‘নারায়ণগঞ্জে ওসমানদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই’

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৯ পিএম, ৭ মার্চ ২০১৮ বুধবার



‘নারায়ণগঞ্জে ওসমানদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই’

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ৫বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শিশু সমাবেশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ত্বকী তার নিজের কারণে খুন হয়নি। ত্বকীকে হত্যা করে তার বাবাকে শাস্তি প্রদান সহ সমগ্র নারায়ণগঞ্জবাসীকে স্তব্দ করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। ত্বকী শুধু রফিউর রাব্বী বা রওনক রেহেনার সন্তান নয়। ত্বকী আমাদের সকলের সন্তান। এ সন্তানের হত্যার প্রতিবাদ আমরা ওইপর্যন্ত করে যাবো যতক্ষন পর্যন্ত আমরা ন্যায় বিচার না পাবো।

৭ মার্চ বুধবার বিকেলে শহরের দেওভোগে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের পাশে নির্মাণাধীন লেক ও ওয়াকওয়ের মুক্তমঞ্চে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বীর সভাপতিতে আরো উপস্থিত ছিলেন লেখক ড. হায়াৎ মামুদ, চিত্রশিল্পী মোখলেছুর রহমান, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ প্রমুখ।

পরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়াও ত্বকী হত্যাকান্ডের উপরে একটি প্রামান্যচিত্র প্রদার্শন করা হয়। এর আগে শুরুতে ত্বকীর স্মরণে শিল্পী কৃষ্ণকলীর গাওয়া গান পরিবেশন করা হয়।

আইভী বলেন, ত্বকী হত্যার আজ ৫ বছর। তারও আগে যদি নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস দেখা যায় তাহলে হত্যাকান্ড আরো অসংখ্য হয়েছে। কিন্তু এভাবে কেউ আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেনি বা ত্বকী যে একটি প্রতিবাদের মান হয়ে দাঁড়াবে সারা বিশ্ব বাঙালির কাছে এটা হয়তো ঘাতকেরা কোন দিন চিন্তাও করেনি। তাই আমি ঘাতকদের বলবো, ওইদিন আর বেশি দূরে নাই যেদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন কি দাঁড়াবেন না সেটা আমি ঠিক জানি না কতদিন অপেক্ষা করতে হয় কিন্তু জনতার আদালতে আপনাদের দাঁড়াতে হবেই হবে। এটা থেকে আপনারা কোন নিস্তার পাবেন না। যতই ভয় দেখান না কেন। যতই চিৎকার করেন না কেন। যতই কথা বলেন না কেন। মামলা মোকদ্দমা, প্রশাসনকে ব্যবহার করে যাই করেন না কেন আপনারা যে কতটুকু দুর্বল আর অন্যায় করলে অন্যায়কারী কখনো সবল হতে পারে না তার বহু প্রমাণ এখানে আছে। ওসমানদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই।

আইভী বলেন, শুধু ত্বকী চঞ্চল, মিঠু সহ যতগুলো হত্যাকান্ড হয়েছে তার বিচার চাই। তারা এতই বেশি শক্তিশালী যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে শুধু হত্যাকান্ডই ঘটায় না এমন কোন হেন কাজ নাই যে তারা এ শহরে ঘটায় নাই। কিন্তু এ শহরের মানুষ প্রচন্ড ভাবে সাহসী হয়ে উঠেছে। নারী পুরুষ শিশু সকলকেই সাহসটা আপনারা ধরে রাখবেন।

আইভী বলেন, হত্যার পরে ত্বকীর বাড়ির সামনে মঞ্চ করে বিভিন্ন সময় তার বাবাকে সহ বিভিন্ন ভাবে আমরা যারা প্রতিবাদ করে আসছি তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। ত্বকী হত্যাকান্ডের জন্য আমার পরিবারের সাত থেকে আট জন সদস্যকে দেড়মাস জেল খাটতে হয়েছিল। ডিবি দিয়ে ধরিয়ে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। মানষিকভাবে যন্ত্রণা দিয়েছে যাতে আমি এখন থেকে সরে যাই বা চুপ থাকি। কিন্তু এটা কোন দিনই সম্ভব হবে না। নারায়ণগঞ্জের যেখানেই অন্যায় হবে প্রতিবাদ আমরা সমস্বরেই করবো। ৪০ বছর যে শহরের মানুষ কথা বলে নাই এখন কিন্তু অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছে। আর এজন্য অন্যায় কিছুটা হলেও কমে এসেছে।

আইভী বলেন, গত এক মাস আগে নিরীহ মানুষের উপরে আক্রমন হলো। এটাও আরেক ধরনের কৌশল। যদি সেইদিন তারা আরো কয়েকজন সহ আমাকে  হত্যা করতে পারতো তাহলে এ নারায়ণগঞ্জ আবারো স্তব্দ হয়ে যেতো। এগুলো বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়। এ শহরের মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য। জুজুর ভয় দেখিয়ে স্তব্দ করে রাখার জন্য। গত জানুয়ারিতে একটি শান্তিপূর্ণ হাটার আমরা পদযাত্রা করছিলাম। আমার সাথে যেখানে এখানে উপস্থিত অনেকেই ছিলেন। সেখানে পিস্তল উঁচিয়ে হত্যার জন্য নিয়াজুল আসলো। আধাঘন্টা রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলাম কোন সহযোগিতা পেলাম না। সাধারণ মানুষ যেভাবে বাঁচালো এবং শহরের মানুষ যেভাবে ওইদিন দাঁড়িয়ে ছিল এটা হলো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এবং নারায়ণগঞ্জের মানুষ যে ভয় পায় না একসাথে হলে যে এ শহরের মানুষ তুমুল আন্দোলন করতে পারে তার প্রমাণ কিন্তু তারা বিগত পাঁচ বছর যাবৎ দিচ্ছে এবং সেই দিন ১৬ জানুয়ারি প্রমাণ করেছে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, ‘আপনারা কখনো ভয় পাবে না। আপনাদের সন্তানদের সাহসী করে তুলবেন। নিজেরাও সাহসী হবেন। কখনো কোন বিপদ আপদে ঘাবড়াবেন না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন,‘ সাত খুনের বিচার যেভাবে হচ্ছে ও অন্য বিচারগুলো করে যেভাবে সারা বাংলাদেশের মধ্যে যেভাবে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) প্রসংশিত হচ্ছেন আপনি ঠিক সেই ভাবেই আমাদের সন্তান ত্বকী হত্যার বিচার করবেন। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস বিচার আপনি অবশ্যই করবেন। আপনার সময় সুযোগ মতো আপনার কাছে সেই অপেক্ষায় থাকলাম। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের বিচার হয়েছে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অনেক বিচার করে দৃষ্টান্ত রাখছেন সুতরাং ত্বকী হত্যারও বিচার আপনি করবেন। এটা শুধু নারায়ণগঞ্জের মানুষের না এটা সারা বাংলাদেশের চাহিদা।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ২০১৩ সালের ৭মার্চ (নিখোঁজের একদিন পর ও লাশ উদ্ধারের একদিন আগে) এ লেভেল পরীক্ষার রেজাল্টে পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়েছিল যা সারাদেশে সর্বোচ্চ। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ৫ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও