১১ ফাল্গুন ১৪২৪, শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ , ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ

primer_vocational_sm

‘এটা আইভীর সঙ্গে শামীম ওসমানের লড়াই না’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৫:৪৭ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৯:০৩ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার


‘এটা আইভীর সঙ্গে শামীম ওসমানের লড়াই না’

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এমপি শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ওই ঘটনা শামীম ওসমানের সঙ্গে আইভীর কোন লড়াই না। এটাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা অনেকেই উপস্থাপন করেনি। বিএনপি ক্যাডার ও জোড়া খুনের আসামী বেষ্টিত হয়ে আইভীর মিছিল থেকে গুলি করা হয়েছে।

১৭ জানুয়ারী বুধবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় রাইফেল ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন। ওই সময়ে তিনি ঘটনার দিনের কিছু ভিডিও ও স্থিরচিত্র সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হকার ইস্যুতে আইভী অনুগামীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তখন হকারদের পক্ষে শামীম ওসমানের অনুগামী অনেক লোকজন জড়ো হন। ওই ঘটনায় ৩জন গুলিবিদ্ধ সহ অন্তত শতাধিক আহত হয়।

এটা শামীম ওসমান বনাম আইভী ঝগড়া না
‘নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত উচ্ছেদ নিয়ে মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারী শহরে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সেটা শামীম ওসমানের সঙ্গে মেয়র আইভীর কোন লড়াই বা ঝগড়া না’ মন্তব্য করেছেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের প্রকৃত ঘটনা অনেকেই সঠিকভাবে তুলে ধরেনি। প্রকৃত ঘটনা উত্থাপন হলেই প্রতীয়মান হবে কিভাবে কী ঘটেছে। এটা আমার সঙ্গে আইভীর লড়াই না। এটা হকারের সঙ্গে আইভীর লোকজনদের সংঘর্ষ। দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদেরের ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে থামাতে গিয়েছিলাম। না গেলে অনেকের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। আমি যাওয়ার পর সেখানে কোনও ঘটনা ঘটেনি। একটা ইটও পড়েনি।’

হকারের পক্ষেই থাকবো
শামীম ওসমান বলেন, আমি নিজেও চাই না বস্তি থাকুক ফুটপাত থাকুক। আমাদের দেশের ৮৫ ভাগ মানুষ নি¤œবিত্ত। তাদের শীতের কাপড় কেনার ভরসার স্থল হলো ফুটপাত। আমি কিংবা আমার দল আমাদের প্রধানমন্ত্রী গরীব মানুষের পেটে লাথি দেওয়ার রাজনীতি করে না। কিন্তু কোন ধরনের নোটিশ ছাড়াই গত ২৫ ডিসেম্বর শহরের ফুটপাত থেকে হকারদের তুলে দেওয়া হয়েছে। সেদিন হকারদের মালামাল নিয়ে নগর ভবনের সামনে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন হকাররা আমার কাছে আসলে আমি বলেছিলাম আমার কিছু করার নাই। এটা সিটি করপোরেশন দেখবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই হকারদের পুনর্বাসন করতে বলেছেন আগে। তারপর উচ্ছেদ করতে বলেছেন।

বাম নেতারাই আইভীকে আইভী বানিয়েছেন
শামীম ওসমান বলেন, হকার উচ্ছেদের পর বাম নেতারা ঢাকা থেকে এসে একের পর এক সমাবেশ করেছে। মঞ্জুরুল আহসান এসেছিল সমাবেশ করে বক্তৃতা দিয়েছেন। যেসব মারা নেতারা আইভীর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে আইভীকে আইভী বানানোর জন্য কাজ করেছে মনে করেছিলাম এসব বাম নেতাদের আহবানে আইভী সাড়া দিবেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। তার পর আমার বড় ভাই এমপি সেলিম ওসমান একটি চিঠি দিল মেয়রকে। কিন্তু জবাব দিল সিটি করপোরেশনের একজন কর্মচারী। সেখানে কিছু জায়গার নাম দেওয়া হলো। কিন্তু এসব জায়গা সিটি করপোরেশনের না। পরে আমি গত ১৫ জানুয়ারী চাষাঢ়ায় হকারদের সমাবেশে গেলাম। সেখানে ইচ্ছে ছিল অনুরোধ করবো। কিন্তু হকারদের কান্না আর পায়ে জড়িয়ে আকুতি দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারি নাই। তখন আমি বলেছি ২১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত হকার যেন বসে। কারণ আমিও চাই এ সময়ের মধ্যে তাদের পুনর্বাসন করা হউক।

প্রয়োজনে দল ছেড়ে দিব
কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েই শামীম ওসমান বলেন, গরিব অসহায়দের জন্য আমি সব সময়ে কাজ করবো। যদি তাদের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমাকে দল ছেড়ে দিতে হয় দিব। এতে কোন আপত্তি নাই। তার পরেও যদি গরীবেরা বেঁচে থাকে। আমাকে গালি দেন তবুও হকারদের জন্য কিছু করেন। আমার যা সাধ্য আমি তাই করবো। আমি এখন আল্লাহকে খুশী করতে রাজনীতি করি। আমার এলাকাতে আমি জমিদারিত্ব করবো এটা সঠিক না। রাজনীতি মানে সবার জন্য কাজ করা।


সিটি নির্বাচনে উলট পালট হয়েছিল!
গত বছরের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘উলট পালট’ হয়েছিল বক্তব্যে উল্লেখ করলেও এর বিশদ ব্যাখা দেননি তিনি।

‘২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কর্মকান্ড দলের উপরও বর্তায় সে কারণেই হকারদের মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের পক্ষ নিয়েছি।’ বক্তব্যে যোগ করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আমি কী করেছি কিভাবে নির্বাচনের আগে সবকিছু উলটপালট করেছি সেটা সময় হলেই বলবো। কিভাবে পাশ করিয়েছি দল করি তো তাই সব বলতে পারছি না। আমাকে ধন্যবাদ তো দূরের কথা আমার বাবাকে নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আমাকে নিয়েও কথা বলা হচ্ছে। সম্মান করাটা হলো ভদ্রতার শামিল। আমি মনে করি আইভী এখন কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

প্রসঙ্গত গত নির্বাচনে আইভী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে প্রায় ৮০ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিল। ওই নির্বাচনে শামীম ওসমান আইভীকে শাড়ি পাঠিয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে সেটাও উল্লেখ করা হয়।

আইভীর বাসায় নিজে দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলাম : শামীম ওসমান
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের দাবী তিনি তার ছেলের বিয়ের দাওয়াত দিতে নিজেই সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসায় গিয়েছিলেন।

শামীম ওসমান বলেন, বিয়ে সাদি এগুলো সামাজিকতা। আমার একমাত্র ছেলে যিনি আইভীকে ফুফু বলে ডাকে তার বিয়ের দাওয়াত দিতে আমি অনেকের বাড়িতে যেতে পারি নাই। কিন্তু আমি আইভীর বাসায় গিয়েছিলাম তাকে ও তাঁর মাকে দাওয়াত দিতে। এক ঘণ্টা বাসার নিচে অপেক্ষার পরেও কেউ নিচে নেমে আসেনি। এক ভাই এসে কার্ড নিয়ে গেছে। বিয়েতে আসেনি যাননি এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু আইভী বলে দিল আমি নাকি ২৫ কোটি টাকা খরচ করেছি। জানি না ২৫ কোটি টাকা কত টাকায় হয়। আমার সামর্থ থাকলে ২৫শ কোটি টাকা খরচ করতে প্রস্তুত আছি।

বিএনপি ক্যাডার বেষ্টিত হয়ে আসেন আইভী
শামীম ওসমান বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমাকে পুলিশ থেকে জানানো হলো আইভী মিছিল করে আসবেন। আমি তখন হকারদের বলে দিলাম কেউ কোন বাধা দিবে না। আইভী তার কাজ করুক। কিন্তু পরে জানলাম আইভী বিএনপির যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, বিএনপির ক্যাডার সুমন, জোড়া খুনের মামলার আসামীর লোকজন বেষ্টিত হয়ে মিছিল নিয়ে আসলো। তাদের মিছিল চাষাঢ়ায় আসার পর সুমন নামের একজনকে গুলি করতে দেখা গেছে। সঙ্গে থাকা সুফিয়ানকেও (জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) দেখলাম অস্ত্র বের করে গুলি করতে। সে কেন অস্ত্র নিয়ে আসলো।

নিয়াজুলকে ৩বার পেটানো হয়
সংঘর্ষের ঘটনায় নিয়াজুল ইসলাম নামের যে যুবলীগ নেতার হাতে অস্ত্র দেখা গেছে সে ব্যাপারেও ব্যাখা দিয়েছেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, নিয়াজুলের অনেক ঘটনা মিডিয়াতে আসে নাই। বার বার নিয়াজুলকে শামীম ওসমানের লোক বলা হলো। প্রকৃত হলো নিয়াজুল এক সময়ে আমাদের কর্মী ছিল। নিয়াজুল হলো নজরুল ইসলাম সুইটের ছোট ভাই। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে কারাগারে থাকা সুইটকে বাইরে এনে হত্যা করা হয়েছে। তার অপরাধ ছিল সুইট আওয়ামী লীগ করে ও বিএনপির সময়ে তাদের নেত্রীকে কালো পতাকা প্রদর্শন করেছিল। সেই সুইটের ভাই মঙ্গলবার বিকেলে একা একা হেঁটে আসার সময়ে মিছিল থেকে তিনবার মাটিতে ফেলে ১০ মিনিট ধরে পেটানো হয়। চতুর্থবার বাধ্য হয়ে নিয়াজুল লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে। তার পিস্তলটি খোয়া গেছে কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল গেলে তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তার পরেও বলবো যদি নিয়াজুল সেখানে কোন অন্যায় করে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সে কোন গুলি করলে সেটাও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ