৭ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ৪:০৭ পূর্বাহ্ণ

ভিন্ন বেশে মাদক ব্যবসায়ীরা


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২০ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:০৩ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার


বায়ে ডিবির অভিযানে ফেনসিডিল সহ গ্রেফতারের পর মামুন। মাঝে ১১ এপ্রিল শ্রমিক র‌্যালিতে। সবার শেষে কাউসার আহমেদ পলাশের সঙ্গে।

বায়ে ডিবির অভিযানে ফেনসিডিল সহ গ্রেফতারের পর মামুন। মাঝে ১১ এপ্রিল শ্রমিক র‌্যালিতে। সবার শেষে কাউসার আহমেদ পলাশের সঙ্গে।

নারায়ণগঞ্জে ভিন্নবেশে মাদক বিক্রেতারা আছেন। বিভিন্ন পাড়া মহল্লাতে ভিন্ন ভিন্ন বেশ ধরে তারা মাদক বিক্রি করে যাচ্ছেন। তাদের কাউকে কাউকে আবার দেখা যাচ্ছে সরকার দলীয় লোকজন নানাভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আবার কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে প্রভাবশালীদের মদদ নিতে। ফলে প্রশাসনও অনেক সময়ে এসব বিতর্কিত লোকজনদের ছাড় দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লার সস্তাপুর গাবতলা এলাকার জামাই মতিনের ছেলে মাহবুবুর রহমান মামুন ওরফে মোল্লা মামুন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে উত্থান ঘটে মোল্লা মামুনের। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সারাহ বেগম কবরী ও তার পিএস সেন্টুর হাত ধরে উত্থান ঘটে মামুনের। এমপির প্রভাব খাটিয়ে সে শুরু করে দেয় মাদক ব্যবসা। তবে কবরীর আমলের শেষ সময়ে অর্থাৎ ২০১৩ সালে তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে ট্রাক ভর্তি ৫শ বোতল ফেনসিডিলসহ মোল্লা মামুন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে তৎকালীন জেলা ডিবি’র এসআই মিজানুর রহমান। ওইসময় বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়েছিল। কারণ মোল্লা মামুনের সহযোগীরা ওইসময় ডিবি পুলিশের উপর হামলাও চালিয়েছিল। পরে দীর্ঘদিন জেল খেটে বেরিয়ে আসে মামুন। এরপর কবরীর আমল শেষ হলে সে শেল্টার নেয় শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহাম্মেদ পলাশের।

সস্তাপুর এলাকাবাসী জানান, মোল্লা মামুন আলীগঞ্জের শ্রমিকলীগ নেতা পলাশের ছত্রছায়ায় থেকে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। মোল্লা মামুন সস্তাপুর, কুত্আুইল, কোতালেরবাগ, লামাপাড়া, রামারবাগ, নয়ামাটি, ইসদাইর, মাসদাইর, তল্লা, খানপুর, হাজীগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা করছে। তাদের মাদকের ছোবলে প্রতিটি এলাকার উঠতি বয়সের ছেলে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ছেলে মেয়েরা ইয়াবা ও ফেনসিডিলে আশক্ত হয়েছে পড়েছে। সস্তাপুর কুতুবআইলে মোল্লা মামুনের অন্তত ২০ থেকে ২৫জনের একটি বাহিনী রয়েছে। যারা প্রত্যেকেই মোল্লা মামুনের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসায় উৎসাহীত হয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে।

তবে গত বছরের ১১ জানুয়ারী সে পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়। ফতুল্লা মডেল থানার এসআই কামরুল হাসান তাকে গ্রেফতার করে মোবাইল কোর্টে হাজির করে। এরপর ভ্রাম্যমান আদালতে দোষ স্বীকারের পর মোল্লা মামুনকে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেয়।

মোল্লা মামুনের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পলাশের সঙ্গে ঘুরছে আর মোবাইলে সেলফি তুলছে। একটি সেলফি মোল্লা মামুন ফেসবুকে পোস্টও করেছে। এছাড়া গত মার্চ মাসে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার সময় নৌপরিবহন মন্ত্রী ও কাউসার আহাম্মেদ পলাশের ঠিক পেছনেই দাড়ানো ছিল মামুন।

এদিকে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে গেল বছরের মার্চ মাসে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। যাকে বিগত দিনে কাউসার আহাম্মেদ পলাশের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। জসিম উদ্দিনের সাথে মাদক ব্যবসায়ী আলী মাষ্টার, মুরগী কামাল, ট্রাক জাকিরের সাথে গোপন বৈঠকের ২৯ মিনিট ২০ সেকেন্ডের অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর আগেও জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন ইউপি চেয়ারম্যানও।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ