৭ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

বিড়াল দিয়ে বাঘ ঠেকানোর চেষ্টা!


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৪ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার


বিড়াল দিয়ে বাঘ ঠেকানোর চেষ্টা!

নাক ঢেকে ঘুমালেও পাড়েন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে একমাত্র শামীম ওসমানের আসনেই আওয়ামীলীগের বিকল্প কোন শক্ত প্রার্থী নেই। এছাড়াও এখানকার আওয়ামীলীগের প্রায় ৯৯ ভাগ নেতাকর্মী শামীম ওসমানের পক্ষে শ্লোগান তুলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে গঠিন নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে ১৯৯৬ সালেও প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শামীম ওসমান। বর্তমান সেই আসনেই এমপি হিসেবে রয়েছেন শামীম ওসমান। যদিও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাবি এ আসনে বিড়াল দিয়ে বাঘ ঠেকানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে শামীম ওসমান বিরোধী একটি পক্ষ। যদিও শামীম ওসমানের বিকল্প হিসেবে এমন বিড়াল টাইপের প্রার্থী শামীম ওসমানের জনপ্রিয়তার গর্জনের সামনে ধোপেই টিকবে না বলেও কর্মীদের দাবি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যান্য সংসদীয় আসনের মতই শুরু হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি নেতাদের আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি। এখানে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিদের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন স্থানীয় এমপি একেএম শামীম ওসমান। যদিও এ আসনে একজন শ্রমিক নেতা আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। গুঞ্জন রয়েছে মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা একজন শিল্পপতির নামও। কিন্তু এ আসনে যে শামীম ওসমান এমপি।

এ আসনে বেশ জনপ্রিয় বর্তমান আওয়ামীলীগের এমপি একেএম শামীম ওসমান। ইতোমধ্যে ডিএনডির মেগা প্রকল্পের ৫৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তয়ানের পথে। যার অবদান শামীম ওসমানের-দাবি করেছেন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন শামীম ওসমান। ওই সময় তিনি এ আসনে রেকর্ড সংখ্যক ২৬’শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছিলেন। এ আসনটি ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানে সিদ্ধিরগঞ্জকে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক ও ফতুল্লা থানা এলাকাকে বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে দাবি করেছেন উভয় দলের নেতাকর্মীরা।

যদিও ফতুল্লা থানা এলাকাটি বিএনপির ভোট ব্যাংক হলেও এখানকার থানা বিএনপির সেক্রেটারি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও সিনিয়র সহ-সভাপতি বৃহৎ কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু কাজ করছেন শামীম ওসমানের পক্ষে। আজাদ বিশ্বাস একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রয়েছেন এবং সেন্টু থানা বিএনপির আগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদেও ছিলেন।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় ডিএনপি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আজাদ বিশ্বাস ও মনিরুল আলম সেন্টু। বিএনপির এ দু নেতা শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। আজাদ বিশ্বাস বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার নেতা শামীম ওসমান। আমি বিএনপি নেতা হয়ে শামীম ওসমানকে স্যালুট জানাই।’ যদিও এর আগে অপর একটি অনুষ্ঠানে আজাদ বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘শামীম ওসমানের মত সাংগঠনিক নেতা নারায়ণগঞ্জে আর কেউ নাই।’ সেন্টু ওই অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘শামীম ওসমান ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।’ এর আগে আরেকটি অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা সেন্টু বলেছিলেন, ‘শামীম ওসমান উন্নয়ন করে জনগনের পীর হয়ে গেছেন। তাকে আবারো জনগন নির্বাচিত করবেন।’

এর আগে একই বিষয়ে ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জে সমাবেশে এমপি শামীম ওসমানের হাত ধরে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মতিন প্রধান। ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারি সহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো রয়েছে শামীম ওসমানের পক্ষে। ফলে শুধু আওয়ামীলীগ নয় বিএনপির নেতারাও শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনটিতে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন একেএম শামীম ওসমান। এর আগে যখন শুধুমাত্র ফতুল্লা এলাকাটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ছিল তখন এ আসনের এমপি ছিলেন চলচিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। শামীম ওসমান নির্বাচিত হওয়ার পর এ এলাকায় কবরীকে আর দেখা যায়নি।  আওয়ামীলীগ থেকে এ আসনে শক্তিশালী তেমন মনোনয়ন প্রত্যাশি না থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন একজন নেতা।

এ আসনের ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল ও সেক্রেটারি শওকত আলী চেয়ারম্যান থানা আওয়ামীলীগ সহ এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করছেন। একইভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান ও সেক্রেটারি ইয়াসিন মিয়া সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শামীম ওসমানের সঙ্গে রাজনীতি করেন। এখানে বিকল্প কোন মনোনয়ন প্রত্যাশি আওয়ামীলীগের দু চারজন নেতাকর্মী নিয়ে একটি কর্মী সভা করারও সামর্থ দেখাতে পারেননি এখনও। ফলে এখানে একচেটিয়া শামীম ওসমানের অনুসারি আওয়ামীলীগের ৯৯ভাগ নেতাকর্মী। এছাড়াও ফতুল্লা থানা যুবলীগ সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলীও শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে শামীম  ওসমান বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মী সভা করে যাচ্ছেন।

গত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মাসদাইর মজলুম মিলনায়তনে কর্মী সভায় বলেছিলেন, এ নির্বাচনে বাঘে থাবা দিবেনা কিন্তু বিড়ালের খামছিতে ভয় পাইয়েন না। ওই বক্তব্যের পর নারায়ণগঞ্জে একজন আওয়ামীলীগ নেতাকে বাঘ হিসেবে চিনেন আর বাকি অনেককেই বিড়াল হিসেবে নেতাকর্মীরা আখ্যায়িত করেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ