৩ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ

আসন পুনর্বিন্যাস : কপাল পুড়ল পলাশ শাহআলমের!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৫ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮ বুধবার


আসন পুনর্বিন্যাস : কপাল পুড়ল পলাশ শাহআলমের!

আসন পুনর্বিন্যাসে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনকে পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের মত শুধুমাত্র ফতুল্লা কেন্দ্রীক করার জন্য জোরালো লবিং ছিল নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন রাজনীতিকের যারা মূলত এ অঞ্চলের বাসিন্দা। কিন্তু ১৪মার্চ বুধবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সীমানা বর্তমান তথা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্রীক রেখে দেওয়ায় ওইসব নেতাদের কপাল পুড়তে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনকেই আগের মত রাখা হয়েছে। জেলার কোন আসন পরিবর্তন করা হয়নি। খসড়া অনুযায়ী দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীক, নারায়ণগঞ্জ-২ আড়াইহাজার উপজেলা কেন্দ্রীক, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন সোনারগাঁও উপজেলা কেন্দ্রীক রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনকে রাখা হয়েছে আগের মতই। আলীরটেক ও গোগনগর ছাড়া সদর উপজেলার বাকি ইউনিয়ন (ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, বক্তাবলী, কুতুবপুর) এবং সিটি করপোরেশনের ১ হতে ১০ নাম্বার ওয়ার্ড।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকেও আগের মতই রাখা হয়েছে। এতে আলীরটেক, গোগনগর, বন্দর উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ১১ হতে ২৭ নাম্বার ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত আছে।

স্বাধীনতার পর থেকে নারায়ণগঞ্জে ৫টি সংসদীয় আসনেই ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি গঠন করা হয় শুধুমাত্র ফতুল্লা থানা কেন্দ্রীক। আর তখন সিদ্ধিরগঞ্জকে যুক্ত করা হয় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সোনারগাঁও থানার সঙ্গে। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে আবারও আগের মত ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও সোনারগাঁও নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ গঠন করা হয়।

এর আগের নির্বাচন কমিশন ভোটার সংখ্যা আনুপাতহারে নারায়ণগঞ্জে একটি সংসদীয় আসন বাড়ানোর চিন্তা করেছিল। তখন বলা হয়েছিল ফতুল্লা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থাকবে আর সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৬ আসন হবে। কিন্তু মাঝের অনেকটা সময় ধরেই এ নিয়ে নানা ধরনের হিসেব নিকেশ চলে। রাজনৈতিক দলের নেতারাও এটা নিয়ে বেশ লবিং করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাগলার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ চেয়েছিলেন আসন একটি বাড়–ক। তাহলে তিনি ও শামীম ওসমান মিলে দুটি আসন ভাগাভাগি করে নিবেন। ফতুল্লাতে থাকবেন পলাশ আর শামীম ওসমান থাকবেন সিদ্ধিরগঞ্জে। পলাশের পক্ষে একটি আবেদনও নির্বাচন কমিশনে পড়েছিল জানা গেছে। তবে সেটা পলাশ নিজেই দিয়েছেন নাকি তার পক্ষে কেউ দিয়েছেন সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশন সূত্র এটা নিশ্চিত করেছে যে, আওয়ামী লীগ ও শ্রমিকলীগের একজন নেতার পক্ষে আবেদন জমা পড়েছিল।

এ নিয়ে কমিশনে চিঠি চালাচালি ও আবেদন করা হয়েছিল। অপরদিকে বিএনপির শাহআলমও চেয়েছিল ফতুল্লা নিয়ে একটি আসন থাকুক। সে কারণেই সিদ্ধিরগঞ্জে কখনোই শাহআলমকে কোন অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। অথচ বর্তমান আসন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৪ এ সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা রয়েছে। সবশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি হন কবরী। তখন শুধু ফতুল্লা নিয়ে আসন ছিল। সে কারণেই তখন বেশ সক্রিয় ছিলেন শাহআলম। তবে এখনো তিনি পোষণ করেন ফতুল্লা নিয়েই আলাদা আসন হবে। সে কারণেই আর তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে ভয়ে যান না।

তবে এ ক্ষেত্রে পরিপক্ক শামীম ওসমান। কারণ তিনি নিজ সংসদীয় আসনের দুটি এলাকাতেই কাজ করে যাচ্ছেন। সবশেষ ডিএনডির জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের কারণে দুটি থানা এলাকার মানুষই শামীম ওসমানের উপর খুশী।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ