১০ বৈশাখ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৪ এপ্রিল ২০১৮ , ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

Kothareya1150x300

আলোচিত মাকসুদ হত্যার ৮ বছর


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২২ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৮:০২ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার


আলোচিত মাকসুদ হত্যার ৮ বছর

নারায়ণগঞ্জের এক সময়ের আলোচিত সন্ত্রাসীদের একজন নুরুল আমিন মাকসুদ। ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল গাজীপুর জেলার পূবাইল তালটিয়া এলাকায় একটি ব্রিজের পাশে খালি জায়গা থেকে গুলিবিদ্ধ ও দু’হাত ভাঙা অবস্থায় মাকসুদের লাশ উদ্ধার করা হয়। অজ্ঞাত আততায়ীরা গুলি করে মাকসুদকে হত্যা করে লাশ ওই স্থানে ফেলে রাখে। কিন্তু ৮ বছরেও হত্যার কোন কূলকিনারা হয়নি।

অথচ ওই বছরের ২০ এপ্রিল মাকসুদের স্ব পরিবারে দুবাইতে চলে যাওয়ার কথা ছিল। ওই দিনের জন্য বিমানের টিকেটও ক্রয় করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা যখন ব্যাগ গোছাতে ব্যস্ত ছিল তখনই মাত্র দুই দিন আগে তাদের প্রিয় মানুষটি চলে যায় পরপারে। হত্যাকান্ডের পর নিহতের জানাযা ও কুলখানী অনুষ্ঠানে অনেকেই বক্তব্য দিতে গিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। কেউ বলেছিল, এক প্রভাবশালীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হত্যাকান্ডটি ঘটে থাকতে পারে।

যানাজাস্থলে ওই সময়কার জাতীয় পার্টির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি নাসিম ওসমান (বর্তমানে প্রয়াত) দাবি করেন, ৫-৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত খুনীদের সনাক্ত করা সম্ভব। জানাযা পূর্বক বক্তব্যে নিহতের কিশোর পুত্র সন্তানের কান্ন জড়িত আবেগঘন বক্তব্য আর নিহতের পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে জানাযায় শরীক হওয়া নানা বয়সী নানা শ্রেণির লোকজনের মধ্যে শোকার্ত পরিবেশ বিরাজ করে।

কিন্তু ৮ বছরেও চিহ্নিত করা হয়নি কে বা কারা কী কারণে মাকসুদকে হত্যা করেছে। এর পেছনে রাজনীতিক কোন উদ্দেশ্য নাকি অন্য কোন কারণ ছিল সে প্রশ্নের জবাবও মেলেনি এখনো।

ওই যানাজাতে শামীম ওসমান বলেছিলেন, নুরুল আমিন মাকসুদকে হত্যা করা হয়েছে। এর নেপথ্য ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। মাকসুদের বিরুদ্ধে কোন মামলা কিংবা একটি জিডি পর্যন্ত নেই।

১৮ এপ্রিল মাকসুদের লাশ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন বাদশা বাদি হয়ে গাজিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করা হয়। পরে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করছে। মামলাটি নিয়ে গাজীপুর পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে পরে হস্তান্তর করা হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)।

কে এই মাকসুদ
সূত্র মতে, বিগত বিএনপি চার দলীয় জোট সরকারের আমলে গঠিত বাংলাদেশ তরুণ লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাকসুদ। পরবর্তিতে তিনি এ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তিনি আওয়ামীলীগ কিংবা এর সহযোগি কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনের পর পর নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায় মাকসুদ ও তার পরিবারের লোকজন। প্রথম দিকে সে তার দেশের বাড়ী বরিশালে চলে যায়। পরে সেখান হতে ভারত এবং সর্বশেষ দুবাইতে। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ভারত ও দুবাইতে পালিয়ে ছিলেন মাকসুদ। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এক মাস অগে মাকসুদ এলাকায় ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকায়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ