২ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , ২:৩৩ অপরাহ্ণ

UMo

পারভেজের পথে নিয়াজুল!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:৩৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার


বায়ের ছবিতে অস্ত্র হাতে নিয়াজুল। ডানে ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল চাষাঢ়া শহীদ মিনারে পারভেজ।

বায়ের ছবিতে অস্ত্র হাতে নিয়াজুল। ডানে ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল চাষাঢ়া শহীদ মিনারে পারভেজ।

জহিরুল ইসলাম ভূইয়া পারভেজ ও নিয়াজুল ইসলাম এ দুইজনের একটি ঘটনা বেশ সাদৃশ্য। ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে একটি অনুষ্ঠানে হামলা করতে দেখা যায় পারভেজকে। সেদিন সাংস্কৃতিক জোটের লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এর কয়েকদিন পর থেকেই সে নিখোঁজ থাকে। পরিবারের অভিযোগ তাকে গুম করা হয়েছে। ওই ঘটনার মামলায় সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভাই সহ বেশ কয়েকজনকে মামলার আসামী হয়ে কারাভোগ করতে হয়েছে।

এদিকে সেই মেয়র ইস্যুতে গত ১৬ জানুয়ারী ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে আইভীর নেতৃত্বে যে পদযাত্রা আসে চাষাঢ়ায় সেখানে দেখা গেছেন নিয়াজুলকে। এক পর্যায়ে সে কোমরে থাকা অস্ত্র বের করে। যদিও সেটা ছিল লাইসেন্স করা। ওই ঘটনায় নিয়াজুর মারধরের শিকার হয়ে থানায় তার অস্ত্র খোয়ার ঘটনায় জিডি করতে আবেদন করেন। কিন্তু পুলিশ আবার তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে সেই পারভেজের পথেই আবার নিয়াজুল গেল কী না।

দুইজন ব্যক্তির সবচেয়ে বড় মিল হলো এত এত মানুষের সামনে দুইজন একা একা গিয়েছিলেন।

এদিকে ১৬ জানুয়ারী চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে হকার ইস্যুতে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সেখানে সূত্রপাতের একটি কারণ নিয়াজুলের গমন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে আইভীর নেতৃত্বে ফুটপাত ধরে যে বহর আসছিল জনতার সেখানে নিয়াজুলকে দেখা গেছে যেতে। সায়ামা প্লাজা পার হয়ে মাসুদা প্লাজার সামনে আইভীর বহরের সামনে পড়ে যান নিয়াজুল। এক পর্যায়ে তাকে প্রথমে ধাক্কা দেয় ও পরে মারধর করে। শেষে নিয়াজুল কোমর থেকে পিস্তল বের করে। ওই চিত্র ও ভিডিও এখন সর্বত্র আলোচিত। তাছাড়া আইভীর অভিযোগ, নিয়াজুল হলেন শামীম ওসমানের লোক। আমাকে (আইভী) হত্যা করতেই নিয়াজুল অস্ত্র হাতে এসেছিল।

আর শামীম ওসমানের দাবী, নিয়াজুলকে ৩ দফা রাস্তায় ফেলে মারধরের পর সে কোমর থেকে পিস্তলটি বের করে।

এদিকে ওই ঘটনার সময়ে নিয়াজুল তার পিস্তলটি হারিয়ে ফেলে। পরে থানায় এ সম্পর্কিত জিডি করতেও আবেদন করা হয়। কিন্তু নিয়াজুলের অস্ত্র বের করার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সর্বত্র আলোচিত হয়। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা অস্ত্র প্রদর্শণ করেছে তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। তবে পুলিশ বলছে তারা নিয়াজুলকে খুঁজছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রশ্ন উঠেছে নিয়াজুল কী ইচ্ছে করে ঘটনাস্থলে গিয়েছে নাকি কেউ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে পাঠিয়েছে। কারণ যেখানে আইভী লোকজন নিয়ে অনেকটা মিছিলের মত করে আসছিল সেখানে কেনই বা নিয়াজুল একা গেল।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদ সমাবেশে পিস্তল নিয়ে হাজির হন যুবলীগের নেতা জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া পারভেজ। সমাবেশে উপস্থিত দর্শক পারভেজকে পিটুনি দেয়। তখন তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁকে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষুব্ধ লোকজন। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া।

এরপর ৬ জুলাই পারভেজ ও তার স্ত্রী সোহানা ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের দিকে আসছিলেন। গুলশানের ২নং সেক্টরে গাড়িটি আসা মাত্র একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে আসা ১০-১২ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি গাড়িটি গতিরোধ করে। তখন ব্যক্তিরা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পারভেজকে তার গাড়ি থেকে নামিয়ে ওই মাইক্রেবাসে তুলে নেয়। এর পর থেকেই পারভেজ নিখোঁজ রয়েছে। ওইদিন রাতেই নারায়ণগঞ্জে কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ রাখে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় একটি মামলা হয়। সেখানে মামলার অন্য আসামীরা হলো মেয়র আইভীর ছোট ভাই নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ আলী রেজা উজ্জল, আইভীর মামাতো ভাই চিত্র শিল্পী রেজাউল ইসলাম রনি, আইভীর ভাগ্নে ও জেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল কাদিরের ছেলে মিনহাজুল কাদির ওরফে মিমন, জেলা কৃষক লীগ সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে কারমেল, বিএনপি নেতা মাহবুব উল্লাহ তপন, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম ওরফে শকুকে আসামী করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারী ঢাকা ডিবি পুলিশ নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট এলাকা থেকে ঠিকাদার সুফিয়ান, তার দুইজন সহযোগি কমল ও সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল, আইভীর মামাতো ভাই চিত্র শিল্পী রেজাউল ইসলাম রনি, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল কাদিরের ছেলে মিনহাজুল কাদির ওরফে মিমন, জেলা কৃষক লীগ সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে কারমেল ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে আদালতে প্রেরণ করে।

এদিকে পারভেজ গুমের দীর্ঘ ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি তার কোন হদিস মেলেনি। পারভেজের স্ত্রী সোহানা আর শিশু ছেলে গল্পকে কিছুদিন তার সন্ধানে সক্রিয় থাকলেও এরপর তাদেরকেও সক্রিয়তা দেখা যায়নি। যেকারণে পারভেজ গুমের বিষয়টি এখনো রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ