১২ বৈশাখ ১৪২৫, বুধবার ২৫ এপ্রিল ২০১৮ , ১০:২৫ অপরাহ্ণ

Kothareya1150x300

রক্তাক্ত রূপগঞ্জ : এত খুন এত মামলা


|| সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

প্রকাশিত : ০৮:৪৫ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০২:৪৫ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮ বুধবার


রক্তাক্ত রূপগঞ্জ : এত খুন এত মামলা

আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ৯ বছরে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে দুই হাজার ৭০০-এর বেশি। এই অভিযোগ আর কারও নয়, রূপগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়ার। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভিতরে থেকে দলের ক্ষতি সাধনকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সর্বনাশ হবে আওয়ামী লীগকে দিয়েই। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দুই মেয়াদে ঢাকার পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জে দলীয় নেতা কর্মীরাই হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বেশি। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মামলা হয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে।

এ প্রসঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া বলেন, ‘গত ৯ বছরে রূপগঞ্জে সবচেয়ে বেশি মামলা-হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীরের অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বললেই তাদেরকে মামলায় জড়ানো হয়। এ পর্যন্ত দলীয় নেতা কর্মীদের নামে হত্যা, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ অসংখ্য মামলা করা হয়েছে এমপির নির্দেশে।’

গত ৮ মার্চ রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী সুমন গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনায় স্থানীয় এমপি নিজ দলের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসাতে মামলায় আসামি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী সুমন মিয়া হত্যা মামলার বাদী কাজলরেখা বলেছেন, রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী আওয়ামী লীগে তার প্রতিপক্ষের রাজনীতিবিদদের ঘায়েল করতেই সুমন মিয়া হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। গত ৯ বছরে রূপগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কমপক্ষে ২৫ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত কয়েক বছরে রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলিমুদ্দিন মিঞা, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাবিবুল কাদির তমাল ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাছুম চৌধুরী অপু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন, মুড়াপাড়া কলেজের সাবেক ভিপি মনির হোসেন ও সাবেক ভিপি শাহরিয়ার পান্না সোহেল, তারাব পৌরসভা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি লুত্ফর রহমান মুন্নাসহ প্রায় দুইশ নেতা-কর্মীর নামে হত্যা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরও ৯ মাস সময় বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। লাগাম টানতে হবে ওইসব এমপি-মন্ত্রীদের, যারা বিনাভোটে এমপি হয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের দমন-নিপীড়নেই বেশি মনোযোগী হয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি পুনরায় ঘটনার সম্ভাবনা খুবই কম। এসব এমপি-মন্ত্রীর কারণে দলের চরম দুর্দিনে দলের হাল ধরে থাকা নেতা-কর্মীরা অভিমান করে বা কেউ কেউ হামলা-মামলার শিকার হয়ে দল থেকে দূরে সরে গেছে। তাদেরকে ভোটের আগে দলের সক্রিয় করতে হবে। তা না হলে নির্বাচনে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ