১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, শনিবার ২৬ মে ২০১৮ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ

‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ প্রচারণায় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের আইনজীবীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:০০ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:০০ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার


‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ প্রচারণায় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের আইনজীবীরা

আগামী ৩০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে এবার মিটিং মিছিল সভা সমাবেশ নির্বাচন আচরণবিধিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুরিভোজের অনুষ্ঠানও নিষিদ্ধ। তবে চলতি সপ্তাহে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দুটি প্যানেলকেই দেখা গেছে পুরো প্যানেল প্রার্থী আইনজীবীদের নিয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির আইনজীবীরা একসাথে প্রচারনায় নেমেছেন।

কিন্তু এবার ১৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সেই প্রচারণায়ও ভিন্নতা এনেছে আইনজীবীরা। এবার দুটি প্যানেলের আইনজীবীরা আন্ডারগ্রাউন্ড প্রচারনায় নেমেছেন। দুটি প্যানেলের প্রার্থী সহ আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নিজ নিজ কৌশলে নিজেদের মত করে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। কারন প্রার্থীরা মনে করছেন প্রকাশ্যে শোডাউন দেয়ার চেয়ে আইনজীবীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করাটাই বেশি কার্যকর। প্রার্থীরাও বলেছেন আন্ডারগ্রাউন্ড প্রচারণাটাই বেশি দরকারি। সকল প্রার্থীরা একসাথে হয়ে আদালতপাড়ায় শোডাউন করলে তাতে ভোট বাড়েনা। এতে সময়ও নষ্ট হয়। তার চেয়ে প্রার্থীরা নিজ নিজ কৌশলে আইনজীবী ভোটারদের কাছে গিয়ে আকুতি মিনতি বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রতি দিয়ে ভোট আদায় করাটাই উত্তম।

সেই সঙ্গে দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা দুজন তিনজন করে টিমওয়ার্ক করেও কাজ করে চলেছেন। এসব প্রার্থীদের টিমওয়ার্কে আবার সিনিয়র আইনজীবীরাও প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের কাছে যোগ্যতা তুলে ধরছেন। এছাড়াও অতীতে যারা নেতৃত্বে ছিলেন তাদের নেতৃত্বে থাকাকালীন সময়ে যা যা উন্নয়ন করেছেন সেইসব উন্নয়নগুলো আইনজীবীদের কাছে তুলে ধরছেন।

এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, আদালতপাড়ায় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের দলীয় চিন্তা ভাবনা করে এমন ভোটার সংখ্যা কম। যারা মুলত নেতৃত্বে থাকেন তারাই প্যানেল ভোট দেন। আর বাকি আইনজীবীরা আত্মীয়তার সম্পর্কে, বন্ধু বান্ধবী ও প্রার্থীদের গ্রহনযোগ্যতা দেখেই ভোট দেন।

আইনজীবীদের অনেকেই বলেছেন, এখন আওয়ামীলীগ সরকারী দলে। তাই সরকার দল সমর্থিত প্যানেলকেই ভোট দেয়া উচিত। এ বিষয়ে আদালতের একজন সাধারণ ভোটার অ্যাডভোকেট দিলীপ বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামীলীগ এখন সরকারে রয়েছে। আইনজীবীদের যে কোন সমস্যা সরকারি দলটি সমাধান করতে পারবে। যে কোন সুযোগ সুবিধাগুলো পেতে হলে সরকারের সমর্থন দরকার। তাই আমি মনে করি আইনজীবীরা এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ভোট দিবে। কারণ স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন ডিজিটাল বার ভবন করে দিবেন। ডিজিটাল বার ভবন হলে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা হবে এবং নারী আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা সহ আধুনিক একটি কমনরুম হবে। ডিজিটাল বার ভবন করতে হলে সরকার সমর্থনপুুষ্ট প্যানেলকেই আমরা সাধারণ ভোটাররা ভোট দিব।’

এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া। সমিতিতে এর আগে টানা দুবার হাসান ফেরদৌস জুয়েল সাধারণ সম্পাদক ও মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া টানা দুবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগেও তারা একাধিক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ প্যানেলে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ মিয়া, সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দিন, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান কাজল, ক্রীড়া সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবুল বাশার রুবেল, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল হক সুমন, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সুভাষ বিশ্বাস, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট স্বপন ভূইয়া, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান ইনা, কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, অ্যাডভোকেট রাশেদ ভূইয়া, অ্যাডভোকেট সোয়েব আহমেদ শুভ, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান ও অ্যাডভোকেট রুমানা আক্তার নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট জহিরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাষানী ভুইয়া নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন। এর আগে সমিতিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ভাষানী। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেও পরাজিত হন। জহিরুল হক এর আগে সমিতিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান রেজা, সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন মাসুম, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট একেএম ওমর ফারুন নয়ন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মাসুম, ক্রীড়া সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম সুমন, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শারমীন আক্তার, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী, অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব গোলাপ, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আনু, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ফাহিম ও অ্যাডভোকেট আল আমিন সবুজ প্রমুখ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ সাগর।

আগামী ৩০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরে নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন, নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন নান্নু, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা, অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম ও অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার বেগম। আপিল বোর্ডে রয়েছেন অ্যাডভোকেট শওকত আলী, অ্যাডভোকেট রমজান আলী ও অ্যাডভোকেট হারুন উর রশিদ।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ