৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার : মুখ খুলেনি এএসআই ও রুনু, অধরা সহযোগীরা

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ১০ মার্চ ২০১৮ শনিবার



৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার : মুখ খুলেনি এএসআই ও রুনু, অধরা সহযোগীরা

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেলের কাছ থেকে থানার ভেতর থেকেই ৫ হাজার পিছ ইয়াবা ও ওই এএসআইয়ের বন্দরের ফ্ল্যাট বাসা থেকে আরো ৪৫ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেল ও তার সহযোগী সাবিনা ইয়াসমিন রুনু রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনে মুখ খুলেনি গ্রেফতারকৃতরা। অপরদিকে মামলার অপর দুই এজাহারনামীয় আসামীকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি ডিবি পুলিশ। তবে তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে এএসআই আলম সরোয়ার্দী রুবেলের বন্দর রূপালী এলাকার বাসায় অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বন্দর থানা পুলিশের একটি দল। গ্রেফতারকৃত সোহরাওয়ার্দী রুবেল বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কামরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। পরে সরোয়ার্দীর বাসা তল্লাশী করে উদ্ধার করা হয় ৪৫ হাজার পিস ইয়াবা। এই বাসায় সরোয়ার্দী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতো। মুন্সিগঞ্জ জেলার মাদক ব্যবসায়ী আবুলের মেয়েই সরোয়ার্দীর দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী ময়মনসিংহে বসবাস করে। ওই বাড়ির কেয়ারটেকার জিয়াউল জানান, প্রায়শই এএসআই বিভিন্ন ধরনের লোকজনকে হাতকড়া অবস্থায় ধরে এনে ফ্ল্যাটে রাখতো। সরোয়ার্দীর ফ্ল্যাটবাসায় যখন অভিযান চলছিলো তখন সে সদর মডেল থানায় ডিউটিরত অবস্থায় ছিলো। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ও বন্দর থানা পুলিশ সদর মডেল থানায় গিয়ে সরোয়ার্দী রুবেলকে আটক করে। এসময় তাঁর সঙ্গে রাখা ব্যাগ তল্লাশী করে আরও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরের মাদক ব্যবসায়ী আরিফের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন রুনুকে। গ্রেফতারকৃত সাবিনা ইয়াসমিন রুনু মুন্সিগঞ্জ জেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন মুক্তারপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আরিফের স্ত্রী। আরিফের বিরুদ্ধে ১০-১২টি মাদকের মামলা রয়েছে। আরিফকে কিছুদিন পূর্বে অস্ত্রসহ আটকের পর স্থানীয়রা গণপিটুনীও দেয়। গ্রেফতারকৃত রুনু নিজেও একজন মাদক ব্যবসায়ী।

বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশের এসআই মাসুদ রানা বাদি হয়ে বন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতারকৃত এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেল ও তার সহযোগী সাবিনা ইয়াসমিন রুনুসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। ৯ মার্চ বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে হাজির করা হলে শুনানী শেষে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতারকৃত এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেলকে ৭ দিনের ও তার সহযোগী সাবিনা ইয়াসমিন রুনুকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক গিয়াসউদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেল ও তার সহযোগী সাবিনা ইয়াসমিন রুনুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রথমদিনে তারা এখনো মুখ খোলেনি। তবে আশা করা যাচ্ছে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এজাহারনামীয় অপর দুই আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও