১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, শুক্রবার ২৫ মে ২০১৮ , ৫:০৮ অপরাহ্ণ

মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৩ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:৩৯ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার


মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি

নারায়ণগঞ্জে এখন মুখোমুখি অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। এ দুই দলের নেতারা এখন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন। আর এতে করে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। আর জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানও ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারীকে আক্রমন করেছেন। এসব নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ বিশেষ করে মহাজোটের ভেতরে চলছে অস্থিরতা।

জানা গেছে, ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের ফতুল্লার দাপাস্থ গার্মেন্ট কারখানাতে এসেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। সেদিন এরশাদের সামনে সেলিম ওসমান ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই লাঙলের জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেওয়া হবে।

সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসুক বা না আসুক আমরা প্রস্তুত আছি। আমার শাসনামলে আমরা কোন অন্যায় কাজ করি নাই। আমাদের গায়ে রক্তের দাগ নাই। সেলিম ওসমানের মত ব্যক্তিদের মনোনীত করতে পারলে জয় আমাদের নিশ্চিত। আমি সারা জীবন মানষের জন্য কাজ করতে চাই, মানুষের সেবা করে ভালোবাসা পেতে চাই।

ওই অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় ৩১ মার্চের পর ১৭ এপ্রিল ছিল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বড় ধরনের কর্মসূচী। আর সেখানেই এরশাদ ও স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাদের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন নেতারা।

এতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দলের মধ্যে বেটে ইঁদুর যাতে ঢুকতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা মুখে বলি নৌকা কিন্তু কাজে দেখাই লাঙল। মনে রাখতে হবে, বাইট্টা ইন্দুর কিন্তু ঘরের বান কাটে। তাদের থেকে সাবধান। তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিস্কার করতে হবে। আমরা এই আসনে অনেক বছর ধরে নৌকায় ভোট দিতে পারিনা। তবে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছি। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পারছিনা। আমরা নারায়ণগঞ্জে-৫ টি আসনে নৌকা চাই। আর এই ৫ টি আসনে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে নৌকার বিজয় শেখ হাসিনাকে উপহার দিবো।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘ছাড় দিবেন অন্য জেলায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি আসনে নৌকা দিতে হবে। লাঙ্গলের প্রার্থী হওয়ায় এসব আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা অবহেলিত। তাদের দুঃখ কষ্ট শোনার কেউ নেই। তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা প্রার্থী দিতে হবে। জাতীয় পার্টিকে স্থান দেওয়া যাবে না।’

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলও নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দাবি করে বলেন, ‘কোন গার্মেন্টে বসে আর কাউকে লাঙলের প্রার্থী দেওয়া যাবে না। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দিতে হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কোন গার্মেন্টে বসে এরশাদ সাহেব আর এমপিরা ৫টি আসনে লাঙলের প্রার্থী ঘোষণা দিবেন আর সেটা কার্যকর হবে ভাবলে ভুল হবে। কোন লাঙলের স্থান হবে না।

পরে তাঁদের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেলিম ওসমান বলেন, উনারা দু’জন উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা জানেন না। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ছিলেন মরহুম শামসুজ্জোহার শিষ্য। আর আমি মরহুম শামসুজ্জোহার ছেলে এবং খান সাহেব ওসমান আলীর নাতি। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা উনারা (আব্দুল হাই ও বাদল) জানেনই না। উনারা শুধু মাইক হাতে পেলে অন্যের গীবত গাইতে শুরু করেন। আমার বড় ভাই আব্দুল হাই যদি উন্নয়ন করতে জানতেন তাহলে জেলা পরিষদের প্রশাসকের থাকাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য বিশাল অংকের সরকারী টাকা বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে এফডিআর করে রাখতেন না। জনগনের সেই টাকা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ব্যয় করতেন। সেটা না করে ব্যাংকে টাকা এফডিআর করে রেখে তিনি নারায়ণগঞ্জের জনগনকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেছেন। আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে মার্কা নৌকা না লাঙ্গল সেটা বড় কথা নয়। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটাই বড় কথা। আব্দুল হাই ভাইয়ের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আমি বলবো ‘এই দোষ না সেই দোষ চিৎ হয়ে শুলেও দোষ’।

অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল এর করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে সেলিম ওসমান শহীদ বাদলকে স্নেহের বাদল উল্লেখ করে বলেন, আমার দাদা খান সাহেব ওসমান আলী প্রায়শই একটি কথা বলতেন। আমার দাদার সেই কথাটিই বলছি ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি’।

২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমার উপনির্বাচনের সময় বাদল অনেক পরিশ্রম করেছিল। তিনিও দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে থেকে তাঁর কাছ থেকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে পারেনি। তিনি দলে বিভেদ সৃষ্টি করার রাজনীতি শিখেছেন। আমি মনে করি বাদলকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে হলে আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কলেজের তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া দরকার। যে প্রতিষ্ঠানটিতে উনি দীর্ঘ সময় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উনি সরকারী তোলারাম কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে আমার ছোট ভাই শামীম ওসমানের থেকেও ভিপি বাদলের যাতায়াত বেশি ছিল। উইজডমে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম করা যাবে না সংবিধানে এমন কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির কোন দলীয় কার্যালয় নাই। তাই উইজডম অ্যাটায়ার্স সবার জন্য উন্মুক্ত। আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়েও শহরে কোথাও জমি দখল করে জাতীয় পার্টির কার্যালয় বানাই নাই। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জন্মস্থান। আমার পৈত্রিক নিবাস বাইতুল আমানে আওয়ামীলীগের জন্ম। আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের রক্তে প্রবাহিত। যে কারণে আমি নিজেও বলেছি নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই। তারপরেও আমি তাদের দলীয় কোন্দল থামতে দেখি নাই। নিজেরা একে অপরের গীবত নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই মার্কাটা বড় কথা নাকি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটা বড় কথা? দীর্ঘ দিন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে শহরে রেলওয়ের জমি দখল করে আওয়ামীলীগ অফিস বানিয়ে পরসমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্তি করার কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। ¯েœহের বাদলের কাছে অনুরোধ রইলো আপনি নারায়ণগঞ্জ কলেজে সভাপতি থাকালীন কলেজের ফান্ডের অবস্থা এবং বর্তামনে কলেজ ফান্ডের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানুন। তাহলে অন্তত উন্নয়ন কাকে বলে বুঝতে পারবেন। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ বুঝবে রূপগঞ্জ আর মতলবীরা কখনোই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের কথা ভাবতে পারেন না। নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করতে হলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে। তাই পরিশেষে বলবো নির্বাচনে মার্কা নৌকা বা লাঙ্গল না ভেবে উন্নয়ন নিয়ে ভাবুন। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষন। সময় হলে উনিই সিদ্ধান্ত দিবেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ