১১ ফাল্গুন ১৪২৪, শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ , ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

primer_vocational_sm

এবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জামায়াত শিবির ঘেঁষা নেতা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৬ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:৪৯ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার


এবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জামায়াত শিবির ঘেঁষা নেতা

নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচী অনুষ্ঠানে জেলা কমিটির নেতারা বক্তব্যে বিএনপি জামায়াতের তুমুল সমালোচনা করছিলেন তখন ওইসব নেতাদের পাশে একজন বিতর্কিতকে দেখা গেছে যাদের পরিবার পরিজন অনেকেই জামায়াতের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের কোন রাজনীতি সম্পৃক্ত না থাকলেও তিনিই আবার নৌকা প্রতীকে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হয়েছে। তাঁরই পরিবারের অনেকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ওইসব লোকজন শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডারও বটে।

বৃহস্পতিবার ১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, আলীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, সদর থানা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ জসিমউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজির ফকির প্রমুখ।

প্রধান বক্তা আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, কোন হাইবীড নয় প্রকৃতরা দলে সদস্য হবে। জাতীয় পার্টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। নারায়ণগঞ্জে ৫ টি আসনে নৌকার প্রার্থী চাই। সারাদেশে আওয়ামী লীগের নৌকার পাল তুলে শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে।

‘‘নারায়ণগঞ্জে হাইব্রিড ও কাউয়া প্রকৃতির নেতাদের কোন স্থান হবে না। আর জামায়াত ও বিএনপি তো দূরের কথা। তাদেরকে এ নারায়ণগঞ্জে কোন ধরনের কর্তৃত্ব করতে দেওয়া হবে না’’। শনিবার ২৭ জানুয়ারি শামীম ওসমান যখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে রেখে এসব কড়া বক্তব্য রাখছিলেন তখন তাঁর পাশেই একজন বিতর্কিত জনপ্রতিনিধিকে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা দাবী করলেও তিনি এ দলের কোন কর্মকান্ডে নেই। বরং তার স্বজন ও আত্মীয়রা মতির নাম ভাঙিয়ে দুর্গম এলাকা আলীরটেকে জামায়াত ও শিবিরের শক্ত ঘাঁটি করে তুলেছে। ইতোমধ্যে মতির আত্মীয় জামায়াত ও শিবিরের দুর্ধর্ষ কয়েকজন ক্যাডার গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর সদর মডেল থানা পুলিশ পুলিশের তালিকাভুক্ত আলীরটেক ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী  মোকতার হোসেন ও ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও কুড়েরপাড় হাই স্কুলের শিক্ষক রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে মোকতার হোসেন ডিক্রিরচর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে ও রাজু একই এলাকার আতাউর মুন্সির ছেলে। এ দুইজনের মধ্যে মোকতার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির খালাতো ভাই।

এলাকাবাসী জানান, মতির নাম ব্যবহারে এই মোকতারে নেতৃত্বেই আলীরটেক এলাকাতে জামায়াত শিবির ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। কয়েকদিন আগেও মতির খালাতো ভাই মোকতারকে পুলিশ আটক করলেও শুধুমাত্র মতির তদবিরে তাকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এছাড়াও মতির স্বজন আরো অনেকের বিরুদ্ধে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও মতির তদবিরে তারা পার পেয়ে যেতো।

সম্প্রতি নিউজ নারায়ণগঞ্জের একটি টক শো অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল বলেন, অনুপ্রবেশকারী দলে ঢুকে যাচ্ছে। হাইব্রিড ঢুকে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনার দিন সেখানে শিবির চিহ্নিত ক্যাডার, মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা যোগ দিয়েছিল। কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে দেয়ার বিষয় ভাল হয় না, তাই এই হাইব্রিডদের অনুপ্রবেশ। দলে গনতন্ত্র চর্চা নাই। সুস্থ্যতা নাই। পূর্ব অভিজ্ঞতা, যোগ্যতার মূল্যায়ন হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে অরাজনৈতিক ব্যাক্তিরা চলে আসলে এর চেয়ে ভাল কিছুই হবে না। বিভ্রান্তিকর অবস্থা হবে। নারায়ণগঞ্জে ঐতিহ্য রয়েছে। আওয়ামীলীগের ঘাঁটিকে দুর্বল করার জন্য জামায়াত ও শিবির সহ বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামীলীগ কেউ কেউ তাদের পথ করে দিচ্ছে। যেহেতু আদর্শিক রাজনীতি চর্চা হচ্ছে না, যে পদ পাচ্ছে সে তাঁর দল ভারি করার জন্য নিচ্ছে। যাকে তাকেই সাথে নিচ্ছে, জেনে শুনেই নিচ্ছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে মাঠে নামবে ব্যবস্থা নিবে। তখন কোন হাইব্রিড, ভূঁইফোড় নেতা বিলীন হয়ে যাবে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে কথিত আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি ও ভূমিদস্যু সায়েম ওরফে নূরা মিয়ার উত্থান বিএনপির রাজনীতি থেকেই বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দুই বছর আগে একজন শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধির আশীর্বাদে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মতিউর রহমান মতি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও তাকে এর আগে কখনোই আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে দেখেনি এলাকাবাসী। বরং নব্বইর দশকের মাঝামাঝিতে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আলীরটেকে মতি নির্বাচন করেছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের পক্ষে। ওই নির্বাচনে কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এমপি শামীম ওসমান। তৎকালে আলীরটেক ইউনিয়ন ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওতাধীন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে মতির বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছিল মেম্বাররা। পরে একজন প্রভাবশালীকে দিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনকে ম্যানেজ করে আবারো বিএনপি সমর্থক বনে যান মতি।

আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী নুরুজ্জামান সরকার জানান, গুটিকয়েক হাইব্রীড নেতাদের দাপটে তৃনমূলের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা কোনঠাসা রয়েছেন। বিশেষ করে স্থানীয় এমপি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন।

সদর থানা আওয়ামীলীগের নেতা সওদাগর খান বলেন, নব্য হাইব্রীড নেতাদের দাপট শুধু আলীরটেকেই নয় জেলার সর্বত্রই রয়েছে। তাদের কারণে মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি ও সায়েম আহমদ আওয়ামীলীগের কোন পদে নেই। যারা আওয়ামীলীগের কোন পদে না থেকেও আওয়ামীলীগের নেতা পরিচয় দিচ্ছেন এ ধরনের কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ