১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, সোমবার ২৮ মে ২০১৮ , ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

দুই চেয়ারম্যানের ‘বসের’ খোঁজে বিএনপির হাই কমান্ড


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৯ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৯:১৭ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রবিবার


দুই চেয়ারম্যানের ‘বসের’ খোঁজে বিএনপির হাই কমান্ড

নারায়ণগঞ্জে উপজেলা পরিষদের দুইজন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও আতাউর রহমান মুকুলকে পেছন থেকে কারা মদদ দিচ্ছে সেইসব ‘বসদের’ খোঁজে আছেন দলের হাই কমান্ড। কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, নারায়ণগঞ্জে গত কয়েকদিনে ১০টি মামলা হলেও কেন এ দুইজন চেয়ারম্যানের নাম দেওয়া হয়নি সেটাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

এরই মধ্যে সোনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান উদ্দিন ভূইয়া, ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাাদরিল, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, বন্দর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের নামে একাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু মুকুল ও আজাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি।

৩ ফেব্রুয়ারী রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি দলীয় সাবেক এমপির দুই ছেলে, কাউন্সিলর ও সাবেক চেয়ারম্যান সহ ১০জনের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুইজন নির্বাচিত কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন ও সাদরিল রয়েছেন। এছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারী সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দেড় শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সকালে পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করলেও বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সোনারগাঁ থানার এসআই মুজিবুর রহমান ও এএসআই এনামুল হক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।  মামলায় সোনারগাঁও উপজেলার চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নানও আছেন।

এছাড়া ৩ ফেব্রুয়ারী রাতে রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরাসহ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়াসহ ৭৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বিকেলে গ্রেফতার করা হয়েছে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে। রোববার ৪ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইসরাফিল প্রধানকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ির বাসা থেকে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ইসরাফিল প্রধান সিদ্বিরগঞ্জ থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় ছিলেন।

বন্দরে পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান বাবুল (৪৮)। মামলায় জামায়াত নেতা ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকেও আসামী করা হয়েছে।

এদিকে বর্তমান সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে রেলপথ, রাজপথ, নৌপথ অচল সহ মিল কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার সহ নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সদর মডেল থানার এস আই জয়নাল আবেদীন খান বাদী হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সহ অনেককে আসামী করা হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন থানা এলাকায় বিএনপির জনপ্রতিনিধিদের আসামী করে মামলা দায়ের করা হলেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় বিএনপি’র পদধারী জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুরা রয়েছে অধরা। তাদেরকে সরকারী দলের সঙ্গে আতাঁতকারী হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত করে আসছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কারণ বিএনপি নেতাকর্মীরা সরকারের যাতাকলে থাকলেও তারা সুবিধাভোগী হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ