গা ঢাকা দিয়েছে কমিটি শিকারি বিএনপির তিন শিল্পপতি নেতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৫ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার



গা ঢাকা দিয়েছে কমিটি শিকারি বিএনপির তিন শিল্পপতি নেতা

নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে ঘুরে ফিরে সেই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারই সক্রিয়। কিন্তু গত বছর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি হওয়ার পর কিছুদিন থমকে গিয়েছিলেন তৈমূর। মুুলত তৈমূর আলমকে জেলা বিএনপির রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে মুখ্য ভুমিকা রেখেছিলেন জেলায় শিল্পপতি কাম রাজনীতিবিদ কাজী মনিরুজ্জামান মনির, মুহাম্মদ শাহআলম ও আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোতে দেখা মিলেনি এ তিন নেতার।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মামলা হওয়ার পর কাজী মনির, শাহআলম ও মান্নানকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দেখা যায়নি। এ তিনজনই মামলায় আসামি হয়েছেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিনও নিয়েছেন। ওই সময় থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছেনা তাদের। যদিও কাজী মনির ও মান্নানকে কালেভদ্রে দেখা গেলেও শাহআলম কখনই বিএনপির মানববন্ধনেও দাড়াননি।

মূলত জেলার রূপগঞ্জ আসন এলাকাকে টার্গেট করে রাজনীতি করেন কাজী মনিরুজ্জামান মনির। রূপগঞ্জের বাহিরে কাজী মনিরের কোন যাতায়াত বা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও নেই। রূপগঞ্জে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ওই মামলায় কাজী মনির উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তার বলয়ের নেতাকর্মীরাও জামিন পেয়েছেন। কিন্তু তার বিরোধী নেতাকর্মীদের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি তিনি। এছাড়া জেলা বিএনপির কর্মসূচীতে কালেভদ্রে তার দেখা মিলছে শুধুমাত্র পদকে টিকিয়ে রাখতে।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। তিনিও নিজে বাঁচতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তাকে সদর মডেল থানার একটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল। এদিকে সোনারগাঁও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়েই রয়েছেন শিল্পপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। এ নেতা ও তার বলয়ের নেতাকর্মীদের জামিন করিয়েছেন। ৮ ফেব্র্রয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর এ তিনজন নেতা নারায়ণগঞ্জের কোন কর্মসূচিতে থাকছেন না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হওয়ার পর নেতাকর্মীরা এ তিন নেতার বিরুদ্ধে কমিটি শিকারির অভিযোগ তুলেছিলেন। তৈমূর আলম খন্দকারকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে এ তিনজন নেতা মুখ্য ভুমিকা পালন করেছেন। এ তিন জন নেতার ব্যর্থতার কারনে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে। এ তিনজন নেতা না থাকলেও নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তৈমূর আলম ও তার নেতাকর্মীরাই বেশি সক্রিয়। মামলায় আসামি হয়েছেন তৈমূর আলমের লোকজন বেশি। ফলে ঘুরে ফিরে সেই তৈমূর আলম খন্দকারই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও