৩ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০:২৬ অপরাহ্ণ

মেয়র আইভী অরক্ষিত! ফের নারীর প্রবেশের চেষ্টা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:৪৮ এএম, ৬ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার


মেয়র আইভী অরক্ষিত! ফের নারীর প্রবেশের চেষ্টা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কার্যত অনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কী না এমন প্রশ্নও উঠেছে। সবশেষ ৫ মার্চ সোমবার দুপুরে মেয়রের দাপ্তরিত কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন একজন নারী। ওই সময়ে আইভীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে তুমুল বাকবিতন্ডা ঘটে। পরে পুলিশ এসে তাকে নিবৃত্ত করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নগর ভবনে লোকজন অবাধে প্রবেশ করতে পারছে। নগর ভবন সেবা কেন্দ্র হলেও এখানে নেই কোন তল্লাশীর কোন ব্যবস্থা। ফলে অনায়াসে যে কোন লোকজন সহজেই সিড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠতে পারে। সেখানে অবশ্য মেয়রের রুমে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা রক্ষী থাকে। কিন্তু নিচতলা হতে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত যেতে কোন বাধার সম্মুখীন কাউকে হতে হয় না।

এর আগেও আইভীর কক্ষে প্রবেশের সময়ে একজন নারীকে আটক করা হয়েছিল। তাছাড়া তার গাড়ির নাট খুলে যাওয়ার ঘটনারও কোন চূড়ান্ত সুরহা হয়নি। এর মধ্যে গত ১৬ জানুয়ারী আইভীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।

আইভীর কক্ষে নারী প্রবেশের চেষ্টা
৫ মার্চ সোমবার সকাল ১১টায় একজন নারী আইভীর কক্ষে প্রবেশের প্রাণান্তর চেষ্টা চালায়। ওই সময়ে নিরাপত্তা রক্ষী শফিকুল বাধা দিলে তার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। এক সময়ে নাকি ওই নারী চিকিৎসক ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কলহের জের ধরে বিচার দিতে নাকি আইভীর কাছে এসেছিল। কিন্তু তিনি একেবারে প্রায় মেয়রের কক্ষেই প্রবেশের চেষ্টা করে। বিষয়টি বেশ আতংকের হয়ে উঠে। পরে আশেপাশের লোকজন এসেও ওই নারীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। আইভী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবাধে আইভীর কক্ষ পর্যন্ত লোকজন যাওয়ার বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক।

নগর ভবনে মেয়রের কার্যালয়ে আগুন্তুক নারী
এর আগে সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের প্রধান ফটকে নিরাপত্তার দায়িত্বে অবহেলায় এক প্রহরীকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য কঠোর ভাবে হুশিয়ার করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এহতেশামুল হক। তবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত নয় বলে জানান তিনি।’

২১ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় হামিদা বেগম (২৫) নামে এক নারী বিনা অনুমতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে মেয়র কার্যালয়ে প্রবেশ করায় মনির হোসেন নামে নিরাপত্তা কর্মীকে শোকজ করেন সিও এহতেশামুল হক।

এর আগে হামিদা বেগমকে আটক করে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আইভীর গাড়ির নাট খুলে যাওয়া
মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বহনকারী গাড়ির চাকার নাট খুলে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি কয়েকটি সুপারিশ তৈরি করছে। তবে কমিটি এখনো এ ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। সে কারণেই একটি সুপারিশের খসড় প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

২ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের জানাযার আগে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজের সরকারি জিপে যাচ্ছিলেন মেয়র আইভী। পথে বনানী সিগন্যাল এলাকায় শব্দ শুনতে পেয়ে চালক সড়কের পাশে জিপটি থামান। তিনি গাড়ি থামিয়ে চেক করে দেখতে পান বাম পাশের চাকার ছয়টি নাটের মধ্যে তিনটি নাই। আর যে তিনটি নাট আছে সেটিও খুলে গিয়েছিল। ওই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী আজগর হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটির অপর সদস্যরা হলেন সিটি করপোরেশনের সহকারী সচিব আবুল বাশার, মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হোসেন ও সিটি করপোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত (যান্ত্রিক) রাশেদ মোল্লা।

আইভী জানান, ‘একসঙ্গে একটি চাকার ছয়টি নাট খুলে যাওয়া অস্বাভাবিক। এটি শঙ্কার। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

এদিকে খসড়া প্রস্তাবের মধ্যে আছে, আরো আধুনিক গাড়ি ক্রয়, মেয়রের গাড়ি যেখানে থাকে সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রতিবার গাড়ি বের হওয়ার আগে ও পরে চাকার নাট মবিল তেল চেক করা, প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর একজন অভিজ্ঞ মেকানিক্যাল দ্বারা গাড়ি পরিস্কার করা, প্রতিটি কাজের একটি চেক লিস্ট তৈরি করে সেটা গাড়িতে রাখা ও সিটি করপোরেশনের মেয়রের পিএ এর কাছে সংরক্ষিত রাখা, চেকলিস্ট অনুযায়ী কাজগুলো হচ্ছে কী না সেগুলো নিরিক্ষা করা, গাড়িতে বিকল্প চাকা রাখা, কোথাও গাড়ি পার্কিং করে রাখলে সেখানে চালক কিংবা সংশ্লিষ্টদের তদারকি নিশ্চিত কর ইত্যাদি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরো জানান, এসব সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হয় তাহলে ভবিষ্যতে যে কোন অনাকাংখিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আর এসব করার জন্য ২ ডিসেম্বরের দুর্ঘটনাটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এসব কারণেই এটা করা হচ্ছে। আপাতত দৃষ্টিতে পরিকল্পনার বিষয়টিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সবকিছুর চূড়ান্ত হবে রিপোর্টে।

আক্রান্ত চাষাঢ়াতেও
নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে হকার ও আওয়ামী লীগের লোকজনদের সংঘর্ষের ঘটনায় ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হয়ে পরে মাটিতে পরে যান মেয়র আইভী। ওই সময় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আইভীকে চারদিক দিয়ে ঘিরে মানবপ্রাচীর করে আইভীকে নিরাপদ রাখেন।

জানা গেছে, ১৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকেল ৪ টা ১৮ মিনিটে নগর ভবনের সামনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের নিয়ে অবস্থান নেন মেয়র আইভী। ওখান থেকে অনুগামী নেতাকর্মীদের নিয়ে আইভী মিছিল নিয়ে ফুটপাতের উপর দিয়ে চাষাঢ়ার দিকে আসতে থাকে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আইভীর নেতৃত্বে মিছিল চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে আসে। সেখানে সংঘর্ষ শুরু হলে হকারদের সঙ্গে তুমুল গোলাগুলি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে পুলিশ দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে দুদিকেই পাল্টা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে আইভীকে ঘিরে ধরে তার অনুসারি নেতাকর্মীরা। চাষাড়া সায়াম প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে।  পুলিশও দুদিকে থেকে কাদানে গ্যাস ও শর্ট গানের গুলি ছুড়তে থাকে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলের নিক্ষেপে আহত হয়ে পরে যান মেয়র আইভী। ওই সময় তার নেতাকর্মীরা মানবপ্রাচীর করে আইভীকে নিরাপদ রাখেন। তখন নেতাকর্মীদের উপর ইটপাটকেল লাগলেও তারা আইভীকে নিরাপদ রাখেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ