২ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , ২:৩৫ অপরাহ্ণ

UMo

জেলা ও মহানগর বিএনপিতে ক্ষোভ কেন্দ্রের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:৩৫ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রবিবার


জেলা ও মহানগর বিএনপিতে ক্ষোভ কেন্দ্রের

সাংগঠনিক অক্ষমতা, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী যথার্থভাবে পালন না করা সহ ব্যর্থতার অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারী কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির উপর শুরু থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা বেশ আস্থা রাখলেও সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগে ও পরে কর্মসূচী পালনে চূড়ান্ত ব্যর্থতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কেন্দ্র। জেলা ও মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটিতে থাকা শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই দুইজন নেতা আরো জানান, বর্তমানে জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিতে যেসব আতে আছেন তাদের অনেকেই ভবিষ্যৎ কমিটিতে থাকতে যাচ্ছেন। কিন্তু কমিটি নতুন করে পুনর্গঠন করতে গিয়ে বাদ পড়তে যাচ্ছেন অনেক নেতা। কারণ বিএনপির নীতি নির্ধারকেরা এ দুটি কমিটি ঘোষণার পর নানা চাপ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের পরেও স্ব অবস্থানে অটুট থাকেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার রায়ের আগে ও পরে বিএনপির ব্যর্থতা স্পষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এসব কমিটি বিলুপ্তের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কেন্দ্র। তাছাড়া বড় একটি বিষয় কেন্দ্রের কাছেও স্পষ্ট হয়েছে যে এ দুটি কমিটির অনেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে রাজনীতি করছে। সে কারণে গত এক সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জের ৭থানা এলাকাতে ১০টি মামলা হলেও অনেক নেতার নাম নেই। বিষয়গুলোও কেন্দ্র তো বটেই খোদ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ওয়াকিবহাল। তাছাড়া কয়েকজন নেতার গ্রেপ্তার যে অবস্থায় হয়েছে সে অবস্থার প্রেক্ষিতও যাচাই বাছাই চলছে।

৯ ফেব্রুয়ারী বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী দিলেও মহানগরে পালনের কোন খবর পাওয়া যায়নি। দলের সেক্রেটারী এটিএম কামালের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিশেষ ক্ষমতা দমন আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা কামালের বাড়িতে একাধিকবার হানা দিয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিনও কামালকে দেখা গেছে রাজধানীতে। কিন্তু দেখা যায়নি সভাপতি আবুল কালামকে। তিনি ছিলেন ওমরা হজে এমন কথা জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। ৭ ফেব্রুয়ারি কালাম দেশে ফিরেছেন জানানো হলেও কোন নেতাকর্মীর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেনি। ফলে কোন কর্মসূচীতেও তাঁকে দেখা যায়নি।

মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা জানান, রাজধানীতে ৩ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাতেও দেখা যায়নি কালামকে। এছাড়া পরে কেন্দ্রীয় নেতারা বার বার কালামকে খোঁজ করলেও না পেয়ে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাছাড়া মহানগরের অনেক নেতাই এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ যে, মহানগর বিএনপির অনেক নেতা মামলার আসামী হলেও কালাম না হওয়ায় বিষয়টি বেশ দৃষ্টিকটু।

অপরদিকে জেলা বিএনপি সিদ্ধিরগঞ্জে তাদের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ফটোসেশন করেছে। এখানে জেলা কমিটির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ সহ অনেকেই ছিলেন না। একটি মামলায় কাজী মনিরুজ্জামান আসামী হলেও মামুন মাহমুদ আসামী হয়নি। কাজী মনিরুজ্জামানও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোন ধরনের যোগাযোগ রাখছে না।

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে গত কয়েকদিনে ১০টি মামলা করেছে যেখানে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের প্রায় ৫শ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো অন্তত ৫০০জনকে আসামী করা হয়েছে। প্রত্যেকটি মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতা, ভাঙচুর, পুলিশের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ সহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে নানা ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। মামলায় কয়েকজন কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানকেও আসামী করা হয়েছে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, মামলার সময়ে তারা ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। তবে মামলায় বিএনপির অনেক সক্রিয় নেতাকে আসামী না করায় বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা ধরনের সমালোচনা। বিপরীতে মামলা করা হয়েছে এমন অনেক নেতাদের যারা জেলা ও মহানগর কমিটিতেও নেই।

আসামীর তালিকাতে নেই সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজন আবদুস সবুর খান সেন্টু, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন ও মাহাবুবউল্লাহ তপন।

এদিকে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হলেও জেলা বিএনপির অনেকেই নেই। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারী ঘোষিত জেলা বিএনপির ২৬ জনের মধ্যে মামলার আসামী হয়নি তালিকাতে আছেন সহ সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক লৎফর রহমান খোকা, এম এ আকবর। সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, বদরুজ্জামান খান খসরু, আতাউর রহমান আঙ্গুর।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দলের জেলা বিএনপির ২৩ সদস্যের মহানগর কমিটিতে সভাপতি হলেন আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, সহ সভাপতি হলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, বিদ্রোহী কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি হাজী নূরউদ্দিন, বিলুপ্ত নগর কমিটির সহ সভাপতি জাকির হোসেন, আইনজীবী নেতা সরকার হুমায়ূন কবির, ফখরুল ইসলাম মজনু, বেগম আয়েশা আক্তার। যুগ্ম সম্পাদক ২জন হলেন আজহারুল ইসলাম বুলবুল ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজন হলেন আবদুস সবুর খান সেন্টু, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম সজল, মাহাবুবউল্লাহ তপন। কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির। দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার ও প্রচার সম্পাদক সুরুজ্জামান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ সদস্যের কমিটিতে সহ সভাপতি হলেন শাহ আলম, খন্দকার আবু জাফর, জান্নাতুল ফেরদৌস, শাসমসুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবদুল হাই রাজু, মনিরুল ইসলাম রবি, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, লুৎফর রহমান। যুগ্ম  সম্পাদক লৎফর রহমান খোকা, এম এ আকবর। সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না, মাসুকুল ইসলাম রাজীব। সহ সাংঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান ও রুহুল আমিন। সদস্য পদে সাবেক এমপি রেজাউল করীম, গিয়াসউদ্দিন, বদরুজ্জামান খান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ