাল কী খাবে।

তিনি বলেন, হকার উচ্ছেদ করবেন আপনি আর গালি খাবেন আমার নেত্রী শেখ হাসিনা এটা করতে দিতে হবে না।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মানুষ মানুষের জন্য -এর সর্বশেষ