৮ বৈশাখ ১৪২৫, রবিবার ২২ এপ্রিল ২০১৮ , ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

Kothareya1150x300

জনদুর্ভোগে আস্থা হারাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৬ পিএম, ১৬ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০২:০৬ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৮ রবিবার


জনদুর্ভোগে আস্থা হারাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা

নারায়ণগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট, মশা ও বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবসহ নানাবিধ জনদুর্ভোগে ক্রমশই আস্থা হারাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। গত কিছুদিন ধরেই নানাবিধ জনদুর্ভোগে বিক্ষুব্দ হয়ে উঠছে জনসাধারণ। এর মধ্যে বন্দরে ওয়াসার পানি সঙ্কটের প্রতিবাদে বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। তারা ইতিমধ্যে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ায়ও ব্যক্ত করেছেন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা জুড়েই মশা ও কুকুরের উপদ্রবে জনসাধারণ অতীষ্ট হলেও দেখার যেন কেউ নেই। এছাড়া বিগত বছরে নারায়ণগঞ্জবাসীর অন্যতম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক ও অসহনীয় যানজট। যার কোনটিরই সমাধানে নেই দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে গত কয়েক মাস ধরেই মহানগরের বন্দরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিরাজ করছে ওয়াসার পানির তীব্র সঙ্কট। এছাড়া শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির সঙ্কটতো রয়েছেই। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে ঢাকা ওয়াসা শতকরা ১৫ ভাগ এলাকায় পানি সরবরাহ ঠিকমত করতে পারছেনা যার কারণে ৮৫ ভাগ জনগণ প্রয়োজনীয় পানি বঞ্চিত রয়েছে। আর যেখানে পানি সরবরাহ কর হয় সেখানে নর্দমা ও ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পানি খাওয়া তো দূরের কথা ব্যবহারেরও অনুপযোগী। ওয়াসার পানি সরবাহের মেইন পাইপে অসংখ্য লিকেজ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে যেমনি পানি অপচয় হচ্ছে তেমনি নর্দমার পানিও প্রবেশ করছে ওয়াসার পানি সরবরাহের লাইনে। এতে করে ডায়ারিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসী। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানেও ওয়াসার পানি সরবরাহের লাইনে অসংখ্য লিকেজের কারণে নর্দমা ও ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা পানি প্রবেশ করছে। তার উপর লিকেজগুলোর কারণে মাটি সরে গিয়ে সিটি করপোরেশনের রাস্তাগুলোতেও পরিণত হচ্ছে ছোট আকারের নর্দমায়। এর আগে ২০১৩ সালের আগষ্টের শুরুতে বন্দর থানার লক্ষণখোলায় ওয়াসার দূষিত পানি পান করে শিশুসহ ৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়। অসুস্থ্য হয়েছিল অন্তত ৭ শতাধিক। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।

জানা গেছে, বন্দরের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা দীর্ঘ ৭ মাসেরও বেশী সময় ধরে পানির সঙ্কটে ভুগতে থাকলেও সমস্যা নিরসনে তেমন একটা উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের এমপি সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। বরং বন্দরের বাসিন্দা না হয়েও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বন্দরবাসীর দুর্দশা লাঘবের দাবিতে ওয়াসার কাছে জবাব চেয়ে পোস্টার সাটিয়েছিলেন।

পরে ১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভায় ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর উপর প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তরে বলেন, আমার কাজের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমি বিষয়টি আমার উপরের মহলকে অবহিত করেছি। কিন্তু সেখান থেকে কোন সমাধান পাইনি। পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান তার কাছে জানতে চান ওয়াসা কোন মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন।

৭ মাস পরে খবর নেয়ায় সেলিম ওসমানের প্রতি ক্ষুব্দ নবীগঞ্জবাসী : এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই বন্দরের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটের প্রতিবাদে বিক্ষুব্দ হয়ে উঠছে। গত ৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকাতে ওয়াসার পানি সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ভুক্তভোগীরা। মানববন্ধনে পানির কলস নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন অনেক গৃহবধুরা।

ওই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২৪নং ওয়ার্ডবাসী দীর্ঘ ৭ মাস ধরে পানির অভাবে ভুগছে। মানুষের কষ্টের সীমা নেই। যেই পানি না হলে মানুষ বাঁচতে পারেনা সেই পানিই মিলছেনা ২৪নং ওয়ার্ডবাসীর ভাগ্যে। আমরা আর বরদাশতঃ করবোনা। যাকে আমরা ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছি সেই এমপি ৭ মাস পরে এসে খবর নেন আমাদের এটা দুর্ভাগ্য। আমাদের বক্তব্য এমপি সাহেব এই ৭ মাস আপনি কোথায় ছিলেন? আপনার কোন প্রতিনিধি দিয়ে এলাকাবাসীর কোন খোঁজ খবর নিয়েছিলেন। আপনি ভুলে যাবেননা আমাদের ভোটে আপনি এমপি হয়েছেন সুতরাং আমাদের দুঃখ-কষ্টভাগ করে নেয়া আপনার উচিত। আমরা মেয়রের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনারা যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করলে আজকে আমাদের এই দূরাবস্থা হতোনা। আমরা এই সংকট থেকে বাঁচতে চাই। আমাদেরকে মুক্তি দিন। ওয়াসাকে ৭দিনের আল্টিমেটাম দিচ্ছি যদি ৭দিনের মধ্যে এই ২৪নং ওয়ার্ডবাসীর পানির সমস্যা সমাধাণ না করা হয় তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলনে নামবো। আপনারা পানি নিয়ে তামাশা বন্ধ করুন। নয়তো পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে তখন নিয়ন্ত্রণ করা কারো সাধ্য হবেনা।

এমপি মেয়রকে এক গ্লাস পানি পানের আহবান সোনাকান্দাবাসীর: ১৩ মার্চ বিকেলে ‘পানি নাই, পানি চাই, বিশুদ্ধ পানি কবে পাব জানতে চাই’ এ শ্লোগানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২০ নং ওয়ার্ডস্থ সোনাকান্দা পানির ট্যাংকি এলাকায় বৃহত্তর সোনাকান্দা এলাকাবাসীর উদ্যোগে দূর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পানি বন্ধ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবারাহের দাবিতে মানববন্ধন ও ওয়াসা অফিস ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন, ওয়াসার পানি সেবন করে সোনাকান্দা এলাকাসহ এর আশে পাশের  বহু মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। আমরা এই মানববন্ধন থেকে এমপি সেলিম ওমসান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভিকে জানাতে চাই। আপনারা এ ওয়ার্ডে আসুন এবং সরেজমিনে দেখুন এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পানির জন্য কত কষ্টে রয়েছে। এ ওয়ার্ডে প্রায় ৩৫ হাজার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে পানির কষ্টে ভুগছে।  সে সাথে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী স্থানীয় এমপি ও মেয়রকে এ ওয়ার্ড থেকে এক গ্লাস পানি খেয়ে যাওয়ার আমন্ত্রন জানানো হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এলাকা ছাড়াও জেলা জুড়েই মশা ও কুকুরের উপদ্রবে অতীষ্ট এলাকাবাসী।

নারায়ণগঞ্জ শহরে মশা ও বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রুব ক্রমশ বাড়তে থাকায়ে নগরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। সিটি করপোরেশন মশা নিধনের ক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত অভিযানের কথা বললেও ভুক্তভোগী নগরবাসী বলছে তারা রীতিমত অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। অপরদিকে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না অজুহাত সিটি করপোরেশনের। ফলে শহরে প্রায়শই কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শহরের সরকারী হাসপাতালগুলোতে মাঝেমধ্যে ভ্যাকসিনের সংকট থাকায় দেখা দেয় দুর্ভোগ।

শহরের চাষাঢ়া সলিমউল্লাহ সড়কের বেসরকারী অফিসের চাকরিজীবি কবির হোসেন জানান, মূল সড়ক থেকে বাসায় যেতে কয়েকটি স্থানেই কুকুরের উপদ্রুব দেখা যায়। হাতে কোন ব্যাগ কিংবা খাবার থাকলে কুকুর পেছনে লাগে। এটা বেশ আতংকের।

কলেজ রোড এলাকার মাজহারুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতিদিন রাতে বাড়ি ফেরেন। বাইরে কুকুরের কারণে ভীত হয়ে থাকতে হয়। আর ঘরে ঢুকলে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ থাকতে হচ্ছে। শীতের সময়ে রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমানো যেত। কিন্তু এখন গরম আসছে এখনো মশার কারণে যদি মশারি টানাতে হয় তাহলে তাপদাহে টিকে থাকা বেশ কঠিন হবে।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আবদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে বিগত কয়েক মাস হতে নারায়ণগঞ্জ মহানগরে মশার অসহনীয় উপদ্রবে নগরবাসী অতিষ্ঠ। দিনের বেলাতেও মশার আক্রমনে ও ভনভন শব্দে অতিষ্ঠ নগরবাসী ক্ষুব্ধ ও সেই সাথে ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারছে না এবং চিকনগুনিয়া রোগের ভয়ে মানুষ আতংকগ্রস্ত। অন্যদিকে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রপে ভীত নগরবাসী। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির প্রত্যাশা নগরবাসীর। সেই সাথে অবৈধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহার ও এর উচ্ছিষ্ট পরিবেশের অবনতিতে আতংকগ্রস্ত নগরবাসী।

রহমান আরো জানান, আমরা ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। মেয়র আমাদের জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মশা নিধনের কাজ শুরু হয়েছে। কুকুর নিধনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সে কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতিনিয়ত চলার পথে মানুষ মশার সমস্যার কথা বলেন। এটা সত্য যে মশার উপদ্রব বেড়েছে। প্রতিনিয়ত মশার ডিম্বানু নষ্ট করতে সকালে হ্যান্ড স্প্রে ও বিকেলে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন,‘প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফোনে সহ বিভিন্ন ভাবে প্রচুর অভিযোগ আসছে। আমরা চেষ্টা করছি। প্রতিদিন সকাল বিকেলে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।’

১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফি উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এলাকাবাসীকে বলা হয়েছে। এছাড়াও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। আর ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে মশার উপদ্রব বৃদ্ধির কারণে সব ওয়ার্ডে সকালে ও বিকেলে দুই বেলা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তারপরও কোন এলাকা থেকে অভিযোগ দিলে সেখানে ওষুধ ছিটানোর জন্য লোক পাঠানো হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম এহেতেশামুল হক বলেন, ‘মশার বংশবিস্তার রোধে ধারাবাহিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যেসব ড্রেন গুলো বন্ধ হয়ে আছে সেগুলো পরিস্কার করা হচ্ছে। মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হক বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত নেই। কিছুদিন পর বৃষ্টি হলে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগী দেখা যাবে। তখনই ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া এসব রোগী আসবে হাসপাতালগুলোতে।’

জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক আর যানজটে নাভিশ্বাস
গেল বছরে জেলার বিভিন্ন স্থানেই অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয়েছিল নারায়ণগঞ্জবাসীকে। কোন কোন এলাকায়তো জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ ধারন করেছিল। ডিএনডি এলাকার অভিশাপ ছিল জলাবদ্ধতা যা ইতিমধ্যে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে নিরসনের কাজ করছে সেনাবাহিনী। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, তারাবো পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে নেই কার্যকর কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ। আসন্ন বর্ষা মওসুমের আগে এই বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়া হলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করতে পারে বলেই অভিমত অভিজ্ঞ মহলের। জলাবদ্ধতা নিরসনে শীর্ষ জনপ্রতিনিধিরা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করার কারণে তারা ক্রমশই আস্থা হারাচ্ছেন জনসাধারণের। এছাড়া ভাঙাচোরা সড়ক ও যানজটের বিষয়েও কোন ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা। গেল বছরের আগষ্টে নিতাইগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ডটি উচ্ছেদের পর জনসাধারণের মধ্যে যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল চলতি বছরের শুরুতে হকার ইস্যুতে সিটি মেয়র আইভীর সঙ্গে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সংঘর্ষে সেই আশার আলো এখন অমানিশার ঘোর অন্ধকারে। দুই বিপরীত মেরুর সহাবস্থানের রাজনীতি আদৌ হবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বেশীরভাগ লোকজনই। যেকারণে গেল বছরে উভয়পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নগরীর যানজট নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার কথা থাকলেও তা কতদূর এগুবে সেটা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপারেশন তথা জেলার বিভিন্ন উপজেলা গুলোতে বর্ষার আগে ভাঙ্গাচোরা সড়ক মেরামতেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ