১১ ফাল্গুন ১৪২৪, শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ , ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

primer_vocational_sm

তৈমূরকে মাইনাসে বিএনপি মাইনাস!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৩:০৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সোমবার


তৈমূরকে মাইনাসে বিএনপি মাইনাস!

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে অপরিহার্য ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে মাইনাস করে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিএনপিকেই মাইনাস করা হয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কারণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের বছর ও পরের বছর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেভাবে রাজপথে নাড়িয়েছিল সেই আন্দোলনের ধারে কাছেও যেতে পারেনি বর্তমান জেলা ও মহানগর বিএনপি। যদিও তৈমূর আলম খন্দকার এ জেলার দায়িত্বে না থাকলেও তার অনুগত নেতাকর্মীরাই প্রতিদিন আন্দোলন করছেন। শিকার হচ্ছেন নতুন নতুন মামলার।

মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি এখন হারে হারে টের পাচ্ছে এ জেলার বিএনপির রাজনীতি থেকে তৈমূর আলমের দায়িত্ব কেড়ে নিয়ে বিএনপির কতটা ক্ষতি করা হয়েছে। ২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদের দায়িত্ব পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের রাজপথের আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা ছিল তৈমূর আলম খন্দকারের। যদিও ওই সময় তৈমূর আলমের বিরুদ্ধে বিরোধী নেতাকর্মীদের একটাই অভিযোগ ছিল তৈমূর আলম তার আত্মস্বজন ও কাছের লোকজনদের বড় বড় পদ দিয়েছিলেন।

কিন্তু দেখা গেছে বর্তমান বিএনপির চেয়ে ওইসময়কার বিএনপি তৈমূর আলমের নেতৃত্বে শতগুন শক্তিশালী ছিল। নেতাকর্মীরা বলছেন, তৈমূর আলম খন্দকার তাদেরকেই পদ দিয়েছিলেন যারা রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু এখন যারা দায়িত্বে আছেন তারা শুধু পদ নিয়ে পালিয়ে আছেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করে দেয় বিএনপি। এ দুটি কমিটিতে রাজপথের সক্রিয় নেতাদের ঠাই দেয়া হয়নি। যে সব নেতাকর্মীরা তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে রাজপথে করে রাজপথে ঘাম জড়িয়েছিলেন ওইসব নেতাদেরও দল থেকে মাইনাস করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতি থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে মাইনাস করতে গিয়ে তার নেতাকর্মীদেরও পদ বঞ্চিত করে মাইনাস করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

নারায়ণঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির দুটি সমমর্যাদার কমিটি হলেও দুটি কমিটির রাজপথের ভূমিকা উল্লেখ করার মত নয়। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে টানা দু বছর তৈমূর আলম খন্দকার রাজপথের আন্দোলনে তার নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে তৈমূর আলম খন্দকারের লোকজন সাতটি থানায় ডজন ডজন মামলার আসামি হয়েছিলেন। তৈমূর আলমও আসামি হয়েছিলেন। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জে যে সব মামলা হয়েছে এসব মামলায় তৈমূর আলম খন্দকারের অনুসারি বেশি যারা আসামি হয়েছেন। আসামি হয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকারের আত্মস্বজনও।

এদিকে বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জে তৈমূর  আলম খন্দকারের নেতাকর্মীরা ঘরে বসে নেই। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সদর বন্দর ও রূপগঞ্জ এলাকায় তৈমূর আলম খন্দকারের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন কর্মসূচি পালন করে আসছে। বাড়ি ঘর ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু এসব নেতাকর্মীরা পদ বঞ্চিত হয়ে হতাশার মধ্যেও দলের টানের কারনে রাজপথে নেমে এসেছে। কিন্তু যদি তৈমূর আলম খন্দকার ও তার নেতাকর্মীদের এ জেলা ও মহানগর কমিটি থেকে মাইনাস করা না হতো তাহলে এবারের আন্দোলনে আরো বেশি সক্রিয় দেখা যেতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে। যে কারনে নেতাকর্মীরা বলছেন এ জেলার দায়িত্ব থেকে তৈমূর আলমকে মাইনাস করতে গিয়ে বিএনপিকে মাইনাস করা হয়েছে। আর সেই ক্ষতির টের পাচ্ছে এখন বিএনপি। এ জেলায় বিএনপিকে শক্তিশালী রাখতে তৈমূর আলম খন্দকারের বিকল্প কেউ নাই যা আবারো প্রমানিত হলো কেন্দ্র থেকে অযোগ্য লোকজনদের নিয়ে কমিটি গঠন করার মাধ্যমে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ