৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

UMo

আড়াইহাজারে এক যুগ ধরে বিএনপি কার্যালয়ে তালা


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৬ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


আড়াইহাজারে এক যুগ ধরে বিএনপি কার্যালয়ে তালা

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় বিএনপির কার্যালয় ১২ বছর ধরে তালাবদ্ধ। এক এগারো থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখানে কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। এখানে বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর তার নিজ জায়গায় একটি কার্যালয় করেছেন যেটাকে তিনি দাবি করেন বিএনপির কার্যালয়।

অপরদিকে তার আরেক ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এএম বদরুজ্জামান খান খসরুর জায়গায় আরেকটি কার্যালয় করেছেন, যেটাকে তিনি দাবি করেন এটা বিএনপির কার্যালয়। কিন্তু এ দুটি কার্যালয় এখন পাবলিক টয়লেটে পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ অবস্থায় বিএনপির দুটি বলয়ের দুটি কার্যালয় তালাবদ্ধ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রধান শহরে দুবাই মার্কেটের পাশেই একটি কার্যালয়। যেটি বিএনপি নেতা খসরুর মালিকাধীন জমিতে তোলা। টিনসেড এ কার্যালয়টির উপরে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, আড়াইহাজার শাখা। কার্যালয়ের সামনে বারান্দা। বারান্দার শেষ প্রান্তে পাবলিকদের মলমূত্র ত্যাগের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশ দিয়ে কিছুটা খোলা, যেখান দিয়ে যাতায়াত করে মানুষ কার্যালয়টিকে মানুষ পাবলিক টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করছেন। কার্যালয়ের সামনে হকারদের মার্কেট বসেছে বারান্দা ঘেঁষে। বুঝার উপায় নেই এটি বিএনপির কার্যালয়। শুধুমাত্র কার্যালয়ের উপরে লেখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, আড়াইহাজার শাখা।

অন্যদিকে সরকারি সফর আলী কলেজের আগেই আরো একটি টিনসেট ঘর। যেটা নির্মাণ করেছেন আতাউর রহমান আঙ্গুর তার নিজ জমিতে। স্থানীয়রা জানায়, নিজের জমিতে তোলা কার্যালয়টিকে তিনি বিএনপির কার্যালয় হিসেবে উদ্বোধন করতে চেয়ার টেবিল আনলেও সেটি উদ্বোধনই করতে পারেননি আঙ্গুর। যেদিন রাতে চেয়ার টেবিল আনা হয়, পরের দিন চেয়ার টেবিল কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। কার্যালয়টি সরকারি দলের লোকজন তালা লাগিয়ে দেয়। এ কার্যালয়ের সামনে রাখা রয়েছে ইট-বালি ও ইটের শুরকি। দক্ষিণ পাশে জরাজীর্ণ অবস্থা যেখানে সাধারণ মানুষের মলমূত্র ত্যাগের স্থান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান আবদু বলেন, আসলে এখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান খান খসরু তার নিজের জায়গায় একটা কার্যালয় করেছিলেন। শুনেছি- সেটা বিক্রি করে দিয়েছেন। আরেকটা কার্যালয় করেছিলেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর তার জায়গায়। এখন তারা দুই ভাই আগে থেকেই দুটি বলয়ে রাজনীতি করতো। তারা দুই ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতি করে। আমি নিজে সাতটি মামলার আসামি। দেশের কোথাও আমার জানা নেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামলার আসামি হয়নি। কিন্তু আড়াইহাজারের সভাপতি মামলার আসামি হননি। সুতরাং এতেই প্রমাণিত হয় এখানে তারা আঁতাত করে রাজনীতি করেন। যে কারণে তারা বিএনপি কার্যালয় খোলার চেষ্টাও করেননি।

লুৎফর রহমান আবদু আরও বলেন, এখন দুই ভাইয়ের জায়গায় দুটি কার্যালয় করেছেন কার্যালয়ের চাবি তো আমাদের কাছে নাই। আগে খসরু সাহেব যে কার্যালয়টি করেছিলেন, সেখানেই বিএনপির নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালন করতো। আর আঙ্গুর সাহেব তার কার্যালয়টি অনেকটা ব্যক্তি মালিকাধীন জায়গায় ব্যক্তিগত কারণেই করেন। আর আমরা কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের নেতৃত্বে রাজনীতি করি। মূলত আজাদের লোকজনদের বিরুদ্ধে ৮টা ১০টা করে মামলা হলো। কিন্তু সাবেক এমপি আঙ্গুর ও বিএনপির সভাপতি খসরুর নামে কোন মামলা হয়নি।

বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর বলেন, আমার জায়গার মধ্যেই বিএনপির কার্যালয়। আমার কার্যালয়ের চেয়ার টেবিল সব ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে গেছে। আমরা বসি না- সেটা সত্য নয়। দেখা যায়, আমরা বসলে পরক্ষণেই আওয়ামী লীগের লোকজন এসে চেয়ার টেবিল নিয়ে যায়। আবার বসলে পুলিশ চলে আসে ধরতে। তারপরও আমরা কার্যালয়ে বসি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এএম বদরুজ্জামান খান খসরু বলেন, আমরা কেন বিএনপি কার্যালয়ে কর্মসূচি পালন করতে পারছি না সেটা যদি আওয়ামী লীগকে জিজ্ঞাসা করতেন ভাল হতো। তবে আমরা আমার বাড়িতে বিশাল পরিধি রয়েছে, সেখান থেকে দলের কর্মসূচি পালন করি। আর আমাদের তো কার্যালয়ে ঢুকতেই দেয় না। যেখানে কেন্দ্রীয় বিএনপি কার্যালয়ে কর্মসূচি পালন করতে পারছে না, সেখানে উপজেলায় কি করে কর্মসূচি পালন করব? যে কারণে আমরা কৌশলে বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল করি। আর দলের সভা সমাবেশগুলো আমার বাড়িতেই করি।

রাজপথের সক্রিয় বিএনপির এ নেতা কার্যালয়টি বিক্রির বিষয়ে বলেন, না আমার এটা নিজের জায়গা বিক্রি করব কেন?. বিক্রি করিনি। এখানে আওয়ামী লীগের অবস্থান তো আপনারা জানেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয়। আবার পুলিশ তো গ্রেপ্তার করে। তাই কার্যালয়ে কর্মসূচি পালন করা সহজ হয়নি। আমরা একাধিকবার বিএনপি কার্যালয়ে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেছিলাম। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বাধায় পড়েছিলাম।

সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরের কার্যালয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আঙ্গুরের ব্যক্তিগত কার্যালয় থাকতে পারে কিন্তু সেটা বিএনপি কার্যালয় নয়। সে তো উপজেলা বিএনপির একজন সদস্যও নন। আমার জায়গায় যে কার্যালয়টি করেছি সেটিই বিএনপির কার্যালয় সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ