১২ বৈশাখ ১৪২৫, বুধবার ২৫ এপ্রিল ২০১৮ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ

Kothareya1150x300

ফতুল্লায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃণমূলে ক্ষোভ


ফতুল্লা করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩০ পিএম, ১৬ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০২:০৪ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৮ রবিবার


ফতুল্লায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃণমূলে ক্ষোভ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান পর্যায়ক্রমে ফতুল্লায় ইউনিয়ন ভিত্তিক মতবিনিময় সভা করে যাচ্ছেন। এ মত বিনিময় সভায় তৃনমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের আহবান করা হয়েছে।

যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের হাতে বন্দী রয়েছে। আর সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ছাড়া অন্য কোন পদের নেতাদের নাম গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে তাদের নিজস্ব বলয়ের লোক ছাড়া অন্য কোন নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছে না তারা। যারা জিন্দাবাদ বলে শ্লোগান দিতে পারবে তারাই হবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের লোক। এ হচ্ছে ফতুল্লা থানা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির হালচাল। তাই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে হলে নতুন কমিটি গঠন করা হলে নতুনরাই যুবলীগ ছাত্রলীগকে নতুন রূপে সাজাতে পারবে। তবে ব্যক্তির হাত থেকে রেহায় পেতে চায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাধারন নেতাকর্মীরা।

এদিকে গত কয়েকদিন শামীম ওসমানের আহবানে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময়ে সভা অনুষ্ঠিত হলেও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে ধরনের ক্ষোভ রয়েছে মন খুলে দলের এমপির কাছে প্রকাশ করতে পারছে না অনেকেই এমন অভিযোগ করছেন। তারা চায় এমপির কাছে তাদের দীর্ঘদিন ক্ষোভ ও হতাশার কথাগুলো তুলে ধরা। কিন্তু দলের প্রতিবাদী নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেয়ার তেমন একটা সুযোগ পাচ্ছে না। যার কারণে তাদের হতাশা ও ক্ষোভ দূর হচ্ছে না। আর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির শুধু মাত্র ব্যক্তির হাতে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তারা তাদের মনগড়া ভাবে রাজনীতি করছে এবং দলের পদ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারও করছে। তারা পদ ব্যবহার করে নিজেরা নিজেদের সুবিধা গ্রহন করলেও দল লাভবান হচ্ছে না। যার কারণে নতুনদের হাতে নেতৃত্ব দিলে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন এ দুটি অঙ্গসংগঠনের রাজনীতি শক্তিশালী হবে বলে সাধারন নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা থানা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়েছিল গত একযুগ হয়। কমিটিতে যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী, সাধারন সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম। আর ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক, সাধারন সম্পাদক এমএ মান্নান। এ দুটি অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদের মধ্যে কোন ধরনের ঐক্য নাই। তারা তাদের বলয়ে রাজনীতি করে এবং দলের পদ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছে। এমনকি তারা তাদের নিজস্ব বলয় তৈরি করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে ‘নিজস্ব লীগ’ হিসাবে গড়ে তুলেছেন। যার কারণে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ভাল লোকদের দেখা যাচ্ছে না। বেশির ভাগই লোক দেখা যায় তারা ওমুক ভাইয়ের লোক আবার তমুক ভাইয়ের লোক। আর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ছাড়া অন্য কোন পদের নেতাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সভা সমাবেশে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককেই মঞ্চের সারিতে দেখা যায়। মাইকে আর কারো নাম বলতে শোনা যায় না। তাহলে কি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছিল এমন অভিযোগ অনেকের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের এক নেতা জানান, ১৩ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে ফতুল্লার পাইলট স্কুলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের উদ্দেগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। আর যুবলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ছাড়া আর মাইকে কোন পদের নেতার নাম বলতে শোনা যায়নি। আর এমপির মুখ থেকে এ চারজন নেতার নাম শোনা যায়। তাহলে চারজন দিয়েই কি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির কার্যক্রম চলে। যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল নিজস্ব বলয় তৈরি করে রেখেছে। সেই লোকজন শুধু সোহেল ভাই বলে শ্লোগান দিয়ে থাকে। আর সাধারন সম্পাদক ফাইজুল ইসলামও নিজস্ব বলয় তৈরি করে রেখেছেন। যারা মীর সোহেল ও ফাইজুল ভাইয়ের নাম নিয়ে শ্লোগান না দিবে তারা যুবলীগের লোক হতে পারবে না। এমন প্রচলনে চলছে যুবলীগের রাজনীতি। থানা যুবলীগের সভাপতি এখন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। উনি এখনো যুবলীগের ছেলেদের নিয়ে ফতুল্লার রাজনীতি করছেন। তাই এখনই ফতুল্লার যুবলীগের রাজনীতিতে পরিবর্তন হওয়া দরকার।

আর ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের রাজনীতির বিষয়টি ভিন্ন ভাবে চলছে। ছাত্রলীগের সভাপতি চাইছে নতুন কমিটি গঠিত হলে তারা সেই কমিটির হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবে। ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক যুবলীগের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন। ঠিক একই চিন্তা ভাবনা করছেন থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এমএ মান্নানও। যারা বর্তমানে ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করছেন তাদের সন্তানরা কিছুদিন পর ছাত্রলীগের রাজনীতি করবে। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সন্তানরা বড় হয়ে লেখাপড়া করছে। স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্রদের বাবা যদি এখনো ছাত্র রাজনীতি করে তাহলে ছাত্র রাজনীতি কতটা সুফল পাবে। তাই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নতুনদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করা দরকার। কিন্তু সামনে নির্বাচন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নতুন করে কমিটি গঠনের চিন্তা না করে দলের নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করতে চাইছেন দলের এমপি শামীম ওসমান। নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করার আগে সব কিছু চিন্তা করা দরকার। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে পারলে শামীম ওসমানের উদ্দেগ সফল হবে বলে সাধারন নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ