নিয়াজুলের অপ্রদর্শিত চিত্রে বিব্রত আইভী শিবির! (ভিডিও)

৩ ভাদ্র ১৪২৫, শনিবার ১৮ আগস্ট ২০১৮ , ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

নিয়াজুলের অপ্রদর্শিত চিত্রে বিব্রত আইভী শিবির! (ভিডিও)


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০২:৪০ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:৪৩ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার


নিয়াজুলের অপ্রদর্শিত চিত্রে বিব্রত আইভী শিবির! (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যুতে সৃষ্ট ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় নিয়াজুল নামের এক ব্যক্তির হাতে অস্ত্র থাকার যে ভিডিও ও স্থিরচিত্র সর্বত্র প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে সে ঘটনার শুরুতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নিয়াজুল পিস্তল হাতে থাকলেও শুরুতে তাকে তিন দফায় রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়। ওই সময়ে তার গলায় ও বুকের উপর লোকজন উঠে চেপে ধরে হত্যারও চেষ্টা করে। তিন দফা মারধরের শিকার শেষে নিয়াজুল কোমর থেকে অস্ত্র বের করার পর সে কোনভাবে ঘটনাস্থল থেকে ছুটে আসেন। কিন্তু তখনো তাকে মারধর করে পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে যুবলীগের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

আইভীর সঙ্গে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন বার বার নিয়াজুলকে নিরাপদ স্থানে যেতে সহায়তা করলেও সঙ্গে থাকা বিএনপি ও জামায়াতের অতি উৎসাহী লোকজন পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে নিয়াজুলকে টার্গেট করেই ওই পিটুনী দেয়। ভিডিওতে এও দেখা গেছে, প্রথমে রাস্তার পাশের ফুটপাতে, দ্বিতীয় দফায় রাস্তার মধ্যে ও তৃতীয় দফায় নিয়াজুল চলে যাওয়ার সময়ে পেছন থেকে ওই হামলাটি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যেভাবে দুই দফায় রাস্তায় ফেলে নিয়াজুলকে পেটানো হয়েছে সেটা ছিল নিছক হত্যার উদ্দেশ্যে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জের কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে এসব চিত্র। যদিও গণমাধ্যমে ঘটনার শুরুর বিষয়টা উহ্য রেখে শুধুমাত্র অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টিই উঠে এসেছে। আর এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও এসেছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর দাবী তাকে হত্যার জন্য নিয়াজুল অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। আর এমপি শামীম ওসমানের দাবী, নিয়াজুল জীবন বাঁচাতে অস্ত্র বের করেছিল।

আইভী ও তার লোকজন বার বার নিয়াজুলের অস্ত্রের ঘটনাটিকে হাইলাইট করলেও এর পেছনের ভিডিও প্রচারের পর তারা রয়েছেন বেশ বিব্রতে।

ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে আইভীর নেতৃত্বে লোকজন শহরের চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কের জীবন বীমা ভবনের মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের সামনে আসলে একজন হকারের সঙ্গে তুমুল বাকবিতন্ডা ঘটে। ওই সময়ে একজন যুবক বয়সী হকারকে বেধড়ক মারধর করে আইভীর সঙ্গে থাকা লোকজন। ওই সময়ে আইভী তার বহর নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলেও সঙ্গে থাকা লোকজন সেটা করতে দেয়নি। বরং তারা বার বার আইভীকে সামনের দিকে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। আইভীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীকেও দেখা গেছে বহরকে আটকে দিতে। বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানও স্বীকার করেছেন, আইভীর সঙ্গে থাকা লোকজন ঠেলে আইভীকে সামনের দিকে নিয়ে আসেন।

ভিডিওতে আরো দেখা গেছে, মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের সামনে ওই হকারকে মারধরের পর পাশে থাকা মাসুদা প্লাজার নিচে থাকা নিয়াজুল ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে মারধর না করার অনুরোধ করেন। তখন আইভীর বহরের সামনে থাকা লোকজন নিয়াজুলের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান এনে নিয়াজুলকে চলে যেতে বলেন ও লোকজনদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। একই কাজটি পরে এসে করেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির। কিন্তু তখন ওই বহরে থাকা লোকজন হঠাৎ করে নিয়াজুলকে ধাক্কা দিতে দিতে সামনের দিকে ঠেলে দিতে থাকে। সায়ামা প্লাজার সামনে ধাক্কাতে ধাক্কাতে আনার পর সেখানে ফুটপাতে পড়ে যান নিয়াজুল। তখন ৩০ থেকে ৪০ জন নিয়াজুল বেধড়ক পেটাতে থাকে। তার বুকের উপর ও গলায় চাপ দিয়ে ধরে একের পর এক মারধরের শিকার হন নিয়াজুল। এক পর্যায়ে সে কোনমতে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে চাষাঢ়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও লোকজন গিয়ে নিয়াজুলকে দ্বিতীয় দফায় ফুটপাতে ফেলে মারধর করতে থাকে। তখন নিয়াজুল ফুটপাত থেকে রাস্তায় পড়ে গেলে মারধরের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। আশেপাশের লোকজন কোনমতে নিয়াজুলকে উদ্ধার করলে সে দ্রুত চাষাঢ়ার দিকে যেতে থাকলে তৃতীয় দফায় পেছন থেকে লাথি মারতে দেখা যায় কয়েকজনকে। ওই অবস্থায় পেছন থেকে লাঠিসোটা নিয়ে লোকজন আগালে নিয়াজুল কোমর থেকে লাইসেন্স করা পিস্তল বের করেন। এ অবস্থায় ৪ থেকে ৫জন যুবক গিয়ে আবারও মারধর করে নিয়াজুলের পিস্তল ছিনিয়ে নেন।

এদিকে গণমাধ্যমে শুধুমাত্র নিয়াজুলের পিস্তল হাতে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়। নিয়াজুল এক সময়ে শামীম ওসমানের কর্মী ছিল সেটা রেশ ধরেই বিষয়টি শামীম ওসমানের উপর বর্তানোর চেষ্টা করা হয়। আইভী সে সুযোগটি নিলেও শুরুতে নিয়াজুলকে পেটানোর চিত্রটি উহ্য থাকে সর্বত্র। তবে সে ভিডিও চিত্র প্রচারের পর বিষয়টি এখন ভিন্ন দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রশাসনও নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিয়াজুল নামের যে ব্যক্তি অস্ত্র বের করেছিল তার সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি । তিনি একজন ব্যবসায়ী। তবে তিনি কি কারণে সেখানে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারেও খোজঁ নেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে যে পিস্তলটি তার হাতে দেখা গিয়েছে সেটির লাইসেন্স আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা যাচ্ছে।’

ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ