১২ বৈশাখ ১৪২৫, বুধবার ২৫ এপ্রিল ২০১৮ , ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

Kothareya1150x300

নির্বাচনের আগে কদর বাড়বে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১০ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৮:১৩ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৮ শনিবার


নির্বাচনের আগে কদর বাড়বে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে ইতিমধ্যে মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছে আওয়ামীলীগের দেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা। ইতিমধ্যে তারা পৃথকভাবে শোডাউন করাসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজেদের জাহির করছেন। আর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি বেড়েছে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের মধ্যেও। ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলার আওয়ামীলীগ দলীয় তিন সংসদ সদস্যের দূরত্বও বেড়েছে। তবে মনোনয়ন ইস্যুতে দূরত্ব যতই বাড়–ক না কেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির কদর বাড়বে বলেই মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কারণ নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির নেতাদের মতামত নিবে কেন্দ্র।

জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল এখনো শুরু না হলেও ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় সক্রিয় রয়েছেন অন্তত দেড় ডজন নেতা। নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য থাকলেও ২টিতে রয়েছেন জাতীয় পার্টি দলীয় সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীয় ৪ জন নির্বাচিত হন। যার মধ্যে দু’টিতে আওয়ামীলীগ ও দু’টি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে নাসিম ওসমান বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। ওই সময় জাতীয় পার্টির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও পরবর্তীতে কেন্দ্রের নির্দেশে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন মোশারফ হোসেন ও শুক্কুর মাহমুদ। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক নির্বাচিত হলেও সেখানে তেমন কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলনা। নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে নাসিম ওসমান নির্বাচিত হওয়ার ৪ মাসের মাথায় ইন্তেকাল করলে শূণ্য আসনে উপ নির্বাচনে জয়ী হন তার ছোট ভাই বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান।

এদিকে নির্বাচনের ক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সক্রিয়তা বাড়ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বর্তমান এমপি ছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মনোনয়ন ও আধিপত্য ইস্যুতে এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে রয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের রূপগঞ্জবাসীর সঙ্গে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বসুন্ধরা ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। ওই মতবিনিময় সভায় রূপগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতারা ছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগেরও অনেক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। যার পরে গুঞ্জন উঠে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রূপগঞ্জ থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু দীর্ঘদিন নির্ভার থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতা ইকবাল পারভেজ। ইতিমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও বিরাজ করেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বর্তমানে বেশী সক্রিয় রয়েছেন সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের সহ যোগী অধ্যাপক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু এবং সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম। তবে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিগত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়ার পরেও শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা মোশারফ হোসেনও মনোনয়ন চাইতে পারেন এমন গুঞ্জন রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে এমপি শামীম ওসমান ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক কল্যাণ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশও বেশ আলোচিত। এছাড়া সম্প্রতি মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় যুক্ত হয়েছেন একসময়ের ডাকসাইটে ছাত্রলীগ নেতা কামাল মৃধা।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সবচেয়ে বেশী। এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন বিগত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়ার পরেও শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল ওরফে ভিপি বাদল, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত।

দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগে দ্বিধাবিভক্তি বাড়লেও ইতিমধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন আওয়ামীলীগ দলীয় তিন এমপি শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু ও গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক। তাদের পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও মাঠ ছাড়তে রাজী নন। তারাও নানান কৌশলে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির কদর বাড়বে। কারণ বিগত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পূর্বেও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদেরকে কেন্দ্রে তলব করা হয়েছিল। আগামী নির্বাচনের পূর্বেও জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির নেতাদেরকে কেন্দ্রে তলব করে তাদের মতামত চাওয়া হবে এমনই মনে করছেন সকলে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ