৭ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ

এককভাবে নির্বাচনে প্রার্থীতা সংকটে জাপা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:৪৩ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৮:১০ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


এককভাবে নির্বাচনে প্রার্থীতা সংকটে জাপা

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই প্রয়োজনে জাতীয় পার্টির লাঙলের প্রার্থী দেয়া হতে পারে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। সে ঘোষণা ছিল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সামনে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে দুটি আসনেই রয়েছে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য। সেলিম ওসমান ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাওঁ) আসনে রয়েছেন কেন্দ্রীয় জাতীয়পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার মত যোগ্যতা রাখে জাতীয়পার্টি। এর মধ্যে সেলিম ওসমান শিক্ষাখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এককভাবে নির্বাচনে সেলিম ওসমান অংশগ্রহন করলেও লড়াই করতে পারবে জাতীয়পার্টি। জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ। ওইদিন ফতুল্লায় এমপি সেলিম ওসমানের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এক মতবিনিময় সভাও করেছিলেন এরশাদ। যেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয়পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয়পার্টির দুজন এমপি সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা। এরশাদ ছাড়াও ওই অনুষ্ঠানে জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয়পার্টির এমপিদের অনেকেই এসেছিলেন।

তবে গত বছরের ৩১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এসে এরশাদ  নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয়পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন আলমগীর সিকদার লোটনকে। এছাড়াও সোনারগাঁও আসনে রয়েছে এরশাদের পালিতা কন্যা হিসেবে পরিচিত অনন্যা হুসাইন মৌসুমী। মৌসুমী সোনারগাঁও উপজেলা জাতীয়পার্টির আহ্বায়ক সহ কেন্দ্রীয় জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছেন। আলমগীর সিকদার লোটন ও মৌসুমী ছাড়া এরশাদের ওই মতবিনিময় সভায় জেলা ও মহানগর জাতীয়পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের সকল নেতারাই উপস্থিত ছিলেন।

এককভাবে নির্বাচনে সেলিম ওসমান অংশগ্রহন করলেও লড়াই করতে পারবে জাতীয়পার্টি। জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু বাকি ৪টি আসনে জাতীয়পাার্টি এককভাবে নির্বাচন করার মত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি জাতীয়পার্টি। সোনারগাঁয়ে জাতীয়পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি হিসেবে থাকলেও জাতীয়পার্টির বলয় তৈরি করতে পারেননি। তার সঙ্গে রয়েছেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। এ আসনে জাতীয়পার্টির কোন কার্যক্রমই নেই। গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বছর খানিক পূর্বে জাতীয়পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে দেখা গিয়েছিল সালাউদ্দীন খোকা মোল্লাকে। আবারো খোকা মোল্লা এলাকায় পোস্টার সাটিয়ে নির্বাচনের জানান দিয়েছেন। কিন্তু তিনি জাতীয়পার্টির রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ছিলেন না এবং নেইও। এ আসনে বর্তমানে এমপি হিসেবে রয়েছেন একেএম শামীম ওসমান। বিএনপির জোরালো মনোনয়ন প্রত্যাশিদের তালিকায় এ আসনের সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীন ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। এসব প্রার্থীদের সামনেই ধুপেই টিকবেনা জাতীয়পার্টির খোকা মোল্লাদের মত প্রার্থী।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে গত নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন জয়নাল আবেদীন মোল্লা। তিনি নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির শিকার হন। নির্বাচনের তার তার চেহারাও রূপগঞ্জে দেখা যায়নি। এ আসনে আওয়ামীলীগের এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর। আরও রয়েছেন বাঘা বাঘা মনোনযন প্রত্যাশি। সঙ্গে বিএনপির বেশকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। এখানেও জাতীয়পার্টি নড়বড়ে অবস্থা।

তবে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আলমগীর সিকদার লোটনকে জাতীয়পার্টির প্রার্থী ঘোষণা দিলেও এখানেও রয়েছেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির শক্তিশালী জনপ্রিয় প্রার্থী। এদের সঙ্গে কিছুটা লড়াই করতে পারবেন লোটন। এমন সব জনপ্রিয়তা নিয়ে এককভাবে লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে নারায়ণগঞ্জে জাতীয়পার্টির কেউ জয়ী হওয়াটা কঠিনই বটে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ