ফের আক্রান্ত সারোয়ার পরিবার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০১ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার



ফের আক্রান্ত সারোয়ার পরিবার

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের জন্য কাজ করতে গিয়ে বার বার প্রতিপক্ষদের হাত আক্রান্ত হচ্ছেন সারোয়ার পরিবার। এবার ওই পরিবারের তিনজনকে বিবাদী করা হয়েছে একটি অভিযোগে। আর এতেই প্রমাণিত হচ্ছে এখনো ওসমান পরিবারের ভরসার পাত্রে অগ্রগামী সারোয়ার পরিবার।

নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে ৯জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ১৬ জানুয়ারী অস্ত্র প্রদর্শন করা মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, ঘটনাস্থলে থাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ। তাদের বিরুদ্ধে আইভীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ৯ জনের মধ্যে সারোয়ারের ভাই হলেন হেলাল ও সাজুন। আর ভাগ্নে হলেন জুয়েল।

নব্বইর দশকের মাঝামাঝিতে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান যখন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তখন শামীম ওসমানের ভরসার পাত্র ছিলেন সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, নিয়াজুল, অগা মিঠুরা। তবে শামীম ওসমানের সেই ভরসার পাত্ররা হারিয়ে গেছেন কালের আবর্তে। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে ওসমান পরিবারের তিন আস্থাভাজন নেতার বিদ্রোহী মনোভাবে ভরসার পাত্রও কমে গেছে শামীম ওসমানের। যে কারণে বিগত দিনে যারা রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত ছিলেন সেই সারোয়ার পরিবারই বর্তমানে শেষ ভরসা হয়ে দেখা দিয়েছে।

১৬ জানুয়ারী সংঘর্ষের দিন জুয়েল নিজেও আক্রান্ত হন। সেদিন তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। সে এখনো চিকিৎসাধীন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ওসমান পরিবারের পাশাপাশি সারোয়ার পরিবারও ছিল রাজনীতিতে সক্রিয়। কারণ সারোয়ার ছাড়াও তার ছোট ভাই জাকিরুল আলম হেলাল ওইসময়ে সরকারী তোলারাম কলেজের জিএস ছিলেন। তিনি ছাড়াও তার ছোট ভাই শাহাদাৎ হোসেন সাজনু এবং ভাগ্নে মোঃ জুয়েল হোসেনও ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে আওয়ামীলীগের শাসনামলের শেষ লগ্নে যুবলীগের নেতা গোলাম সারোয়ার ও তার পরিবারের সঙ্গে শামীম ওসমানের বৈরী সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সময় তরুনলীগ নেতা মাকসুদের সঙ্গে গোলাম সারোয়ারের বিরোধীতায় গোলাগুলির ঘটনায় খানপুরের যুবলীগ কর্মী লিটন নিহত হয়েছিল।

তবে পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখার কারণে গোলাম সারোয়ারের দুই সহোদর জাকিরুল আলম হেলাল ও শাহাদাৎ হোসেন সাজনু এবং ভাগ্নে মোঃ জুয়েল হোসেন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটিতে পুর্নবাসিত হন। যদিও বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ওই পরিবারের উপরে আস্থাহীনতায় ছিল শামীম ওসমান। বিশেষ করে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জেলা যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শামীম ওসমান ভিপি বাদলের পক্ষ নিয়েছিলেন। তবে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তাদের মধ্যে দূরত্ব অনেকটাই কমে আসে। বর্তমানে জাকিরুল আলম হেলাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। শাহাদাৎ হোসেন সাজনু নগর যুবলীগের সভাপতি পদে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে মহানগর যুবলীগের কমিটি আসছে বলেই মনে করছেন সকলে। আর সর্বশেষ ভাগ্নে মোঃ জুয়েল হোসেন মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদে আসীন হয়েছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, নব্বইর দশকে যারা শামীম ওসমানের ভরসার পাত্র ছিলেন সেই সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, নিয়াজুল, অগা মিঠুর মধ্যে সারোয়ার, মাকসুদ ও লাল না ফেরার দেশে চলে গেছেন। নিয়াজুল রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অগা মিঠু আর প্রবাস থেকে দেশে ফিরেননি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও