১ শ্রাবণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৭ জুলাই ২০১৮ , ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

চেয়ার ছাড়া সভাপতি কাজী মনির, দায়িত্ব পেলেন তৈমূর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৩ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৩:৩৩ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার


চেয়ার ছাড়া সভাপতি কাজী মনির, দায়িত্ব পেলেন তৈমূর

অবশেষে কেন্দ্রীয় বিএনপি বুঝতে পেরেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জন্য অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার অপরিহার্য। যে কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেই তৈমূর আলম খন্দকারকেই। ফলে এখন নামেমাত্র কাজী মনিরুজ্জামান জেলা বিএনপির সভাপতি এখন। নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক রাজনীতিতে জেলা বিএনপির ব্যর্থতার কারণে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব এখন তৈমূর আলম খন্দকারকে দেয়া হয়েছে। ফলে জেলা বিএনপির সার্বিক সাংগঠনিক কার্যক্রম তৈমূর আলম খন্দকার দেখবেন। এর ফলে কাজী মনিরজ্জামান এখন চেয়ার ছাড়া সভাপতি!

জানা গেছে, শুক্রবার কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয়। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয় জয়নাল আবেদীন ফারুককে। এদিকে শনিবার তৈমূর আলমের ভাই ব্যবসায়ী সাব্বির আলম খন্দকারের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও শোক র‌্যালীতে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটেছে। ফলে আবারও চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয় যেখানে তৈমূর আলম খন্দকারের অনুগামি নেতাকর্মীরা অধিকাংশ আসামি হয়েছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির নেতারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। কমিটিতে বড় বড় নিয়ে পালিয়ে থাকলেও জেলায় তৈমূর আলমের লোকজনই  ছিলেন রাজপথে। নিয়মিত শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় তৈমূর আলম খন্দকারের লোকজন কর্মসূচিগুলো পালন করেছেন।

২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির কঠিন পরিস্থিতিতেও তৈমূর আলম খন্দকারের লোকজন রাজপথে ছিলেন। হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তৈমূর আলম খন্দকার নিজেও নিতাইগঞ্জ এলাকায় মিছিল বের করতে গেলে লাঠিপেটার শিকার হন। এছাড়াও ২০১১ সালে শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় মিছিল করতে গেলে পুলিশের ব্যাপক লাঠিপেটার শিকার হয়েছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। ওই সময় সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার আতিয়ার রহমান তৈমূরের পিঠে লাঠিপেটা করেছিলেন। তারপরও রাজপথ ছাড়েননি তৈমূর আলম খন্দকার।

ওই সময় তৈমূর আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র অভিযোগ ছিল তিনি তার আশপাশের লোকজন ও তার আত্মীয়স্বজনদের পদপদবী দিয়েছেন। এ অভিযোগ ছাড়া আর কোন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ছিল না। কিন্তু ওইসব নেতাকর্মীরাই রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বেশি। কিন্তু রহস্যজনক কারনে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। যেখানে তৈমূর আলম খন্দকার ও তার লোকজনদের পদ বঞ্চিত করা হয়। ফলে হতাশ হয়ে পড়ে তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীরা। কিন্তু  আবারো কঠিন পরিস্থিতিতে রাজপথে প্রমান দেয় তৈমূর আলম খন্দকারের লোকজন।

যার ফলশ্রুতিতে এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তৈমূর আলম খন্দকারকে। শনিবার তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণসাক্ষর কর্মসূচিতে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মাঝপথে তৈমূর আলমের সাথে যাদের দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল তারাও এবার তৈমূর আলমের সাথে যোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি যে সব নেতাকর্মীরা মামলায় আসামি হয়েছেন ওইসব নেতাকর্মীদের উচ্চ আদালত থেকে জামিন করানোর ব্যবস্তা করেছেন তৈমূর আলম খন্দকার।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ